গত রাতে সিয়াটল স্টেডিয়ামে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া। খেলার ১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের উদযাপন। ছবি : রয়টার্স
পুরান ঢাকায় ছুরি মেরে ব্যবসায়ীকে হত্যা
- ৫ জেলায় ৪ খুন, ২ লাশ উদ্ধার
দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ
আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের উদযাপন

খাদ্য অধিদপ্তরে নিয়োগ
পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ৫০

খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২২ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। অন্য ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে নিউমার্কেট থানার পুলিশ।
নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পরীক্ষা চলাকালে অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোনসহ হলে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ৫০ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে গতকাল সকাল ১১টার দিকে ঢাকা কলেজে খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এক পর্যায়ে পরীক্ষা পরিদর্শনে আসা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ৫০ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ২৮ জনকে এবং ঢাকা কলেজের মূল ফটকের বাইরে থেকে ২২ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৪৫ ও ২৫৮ ধারায় অন্তত ১৬ জনকে এক থেকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, পরীক্ষার সময় সন্দেহজনক মনে হওয়া ব্যক্তিদের তল্লাশি করে তাঁদের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে মেসেজ চালাচালির তথ্যও পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরীক্ষার প্রশ্ন স্ক্যান করে বাইরে পাঠানো হয়েছিল এবং সেখান থেকে উত্তর সরবরাহ করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একদলকে কলেজের মূল ফটকের বাইরে এবং আরেক দলকে পরীক্ষার হল থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের পৃথক কক্ষে রেখে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা ম্যাজিস্ট্রেট গ্রহণ করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
নান্দাইলে ‘মাদক কারবারি’র বাড়ি ভেঙে পুড়িয়ে দিল জনতা

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের গারুয়া গ্রামে মাদক বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আনন্দ বাজারের পাশে উজ্জ্বল মিয়ার বাড়ি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করা হতো। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন সেখানে মাদক কিনতে আসত। বাড়িটিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডও চলত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন উজ্জ্বল মিয়াকে এ-পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করলেও তাতে কোনো ফল হয়নি বলে দাবি করে তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে গতকাল জুমার নামাজের পর শতাধিক লোকজন উজ্জ্বল মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে বাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনার সময় বাড়ির লোকজন সেখান থেকে চলে যায় বলে স্থানীয়রা জানায়।
বাড়িতে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় উজ্জ্বল মিয়া বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থলের অদূরে বসবাসকারী আমিনুল ইসলাম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, জুমার নামাজের পর বিপুলসংখ্যক লোকজন বাড়িটিতে ভাঙচুর চালায়। পরে কে বা কারা সেখানে আগুন দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ধারণ করেন বলেও জানান।
নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। কোথাও তথ্য পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার পরও কিছু মানুষ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস
৯ বছরেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারেনি কেউ

আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস। প্রতিবছরের এই দিনে শরণার্থী জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার আশায় বুক বাঁধে এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। চোখের সামনে প্রায় ৯টি বছর কেটে গেলেও দেশে ফেরার রঙিন স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল তাদের।
একসময় শিগগিরই স্বদেশে ফেরার কথা বললেও এখন তা আর বলছে না কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। কখনো দেশে ফেরা হবে কি না এ নিয়ে তারাও দ্বিধায় রয়েছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মায়ানমারের রাখাইনে সশস্ত্র বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার আশায় বুক বাঁধলেও গেল আট বছরের বেশি সময় রোহিঙ্গাদের একটি পরিবারও দেশে ফিরতে পারেনি। কয়েক মাস আগে নতুন করে আলোচনায় আসে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য। তিনি বলেছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরা নিশ্চিত হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। রোহিঙ্গা সংকট
সমাধানে গত বছরের শেষদিকে কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিক্ষবিদ ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক ওই সম্মলনের পরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি।
আন্তর্জাতিক ইতিহাস বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আগমন নতুন নয়, স্বাধীনতার আগে ও পরে এ দেশে একাধিকবার রোহিঙ্গারা শরণার্থী হয়ে এসেছে। তখন অনেকে বিদেশেও চলে গেছে। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বড় ঢল নামে। তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে। একসময় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পথ হিসেবে নাফ নদ হয়ে টেকনাফকে বেছে নিলেও এখন উখিয়া ও পার্বত্য এলাকা দিয়ে একাধিক পথ সৃষ্টি হয়েছে। মায়ানমার থেকে আসা অনেক রোহিঙ্গা এ দেশে স্থায়ী হয়েছে। তারা আমাদের পরিবেশ নষ্ট করছে, পাহাড় কাটছে, অপরাধমূলক কাজে জড়াচ্ছে।
উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা যুবনেতা মো. মুসা বলেন, ‘মায়ানমার বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, তারা রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করে ভিটেমাটি কেড়ে নিয়েছে। সেখানে আমরা বড় ধরনের জুলুমের শিকার হয়েছি। নির্যাতনের মুখে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছি। আমরা বারবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দাবি তুলেছিলাম, দ্রুত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি।’
আরেক রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মো. ইউসুফ বলেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আমরা দাবি রেখেছিলাম, রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরে যাওয়ার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগই সফলতার আলো দেখেনি। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ফেরা অনেক কঠিন হয়ে গেছে।
বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারী সখিনা খাতুন জীবদ্দশায় একবার রাখাইনে পা রাখতে চান। তিনি বললেন, ‘বড় মেয়েটার বিয়ে দিয়েছিলাম মায়ানমারে থাকতে। কত ধুমধাম আয়োজন করেছিলাম। আশা ছিল ছোট মেয়েকেও আরো বড় আয়োজনে বিয়ে দেব। অথচ শরণার্থী হয়ে এখানে এসে আমার যে একটা মেয়ে আছে সেটিও প্রকাশ করতে পারছি না।’
