গত রাতে সিয়াটল স্টেডিয়ামে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া। খেলার ১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের উদযাপন। ছবি : রয়টার্স
খাদ্য অধিদপ্তরে নিয়োগ
পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ৫০
দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ
আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের উদযাপন

পুরান ঢাকায় ছুরি মেরে ব্যবসায়ীকে হত্যা
৫ জেলায় ৪ খুন, ২ লাশ উদ্ধার

গুলিস্তানে আবাসিক হোটেল থেকে সৌদিপ্রবাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুরান ঢাকায় এক সবজি ব্যবসায়ীকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রাজশাহীতে চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া সাতক্ষীরায় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
ঢাকা : গুলিস্তান এলাকায় একটি আবাসিক হোটেল থেকে গতকাল দুপুরে সৌদিপ্রবাসী এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক তরুণীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
নিহত ব্যক্তির নাম আল আমিন (৪০)। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম ফেরদৌস উদ্দীন।
পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হোটেল রমনা’ আবাসিকের ৯ তলার একটি কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে না অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওই হোটেলে কর্মরত (হোটেল বয়) মো. হানিফ পুলিশকে জানান, সকালে ওই প্রবাসী হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ওই তরুণী।
অন্যদিকে, পূর্ব জুরাইন এলাকায় মো. কুদ্দুস (৩৫) নামের এক ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতাকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে। এলাকাবাসী বলছে, মাদক বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত রাস্তায় মো. কুদ্দুসকে আকস্মিকভাবে ঘিরে ফেলে ছুরি মেরে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাড়িওয়ালা কামাল শিকদার জানান, সপ্তাহখানেক আগে এলাকার কয়েকজন মাদক কারবারির সঙ্গে কুদ্দুসের তর্কবিতর্ক হয়েছিল।
রাজশাহী : চোর সন্দেহে এক যুবককে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের চারু মামার ক্যান্টিনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাজশাহী নার্সিং কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রাকিবুল হাসান রকি (৩২) নগরীর হেতেম খাঁ কারিগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন আতিক, সৈয়ব ও ফাহিম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আসাদুল হক (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সকালে ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভুজা বটতলা গ্রামে। পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে।
স্থানীয়, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধানের জমিতে কাজ করার সময় আসাদুল ও প্রতিবেশী ইলিয়াস পক্ষ দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। পরে এক-দেড় হাজার গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় নিহত পক্ষের অন্তত দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সাতক্ষীরা : কলারোয়া ও আশাশুনি থেকে গতকাল শুক্রবার সকালে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, কলারোয়ার জালালাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি ডোবা থেকে মেহেদী হাসান (৩২) নামের এক মধু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মেহেদী উপজেলার কয়লা ইউনিয়নের কয়লা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।
অন্যদিকে আশাশুনিতে বেউলা গ্রামের পশ্চিম বিলের খাল থেকে আব্দুর রহিম মালি (৬০) নামের মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের শ্বেতপুর গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিন মালির ছেলে।
নান্দাইলে ‘মাদক কারবারি’র বাড়ি ভেঙে পুড়িয়ে দিল জনতা

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের গারুয়া গ্রামে মাদক বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আনন্দ বাজারের পাশে উজ্জ্বল মিয়ার বাড়ি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করা হতো। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন সেখানে মাদক কিনতে আসত। বাড়িটিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডও চলত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন উজ্জ্বল মিয়াকে এ-পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করলেও তাতে কোনো ফল হয়নি বলে দাবি করে তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে গতকাল জুমার নামাজের পর শতাধিক লোকজন উজ্জ্বল মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে বাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনার সময় বাড়ির লোকজন সেখান থেকে চলে যায় বলে স্থানীয়রা জানায়।
বাড়িতে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় উজ্জ্বল মিয়া বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থলের অদূরে বসবাসকারী আমিনুল ইসলাম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, জুমার নামাজের পর বিপুলসংখ্যক লোকজন বাড়িটিতে ভাঙচুর চালায়। পরে কে বা কারা সেখানে আগুন দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ধারণ করেন বলেও জানান।
নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। কোথাও তথ্য পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার পরও কিছু মানুষ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস
৯ বছরেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারেনি কেউ

আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস। প্রতিবছরের এই দিনে শরণার্থী জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার আশায় বুক বাঁধে এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। চোখের সামনে প্রায় ৯টি বছর কেটে গেলেও দেশে ফেরার রঙিন স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল তাদের।
একসময় শিগগিরই স্বদেশে ফেরার কথা বললেও এখন তা আর বলছে না কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। কখনো দেশে ফেরা হবে কি না এ নিয়ে তারাও দ্বিধায় রয়েছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মায়ানমারের রাখাইনে সশস্ত্র বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার আশায় বুক বাঁধলেও গেল আট বছরের বেশি সময় রোহিঙ্গাদের একটি পরিবারও দেশে ফিরতে পারেনি। কয়েক মাস আগে নতুন করে আলোচনায় আসে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য। তিনি বলেছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরা নিশ্চিত হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। রোহিঙ্গা সংকট
সমাধানে গত বছরের শেষদিকে কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিক্ষবিদ ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক ওই সম্মলনের পরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি।
আন্তর্জাতিক ইতিহাস বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আগমন নতুন নয়, স্বাধীনতার আগে ও পরে এ দেশে একাধিকবার রোহিঙ্গারা শরণার্থী হয়ে এসেছে। তখন অনেকে বিদেশেও চলে গেছে। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বড় ঢল নামে। তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে। একসময় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পথ হিসেবে নাফ নদ হয়ে টেকনাফকে বেছে নিলেও এখন উখিয়া ও পার্বত্য এলাকা দিয়ে একাধিক পথ সৃষ্টি হয়েছে। মায়ানমার থেকে আসা অনেক রোহিঙ্গা এ দেশে স্থায়ী হয়েছে। তারা আমাদের পরিবেশ নষ্ট করছে, পাহাড় কাটছে, অপরাধমূলক কাজে জড়াচ্ছে।
উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা যুবনেতা মো. মুসা বলেন, ‘মায়ানমার বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, তারা রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করে ভিটেমাটি কেড়ে নিয়েছে। সেখানে আমরা বড় ধরনের জুলুমের শিকার হয়েছি। নির্যাতনের মুখে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছি। আমরা বারবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দাবি তুলেছিলাম, দ্রুত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি।’
আরেক রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মো. ইউসুফ বলেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আমরা দাবি রেখেছিলাম, রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরে যাওয়ার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগই সফলতার আলো দেখেনি। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ফেরা অনেক কঠিন হয়ে গেছে।
বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারী সখিনা খাতুন জীবদ্দশায় একবার রাখাইনে পা রাখতে চান। তিনি বললেন, ‘বড় মেয়েটার বিয়ে দিয়েছিলাম মায়ানমারে থাকতে। কত ধুমধাম আয়োজন করেছিলাম। আশা ছিল ছোট মেয়েকেও আরো বড় আয়োজনে বিয়ে দেব। অথচ শরণার্থী হয়ে এখানে এসে আমার যে একটা মেয়ে আছে সেটিও প্রকাশ করতে পারছি না।’
