আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড (রাত ১টা)
সীমান্তের ১৪ জেলা দিয়ে আসছে গাঁজা, প্রতিদিন জব্দ ৮ মণ
আজকের খেলা

জেন-জিদের ইউ টার্ন
এবার বালেন্দ্র শাহের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল নেপাল

যে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) আন্দোলনের ওপর ভর করে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, এক বছর পার না হতেই সেই তরুণদেরই তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। বস্তি উচ্ছেদ ও পুলিশের নির্মমতার প্রতিবাদে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে এখন রাজধানী কাঠমাণ্ডুসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে সরকার কঠোর অবস্থানের পথ বেছে নেওয়ায় নেপালজুড়ে পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত ও অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে। গত এপ্রিল থেকে কাঠমাণ্ডুসহ নেপালের নানা প্রান্তে সরকার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই হাজার ৬০০টি বস্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে ঘরছাড়া হন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ, যাদের সাময়িকভাবে নানা আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই দেওয়া হয়। কিন্তু গত ২ জুলাই নেপাল সরকার নির্দেশ দেয়, ৬ জুলাইয়ের মধ্যে সব আশ্রয়কেন্দ্র খালি করতে হবে। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় ৬০টিরও বেশি পরিবার এই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়। এর মধ্যেই গত শুক্রবার কাঠমাণ্ডুর একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার বন্যার পানি ঢুকে পড়লে ১৫০ জনকে নিরাপদে সরাতে কাজ শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। পরদিন শনিবার পরিস্থিতি দেখতে জেন-জিদের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ তাদের ওপর নির্মম লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে এক আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হলে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার কাঠমাণ্ডুর পাসপোর্ট অফিসের সামনে অ্যাপভিত্তিক বাইকচালক গণেশ নেপালিকে এক হাজার রুপি জরিমানা করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। অসংগতিপূর্ণ ও চড়া জরিমানা দিতে না পারার আকুতি জানালেও পুলিশ জোরজবরদস্তি করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ক্ষোভে-হতাশায় নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন গণেশ। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর শুক্রবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো তরুণ সমাজকে রাজপথে নামিয়ে আনে।
গণেশ নেপালির করুণ পরিণতি ও আশ্রয়কেন্দ্রের সংঘর্ষের ঘটনায় নেপালের পার্লামেন্টে বালেন্দ্র শাহের সরকারের চরম সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধী দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ও নেপালি কংগ্রেস। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও রফাদফার বদলে উল্টো দমন-পীড়নের পথ ধরেছে প্রশাসন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আন্দোলন দমন করতে এরই মধ্যে একাধিক সমাজকর্মী, ছাত্রনেতা ও সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে রবিবার ‘যৌথ জাতীয় বস্তিবাসী ফ্রন্ট’-এর ব্যানারে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী রাজপথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের হাতে ‘গরিবের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো’, ‘মানবাধিকার রক্ষা করো’, ‘বেআইনি গ্রেপ্তার চলবে না’ এবং ‘ভূমিহীনদের ঠাঁই দাও’ সংবলিত নানা পোস্টার দেখা যায়। উল্লেখ্য, গত বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সরকারের দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ। তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হলে চলতি বছরের ৫ মার্চ নেপালে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টিতে বিপুল জয় পায় ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহের নতুন রাজনৈতিক দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি)। তরুণদের বিপুল সমর্থন নিয়ে দেশের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বসেন পেশায় প্রকৌশলী ও র্যাপার বালেন্দ্র। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তাঁর নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক দমননীতির কারণে সেই জেন-জি তরুণরাই আজ তাঁর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য কপিল শ্রেষ্ঠ বলেন, সাম্প্রতিক এসব গ্রেপ্তারকে মূলত সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছে, সরকারের সমালোচনা করলে কেউই নিরাপদ নন। সরকারের অন্য মন্ত্রীদের সমালোচনা করার অপরাধেও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ৭ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশা মেহতার বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করার অভিযোগে নাবেশ অধিকারী নামের এক তরুণ স্বাস্থ্যকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অল নেপাল ন্যাশনাল ফ্রি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সভাপতি দীপক ধামি বলেন, সাধারণ মানুষের অবস্থা বুঝতে যাওয়া আন্দোলনকারী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা যেভাবে বলপ্রয়োগের মুখোমুখি হচ্ছেন, তা দুর্ভাগ্যজনক। অন্যদিকে নেপাল পুলিশের মুখপাত্র তথা ডিআইজি আবি নারায়ণ কাফেল বলেন, যারা পুলিশের কাজে বাধা দেয়, দাঙ্গা উসকে দেয় কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, কেবল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’ সূত্র : কাঠমাণ্ডু পোস্ট, এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টাইমস
সিলেটের এমসি কলেজ
দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ৩ জনের যাবজ্জীবন

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের আলোচিত মামলার রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ও বাকি চারজনকে খালাস দেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম ও অর্জুন লস্কর। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান। দণ্ড ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী।
সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম ও অর্জুন লস্করকে ৯-এর ৩ ধারায় যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ৩০ ধারায় এই কার্যে সহযোগিতার অভিযোগে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিরা সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আমরা ধর্ষণকারী না ভাই, আমরা ধর্ষণ করিনি। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে আমাদের মামলার আসামি করা হয়েছে। ভিকটিমও আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেট কারে শাহপরান বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের কাছে গাড়ি থামিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানে যান ভুক্তভোগী তরুণীর (২০) স্বামী। এই সময়ে পাঁচ-ছয়জন তরুণ এসে তাঁদের জিম্মি করে প্রাইভেট কারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ছাত্রাবাসের ভেতরে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকা-পয়সা ও প্রাইভেট কার রেখে দিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেন ধর্ষকরা। ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে এসে তরুণীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় প্রথমে ছাত্রাবাসে প্রবেশে গড়িমসি করে পুলিশ। এই সুযোগে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যান ধর্ষকরা। এরপর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তাঁরা সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। অভিযুক্ত আটজনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই চারজনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
চট্টগ্রাম
চাঁদা না দিলে হুমকি হামলা, সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া

প্রথমে ফোনে চাঁদা দাবি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না পেলে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে গুলিতে হত্যার ঘটনাও ঘটছে। এসব অপরাধের নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের (বড় সাজ্জাদ) অনুসারীরা। তাঁদের গ্রুপে অন্তত ৪০ জন রয়েছেন। দেশে এসব অপরাধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ রায়হান, মোবারক হোসেন ইমন (ডেভিড ইমন) ও বোরহান উদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় খুন, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছেন। তাঁদের দাপটে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া, চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী এবং জেলার রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারীসহ আরো কয়েকটি এলাকার মানুষ থাকে আতঙ্কে। একের পর এক অপরাধ করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন এসব সন্ত্রাসী।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘খুন বা বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত করার পর রায়হানসহ সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়। এ কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।’ পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের অনুসারী পরিচয়ে ডেভিড ইমন ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুনকে ফোনে হুমকি দেন। ওই হুমকির ছয় মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি অডিও কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। অডিওতে ডেভিড ইমন নিজেকে সাজ্জাদের অনুসারী পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমি ডেভিড ইমন। ১৬-১৭ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। এখন ব্যবসা করতে হলে আমাদের এককালীন দুই কোটি টাকা দিতে হবে। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দিতে হবে। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আমি কে, সেটা জানতে বেশি দূরে যেতে হবে না। আমার নম্বরটা পুলিশ কমিশনারকে দেখাবেন। আমার বিস্তারিত পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকেই জেনে নেবেন।’
এই হুমকির দুই দিনের মাথায় দাবি করা চাঁদা না পেয়ে গত ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোডে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জন সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করে চকবাজার থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, অফিসের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। তাদের বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অফিসে যাঁরা কাজ করতেন, তাঁরা এখন আসতে ভয় পাচ্ছেন। পুলিশও এখন পর্যন্ত কিছুই করতে পারেনি। কয়েক দিন পুলিশ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলেছিল, সেটিও দেখছি না। প্রথমে হুমকি, এরপর অফিসে ভাঙচুর। এর পর থেকে আমরা আতঙ্কে আছি। তারা এর আগেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা নিয়েছে। এ কারণে তাদের দৌরাত্ম্য আরো বেড়ে গেছে।’
এ ছাড়া গত ১৫ জুন চট্টগ্রামের খুলশী থানার ২ নম্বর গেট এলাকায় মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে এককালীন এক লাখ টাকা এবং দৈনিক পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন মো. রাজু, বাদশাসহ কয়েকজন চাঁদাবাজ। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১৮ জুন রাতে মাছ ব্যবসায়ীদের মারধর করা হয়। পরে ১৯ জুন অভিযান চালিয়ে ১১ মামলার আসামি মো. রাজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া যুবদলের জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। এ ঘটনায় মাসুদুলের পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলায় মোহাম্মদ রায়হান, মোহাম্মদ মোবারক, মোহাম্মদ ইলিয়াসসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলার প্রধান আসামি রায়হান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাসুদুল হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি এখন ডিবি তদন্ত করছে। তবে রায়হান, মোবারকসহ কয়েকজনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রায়হানের বাড়ি পাহাড়ি এলাকায়। কোনো অপরাধ সংঘটনের পর সে পাহাড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। এ ছাড়া সে সব ধরনের নেটওয়ার্কের বাইরে থাকে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
এর আগে গত ৮ মে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় হাসান রাজুকে। তাঁর বাড়ি রাউজানে। তিনি বায়েজিদে বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। এ ঘটনার পেছনেও সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান গ্রুপের সদস্যরা জড়িত বলে জানা গেছে। শুধু খুনই নয়, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী ও চান্দগাঁও এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে গেলেও সাজ্জাদের অনুসারীরা চাঁদা দাবি করেন। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুয়াইশ রোডের একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে গিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তাঁরা। দাবি অনুযায়ী টাকা না পেয়ে বাড়িতে গিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি চালান তাঁরা। একই বছরের ২০ আগস্ট হাটহাজারীতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বাড়িতেও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গুলি চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে বিদেশে পালিয়ে যান শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ। সেখান থেকেই তিনি চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। তাঁর হয়ে কিছুদিন কাজ করেছেন ছোট সাজ্জাদ। গত বছরের ১৫ মার্চ ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। এরপর বড় সাজ্জাদের হয়ে কাজ করছেন রায়হান, ইমন, বোরহানসহ কয়েকজন। বাকলিয়ার জোড়া খুন, সরোয়ার, আকবর, মাসুদুল হত্যা মামলাসহ ১৪টি হত্যা মামলায় রায়হানের নাম রয়েছে। সাজ্জাদের আরেক সহযোগী ইমনের বিরুদ্ধে ৯টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন কিলিং মিশন বাস্তবায়ন, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে থাকেন রায়হান ও ইমন।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অপরাধীদের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কোনোভাবেই অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। যারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বাকলিয়ার ঘটনায় অভিযান চলছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারব।’
