• ই-পেপার

সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ড. খলিল মন্ত্রী থাকবেন কি না সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

  • মমতার বক্তব্যে মন্তব্য নেই

পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা হলেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত

মমতার দলও গেল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা হলেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা এখন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার রথীন্দ্র বসু গতকাল বুধবার তাঁকে বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে ঋতব্রত জানান, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবেই কার্যক্রম চালাবেন। তাঁরা চাইছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পরামর্শক হিসেবে থাকবেন। পাশাপাশি তিনি এ কথাও জানান, এবারের ১৮তম বিধানসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক) কোনো ভূমিকা থাকবে না। অর্থাৎ তৃণমূল কার্যত ভেঙে গেল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগের পর কার্যত ভেঙে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও তৃণমূল এসব ঘটনার মধ্যেই দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন করে কমিটি করার ঘোষণা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনের ফল ঘোষণার এক মাস না যেতেই এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়ল টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস।

এবার নির্বাচনে এই রাজ্যের ২৯৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসীন হয়। তৃণমূল পায় ৮০টি আসন। সেই ৮০ আসনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়ক গতকাল বিদ্রোহ ঘোষণা করে মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এই ৫৮ বিধায়ক একজোট হয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে আবেদনে জানান, এই রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা হবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে দলের চিফ হুইপ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সাবেক মন্ত্রী আখতারুজ্জামানকে। চার উপনেতার মধ্যে রয়েছেন জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দীপন ও শিউলি সাহা।

কংগ্রেসের সঙ্গে বিদ্রোহ করে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি আলাদাভাবে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে রাজ্যের শাসনক্ষমতায় থাকা বাম ফ্রন্টকে হারিয়ে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটায়। এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে জয়ী হয়।

তৃণমূলের সব কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবার ভয়াবহ সংকটে পড়েছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে দলের মূল কমিটিসহ সহযোগী সংগঠনের সব কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসসহ এর সব সহযোগী সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করা হলো।

দলটির ভেতর প্রকাশ্য বিদ্রোহের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত আসে। এর আগে বুধবারই তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত অন্তত ৫৮ জন বিধায়ক (এমএলএ) দলের অফিশিয়াল সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন।

অথচ দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত সোমবারই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরেক নতুন বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। সূত্র : টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

পুশ ইন ঠেকাতে সতর্ক বিজিবি

বিএসএফের গুলিতে সাতক্ষীরা সীমান্তে দুই বাংলাদেশি আহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
বিএসএফের গুলিতে সাতক্ষীরা সীমান্তে দুই বাংলাদেশি আহত

ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢোকার পথে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। আহত দুই বাংলাদেশিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য পুশ ইন ঠেকাতে বাংলাদেশ সীমান্তে বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :

সাতক্ষীরা ও কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান, ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢোকার পথে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। বুধবার ভোর ৩টায় সাতক্ষীরা সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার শীতলপুরের মো. গোলাম রাব্বানীর ছেলে মো. মহিউদ্দীন গাজী (৪২) এবং মৃত ফজর আলী সরদারের ছেলে মো. শাহীন (২৮)। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের গুলিতে দুজন আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হলেও হলেও কোন সীমান্ত এলাকায় ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত করা হয়নি। আহত মহিউদ্দীন গাজীর ছোট ভাই ইসরাত গাজী জানান, চার মাস আগে মহিউদ্দীন এবং এক বছর আগে শাহীন ভারতের তামিলনাড়ুতে যান। তাঁরা রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। কয়েক দিন আগে তাঁরা ফোনে জানিয়েছিলেন, দালালের মাধ্যমে তাঁরা দেশে ফিরবেন। বুধবার ভোরে একটি মাইক্রোবাসে তাঁদের নলতা হাসপাতাল এলাকায় রেখে যান অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা। খবর পেয়ে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত শাহীন জানান, তাঁরা দালালের মাধ্যমে ভারত থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। দালালরা তাঁদের সীমান্তের পাটবাগানে নামিয়ে দিয়েছিল। এরপর তাঁরা গুলিবিদ্ধ হন। তাঁরা ধারণা করছেন, কালীগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুজায়েত হোসেন জানান, মহিউদ্দীনের ডান হাতে এবং শাহীনের পিঠে গুলি লেগেছে।

সাতক্ষীরা নীলডুমুর-১৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রাজীব শাহারিয়ার ও সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান চৌধুরী বিএসএফের গুলিতে দুজনের জখম হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কালীগঞ্জ থানার ওসি জুয়েল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আহতরা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন এবং একইভাবে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিএসএফ তাঁদের গুলি করে।

শূন্যরেখা থেকে ১০ জনকে সরিয়ে নিল বিএসএফ : যশোর অফিস ও বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সাদিপুর সীমান্তে কয়েক দিন ধরে আলোচিত পুশ ইন চেষ্টার ঘটনার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। দুই দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করা নারী, পুরুষ, শিশুসহ ১০ জনকে বুধবার ভোররাতে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। বুধবার সকালে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে সীমান্ত এলাকায় তাদের আর কোনো উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারেনি বিজিবি। সীমান্ত সূত্র জানায়, গত রবিবার গভীর রাতে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্ত এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে দেড় শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়। পরে রাতের আঁধারে সীমান্তের কিছু অংশের আলো নিভিয়ে নারী, পুরুষ, শিশুসহ আনুমানিক ১৫ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। তবে যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের টহলরত সদস্যরা তাদের সীমান্ত অতিক্রম করতে বাধা দেন। ফলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। এর পর থেকে কয়েক দিন ধরে ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের ভারতীয় অংশে মানবেতর অবস্থায় থাকতে দেখা যায়। অবশেষে বুধবার ভোররাতে বিএসএফ তাদের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নেয় বলে জানা গেছে।

পাঁচবিবি সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে সতর্ক বিজিবি : জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ঘোনাপাড়া সীমান্তে ৮-১০ দিন আগে বাঁশের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। সে সময় কড়াভাবে বিজিবি বাধা দেওয়ার পর থেকে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়। তবে বিএসএফ ঘোনাপাড়া সীমান্তের ২৮১ নম্বর পিলারের ৪৭ ও ৪৮ নম্বর সাব-পিলারের কাছে শূন্যরেখা ঘেঁষে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করেছেএমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও সরেজমিনে এর কোনো সত্যতা মেলেনি। হাটখোলা বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার আনিস আহমেদ বলেন, পুশ ইন ও মাদকসহ অবৈধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে প্রতিটি বিওপিতে বিজিবি সদস্য দ্বিগুণ করা হয়েছে। টহল জোরদার করার পর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর অতিরিক্ত মোতায়েন অনেকটা শিথিল করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তে বিজিবির নিয়মিত টহল ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, রবিবার রাত থেকে সাদিপুর সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। আমাদের সদস্যরা পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিয়মিত টহল অব্যাহত আছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, সীমান্তের ভারতীয় অংশে এখনো শতাধিক মানুষ অবস্থান করছে। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাসকারী এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন করে পুশ ইনের চেষ্টা হতে পারেএমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

একা ঘরে বৃদ্ধ মায়ের মৃত্যু

যুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি, তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট, আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
যুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি, তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট, আইনি নোটিশ

রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিচে নন, এমন একজন বিচারিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

এ ছাড়া নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে বর্ণিত মৌলিক অধিকার বা মানবাধিকারের লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

নূরজাহান বেগমের মৃত্যু এবং তাঁর মরদেহ উদ্ধার নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর-প্রতিবেদন যুক্ত করে গতকাল বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ সরকার। রিটকারীর আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী কালের কণ্ঠকে বলেন, মূলত নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর ক্ষেত্রে খাদ্যসংকট বা চিকিৎসায় অবহেলার মতো কোনো করণ ছিল কি না, নির্যাতন বা কোনো অমানবিক আচরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, এসব বিষয়সহ মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করবে এই কমিটি। আগামী রবিবার এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানান এই আইনজীবী। রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং মিরপুর থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়েছে। একটি সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ হিসেবে ৬৫ বছর বয়সী প্রবীণ ও অসুস্থ নাগরিকদের জন্য সমাজসেবা বিভাগের অধীনে প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারী বা নার্স নিয়োগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল চাওয়া হয়েছে রিটে। একই সঙ্গে নূরজাহান বেগমের অবহেলাজনিত মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রিটে সে রুল জারির আরজিও জানানো হয়েছে।

গত ৩১ মে মিরপুরের একটি বাসা থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর এক ছেলে যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক, এক ছেলে কানাডাপ্রবাসী এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের সময় তাতে পোকার অস্তিত্ব দেখা গেছে। আর যে কক্ষ থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর।

আইনি নোটিশ : এদিকে নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর চার সন্তানকে আগামী সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালতের আইনজীবীদের পক্ষে এই নোটিশ পাঠান। এতে ওই বৃদ্ধার চিকিৎসা ও সার্বিক দেখভালে সন্তানদের ভূমিকা কী ছিল, তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

নোটিশপ্রাপ্ত চার সন্তান হলেন সরকারের যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ কে এম আশিকুর রহমান, কানাডাপ্রবাসী কে এম আতিকুর রহমান এবং স্কুল শিক্ষিকা ফাতিমা নাসরিন সুলতানা।

আইন অনুযায়ী যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন অনুযায়ী সরকারের যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। জানতে চাইলে গতকাল তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ৭৫ বছর বয়স্ক একজন নারী নিজ ঘরে অবহেলায় মারা গেছেন, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের জন্য দেশে আইন আছে। সেই আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি : এদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণার পর গতকাল বুধবারই ওই যুগ্ম সচিবকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) পদ থেকে প্রত্যাহার (ওএসডি) করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনে যা বলা আছে : পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩-তে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে সন্তানরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করবেন। পিতা ও মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবেন। আইন না মানলে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

শিশু রামিসা হত্যা মামলা

আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ আজ যুক্তিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ আজ যুক্তিতর্ক
রামিসা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী ধাপ যুক্তিতর্কের জন্য আজ বৃহস্পতিবার ধার্য করেছেন আদালত। আজ যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেবেনকবে এই আলোচিত মামলার রায় হবে। 

মামলার রাষ্ট্র নিযুক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে  আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে আজকের যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন। রায়ের দিন কবে, সেটি যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করবেন বলে জানান পিপি আজিজুর রহমান।

গতকাল আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির শুরুতে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে এ মামলার সব সাক্ষীর জবানবন্দি পড়ে শোনানো হয়। পরে তাঁদের বলার কিছু আছে কি না, জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা প্রথমে নির্দোষ দাবি করে বলেন, জি স্যার, আমি নির্দোষ। আমার সঙ্গে যে ছিল ডলার, তাকে আপনারা ধরেন।

পরে আবার নিজেকে দোষী স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি দোষ করি নাইতা না, আমিও দোষ করেছি। আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।

পরে স্বপ্না আক্তারকে আদালত বলেন, আপনার কোনো কথা আছে কি না? 

স্বপ্না  বলেন, আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ। ১১টা ২৫ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়। এ সময় মামলার রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি দুলু আগামীকাল (আজ) যুক্তিতর্কের দিন নির্ধারণের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আসামি সোহেল আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, পরে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। কোনটা আদালত বিবেচনায় নেবেনএ প্রশ্নের জবাবে দুলু বলেন, আমাদের আইনে এ বিষয়ে বলা আছে, যদি আসামি প্রথমে কোনো বক্তব্য দিয়ে পরে ভিন্ন বক্তব্য দেন, তাহলে পরেরটাই বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। এ মামলায় পরে নিজেকে দোষী বলেছেন আসামি সোহেল, সুতরাং আদালতের কাছে সেটিই বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।

এ মামলায় আসামি সোহেল চার্জ গঠনের দিন থেকেই আদালতের এজলাসের বাইরে  ডলার নামে একজনের নাম তোলেন। এমনকি গতকাল আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতেও আদালতকে ডলারকে ধরতে বলেন।

ডলার সম্পর্কে  দুলু বলেন, ডলারের নামটি আসামি সোহেল রানা তাঁর জবানবন্দিতে বলেননি, চার্জশিটেও নেই, সুতরাং ডলার একটি দেশের মুদ্রার নাম, বিভিন্ন দেশে চলে, এটি কোনো ব্যক্তি কি নাসেটা যাচাই করতে হবে আগে। এ ধরনের আসামিরা মামলার তদন্ত ও আদালতকে বিভ্রান্ত করতে এমন কথা বলে থাকেন।

আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ শুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আদালতে সোহেল রানা বলেছেন, আমি ভুল করেছি, মাফ চাই। এতে আসামি সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করেছেন বলা যায়।

আসামি সোহেল সাফাই সাক্ষী কেন দিলেন নাজানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, তাঁর পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী ছিল না বলেই তিনি দেননি। আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ এ মামলায় দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে বলেন, আমি এ মামলার রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী। আসামিপক্ষের কেউ আমাকে নিয়োগ দেননি।

এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষে আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে রায় হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী। গতকাল আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি বলেন, এ মামলার সব সাক্ষী যথার্থ তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা, ডাক্তারসহ এ সংশ্লিষ্ট সবাই মামলাটিতে সহায়তা করেছেন। আমরা আশা করছি, মামলাটি দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে থাকবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে বা কেউ সাহস না পায়, এই মামলার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে সেই বার্তা যাবে।

দ্রুত বিচার নিয়ে সবার প্রত্যাশা রয়েছে, কিন্তু কোনো ধরনের তাড়াহুড়ার কারণে ফাঁকফোকর থেকে যাচ্ছে কি নাএমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, না, কারণ নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনাল যখন আমাদের সর্বোচ্চ ল ম্যাকিং বডি পার্লামেন্ট এ্যানাক্ট করেছিলেন, তখনই ২০-এর (২) উপধারায় এসব মামলায় দ্রুত বিচারের কথা বলা হয়েছে।  হয়তো এই আইনের চর্চা আমাদের দেশে কম হয়েছে, এ জন্য মানুষের কাছে মনে হচ্ছে দেরি হচ্ছে। কিন্তু আসলে তা না। এ আইনটির উদ্দেশ্য ছিল নারী ও শিশু দমন আইনের মামলা বিচার শুরু হলে প্রতি কার্যদিবসে একটানা চলবে। ওই আইনে আরো বলা হয়েছে, সেশনস মামলার ন্যায় এ মামলা চলবে। পার্লামেন্টে সেশনস ডাকা হলে যেমন নিয়মিত চলে, তেমনি দায়রা মামলা ও নারী নির্যাতনের মামলা একইভাবে চলবে। গত ১ জুন মামলাটির অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) করে পরদিন মঙ্গলবার  ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ২৪ মে আসামি সোহেল রানা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান।