• ই-পেপার

শিক্ষামন্ত্রী

নতুন শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে আরো ৪ বিষয়

  • এসএসসি ও সমমানের ফল ২০ জুলাই

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক খুন

৯ জেলায় ৭ হত্যা, ৩ লাশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক খুন
বিল্লাল হোসেন

রাজধানীতে ছুরি মেরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। পাবনা শহরে চরমপন্থী সদস্যসহ দুজনকে খুন করা হয়েছে। যশোরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে খুন করে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। বরগুনায় রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর সকালে একটি খাল থেকে ব্যবসায়ীর মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গাইবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধে খুন হয়েছে এক কলেজছাত্র। ময়মনসিংহে ছুরিকাঘাতে এক যুবক এবং খুলনায় গণপিটুনিতে আরেকজন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ঢাকা : মৌচাক এলাকার আনারকলি মার্কেটের সামনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এক নেতাকে ছুরি মেরে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, পূর্ববিরোধসহ আরো কয়েকটি কারণে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম বিল্লাল হোসেন তালুকদার। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক আহ্বায়ক। পরে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।

পাবনা : শহরে দুটি মোটরসাইকেলে এসে আলী হোসেন (৫৩) নামের এক চরমপন্থী সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মাসুম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেলে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন কলেজছাত্র মনিরুল ইসলাম।

যশোর : ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে খুন করে স্বামী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল ভোরে শহরের শেখহাটি তমালতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

বরগুনা : সদর উপজেলার বড় গৌরীচন্না খাল থেকে গতকাল সকালে ব্যবসায়ীর মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি হলেন গৌরীচন্না গ্রামের মোনসের আলী ব্যাপারীর ছেলে শামীম ব্যাপারী (৪০)। তিনি একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী ছিলেন।

গাইবান্ধা : সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামে রবিবার রাতে জমিসংক্রান্ত বিরোধে ছুরিকাঘাতে ফাহমিদ রুমন (১৯) নামের কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই ফারদিন রুহিত (২২) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) : উপজেলা ভূমি অফিসের পেছনে গতকাল বিকেলে হেলাল উদ্দিন নামের এক যুবক ছুরিকাঘাতে মারা গেছেন। তিনি পৌর শহরের কাচারীপাড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে।

খুলনা : পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী বাজারে হাসান মোড়ল (৩৭) নামের এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বাজারের পশুর হাটে রবিবার সন্ধ্যার দিকে ইজারা আদায়কারী আজাহারুল ইসলামের টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেন হাসান। পরে স্থানীয় লোকজন হাসানকে ধরে পিটুনি দেয়। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে রাতে তিনি মারা যান।

সিরাজগঞ্জ : অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক সড়কের চণ্ডীদাসগাতি সেতুর নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রাম : কর্ণফুলী নদীর মাঝিরঘাট এলাকা থেকে গতকাল দুপুরে ৪০-৪৫ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।

নৌ পুলিশের সদঘাট থানার ওসি মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি তিন থেকে চার দিন আগে মারা গেছেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়া উঠে গেছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েও তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

হামের টিকা সংকট ও শিশুমৃত্যু

ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

হামের টিকা যথাসময়ে আমদানি না করে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং দেশব্যাপী মহামারি সৃষ্টি করে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার আবেদন-পরবর্তী শুনানি শেষে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে মামলাটির আবেদন করেন। মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

মামলা খারিজের তথ্য নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন লস্কর বলেন, আজ (গতকাল) আমরা আদালতে ৪২০/৪০৮/৩০৪/৩৪ ধারায় মামলাটি দায়েরের আবেদন করেছিলাম। আদালত ৪০৯ ধারাটি দুদক সম্পর্কিত ধারা বিবেচনায় রেখে তা খারিজ করেছেন। এ সময় আমরা অন্য ধারার অধীনে মামলাটি নিতে আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত বলেছেন, আদেশে বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। আদেশটি হাতে পেলে আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেব যে উচ্চ আদালতে যাব কি না। মামলার আবেদনের শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খানও উপস্থিত ছিলেন। মামলাটি খারিজের পর রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাডিশনাল পিপি শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, মামলাটিতে বাদী যেসব সেকশনে মামলার আবেদন করেছেন তার মধ্যে ৪০৯ সেকশনটি (ধারা) দুদকের আওতাভুক্ত। এ ছাড়া মামলার আবেদনে কোনো নির্দিষ্ট জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়নি। শুনানিতে আদালত মামলাটি আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান না পাওয়ায় তা খারিজ করে দেন।

আবেদনের পর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে মামলার বাদী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, আমার এলাকাসহ সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশু মারা গেছে। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছি। বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলার জন্যই বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই পরিস্থিতি তৈরি করে গেছে।

তিনি বলেন, হামে সারা বাংলাদেশে অনেক শিশু মারা গেছে এবং লাখো শিশু আক্রান্ত হয়েছে। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কাজের অবহেলা এবং ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ইউনিসেফের ভ্যাকসিন আমদানি বন্ধ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গিয়ে ভ্যাকসিন আনা বন্ধ করে দেয়, যার ফলে এই মারণব্যাধি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সারা বিশ্বে যখন কোনো হামের উপসর্গ নেই তখন বাংলাদেশে তাদের অবহেলার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শিশু জন্মের পর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে হাম ও রুবেলার টিকা নিয়মিত ও বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া হয়। তবে ১ নম্বর আসামি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিয়মিত টিকা আমদানির যে প্রচলিত প্রক্রিয়া ছিল, তা বন্ধ করে দেয়। পরে উন্মুক্ত (টেন্ডার) দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দীর্ঘ দেড় বছর সময় ক্ষেপণ করা হয়, যার ফলে দেশে টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়। অভিযোগে আরো বলা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার (মামলার ২ নম্বর সাক্ষী) গত ২০ মে গণমাধ্যমে জানান, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে ১ থেকে ৫ নম্বর আসামির দপ্তরের পাঁচ-ছয়টি চিঠির মাধ্যমে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে আমদানিপ্রক্রিয়া বন্ধ না করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও চরম অবহেলা প্রদর্শন করে সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি।

টিকা না পাওয়ায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং মহামারি আকার ধারণ করে। মামলার আবেদনে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি হিসাবেই গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। টিকার অভাবে সরকারি তথ্য মতেই দেশে প্রায় ৬১০ কোমলমতি শিশুর নির্মম মৃত্যু ঘটেছে এবং প্রায় ৭৫ হাজার ৭০০ শিশু শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অভিযোগে কয়েক শিশুর মৃত্যুর বিবরণ দিয়ে বলা হয়, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের হারুনুর রশিদ ও ইশরাত জাহান দম্পতির দুই সন্তান আবদুল্লাহ আল ফাহিম গত ২ জুন এবং আবদুল্লাহ আল নোমান ২২ মে ঢাকার হাসপাতালে মারা যায়। ২২ এপ্রিল জাফরজান ইসলাম ও হেলাল ভূঁইয়া দম্পতির একমাত্র সন্তান ফাইয়াজ হাসান তাজিম ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে।

বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ভিআইপি ব্যক্তি হওয়ায় স্থানীয় বনানী থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে তা আদালতে করার পরামর্শ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিসহ জেলহাজতে আটক রাখা এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়।

এক দশক পর চীনা ইকোনমিক জোন একনেকে উঠছে আজ

এম আর মাসফি
এক দশক পর চীনা ইকোনমিক জোন একনেকে উঠছে আজ

বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠার সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে নানা জটিলতায় আটকে থাকা চার হাজার ১৮৯ কোটি টাকার প্রকল্পটি সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় আজ অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ঠিক আগে প্রকল্পটি একনেক সভায় উঠছে। ২৩ জুন থেকে শুরু হচ্ছে তাঁর চার দিনের এই চীন সফর।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একনেকে অনুমোদন মিললে শুধু প্রকল্পটির বাস্তবায়নই ত্বরান্বিত হবে না, চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক বার্তা যাবে। বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সংশ্লিষ্ট সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ২৩ জুন চার দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন। এর আগে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়া চুনইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, সম্ভাব্য চুক্তি, বিনিয়োগ সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এই প্রেক্ষাপটে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জিটুজি) ভিত্তিতে গড়ে তোলা হচ্ছে চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় অঞ্চলটির অবস্থানকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, এটি ভবিষ্যতে চীনা বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মধ্যে ২০১৪ সালে এই অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়। ২০১৬ সালে প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ডেভেলপার নির্বাচন, অর্থায়ন কাঠামো এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।

শুরুতে প্রকল্পটির ডেভেলপার হিসেবে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানিকে (সিএইচইসি) বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ায় অগ্রগতি থমকে যায়। পরে ২০২২ সালে চীন সরকারের মনোনয়নে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে দায়িত্ব পায়। বর্তমানে সিআরবিসির সঙ্গে ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে বেজা।

একনেকে উপস্থাপিত সর্বশেষ পুনর্গঠিত ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণের আওতায় পাওয়া যাবে দুই হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা।

প্রকল্পের আওতায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক রোড ও ৩৩০ মিটার সেতু, এক হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ চার লেন সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার সক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, ট্রান্সমিশন লাইন, পানি সংরক্ষণাগার এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাউন্ডারি ওয়াল।

বেজা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ডেভেলপার চুক্তি চূড়ান্ত হলে অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে। সম্প্রতি বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, চীনা পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং প্রকল্পটিকে উভয় দেশই অগ্রাধিকারভুক্ত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছে।

সরকারের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত এক লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে। টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাতে চীনা বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পর অবশেষে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে একনেকে প্রকল্পটির অনুমোদন মিললে তা শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি নয়, বরং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারির নতুন গতি সৃষ্টিরও প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে আনোয়ারার এই চীনা ইকোনমিক জোনকে তাই এখন সরকারের অন্যতম কৌশলগত প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনা ইকোনমিক জোন ছাড়াও একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য আরো ১১টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে। অনুমোদন পেলে মোট ১২টি প্রকল্পে ব্যয় হবে আট হাজার ১০৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন পাঁচ হাজার ৫৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ দুই হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এগুলোর মধ্যে নতুন প্রকল্প ছয়টি, সংশোধিত প্রকল্প চারটি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প দুটি। সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভায় অবহিত করা হবে।

পেপারবুক প্রস্তুত

শুনানির অপেক্ষায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
শুনানির অপেক্ষায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিল

মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন) শুনানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পেপারবুক ছাপার কাজ শেষ। হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখার এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেছেন, সরকারি ছাপাখানা (বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়বিজি প্রেস) থেকে মামলাটির পেপারবুক প্রস্তুত করে শাখায় পাঠানো হয়েছে। এখন সেটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিচারিক আদালত কোনো অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী সেই মৃত্যুদণ্ড কর্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। অনুমোদনের প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ডেথ রেফারেন্স। রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায়সহ মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দণ্ডিত আসামি বা আসামিদের আপিল। ডেথ রেফারেন্স ও আপিল ক্রমানুসারে সাজিয়ে বাঁধাই করে যে বই (ভলিউম) তৈরি করা হয়, সেটিকে পেপারবুক বলে। হাইকোর্ট এই পেপারবুকের ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তি করে থাকেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় হয় গত বছরের ১৭ মে। এরপর ওই বছরের মে মাসের শেষের দিকে মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। আর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দণ্ডিত হিটু শেখ। এরপর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পেপারবুক তৈরির জন্য মামলার যাবতীয় নথি বিজি প্রেসে পাঠায়। ছাপার কাজ শেষে সম্প্রতি তা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়।

ডেথ রেফারেন্স শাখার ওই কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, যাচাই-বাছাই ও আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলা বা পেপারবুকটি শুনানির জন্য পাঠাবেন।

গত বছরের ৬ মার্চ শ্রীপুরে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। ধর্ষণকারী হিটু শেখ শিশুটির বোনের শ্বশুর। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। পরে তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার সাত দিন পর ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যায় শিশুটি। এরপর ১৩ এপ্রিল মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল হিটু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/২ ধারায় (ধর্ষণের ফলে মৃত্যুর অপরাধ), শিশুটির বোনের স্বামী ও ভাশুরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার দ্বিতীয় অংশ (ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং বোনের শাশুড়ির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (অপরাধের আলামত নষ্টের অভিযোগ) অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২৯ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। সব মিলিয়ে ঘটনার দুই মাস ১১ দিনের মাথায় মামলাটির রায় হয়। রায়ে মামলার মূল আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। মামলার বাকি তিন আসামি শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাঁদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়। এর পরই ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি অপেক্ষমাণ থাকার মধ্যে গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে একটি ভবনের ফ্ল্যাটে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় গত রবিবার মামলার রায় দেন বিচারিক আদালত। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। আগামী রবিবার থেকে এই বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু হবে। সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা বলছেন, হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দিয়েই শুরু হতে পারে বিশেষ বেঞ্চের বিচারকাজ।