kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

সাক্ষাৎকার

মামলা দিয়ে দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে

নুরুল হক নুর, সাবেক ভিপি, ডাকসু

২৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মামলা দিয়ে দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে

ফেসবুক লাইভে আওয়ামী লীগকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এর পেছনে কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে, মামলাগুলো কিভাবে মোকাবেলা করা হবে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিকল্পনাগুলো কী—এসব বিষয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হাসান মেহেদী

কালের কণ্ঠ : আপনার বিরুদ্ধে তো বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে, আপনার ব্যাখ্যা কী?

নুরুল হক নুর : আমি মনে করি, মামলা হওয়ার মতো কোনো বিষয় ঘটেনি। একজন রাজনীতিক হিসেবে কথা বলতে গিয়ে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক বিষয় কথাবার্তার মধ্যে চলে আসে। তেমনি গত ১৬ এপ্রিল আমার বক্তব্য ছিল, রমজান মাস মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এই মাসে মানুষ ইবাদত-বন্দেগি করবে। যেখানে গার্মেন্ট, ব্যাংক, হাটবাজার খোলা রয়েছে, সেখানে সরকার মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করে মানুষের ইবাদত করার জায়গাটাকে সংকুচিত করেছে। এ ছাড়া এই রমজান মাসে আলেম-উলামাদের হয়রানি করা হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে বলছিলাম রোজার মাসে এ ধরনের কাজ কোনো মুসলমান সমর্থন করতে পারে না। কিন্তু যখন আমার কাছে মনে হয়েছে, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এই কথাগুলো বলা উচিত হয়নি, তখন আমি দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমার কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকে, তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। বিষয়টি এখানেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কারণ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেও তো তিনি ক্ষমা করে দেন। যদিও আমার দৃষ্টিতে ওই বক্তব্যটি অন্যায় কিছু মনে হয়নি। তবু রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সহনশীলতার জায়গা থেকে আমি ক্ষমা চেয়েছি।

 

কালের কণ্ঠ : কেন মামলা করা হচ্ছে বলে মনে করেন?

নুরুল হক নুর : ১৬ এপ্রিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আমার নামে ১১টি মামলা করা হয়েছে। আমি মনে করি, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই মামলা করা হয়েছে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ পরামর্শে এই মামলা হচ্ছে। মোদিবিরোধী আন্দোলনের কারণে হেফাজতে ইসলামের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। সরকারি দলের নেতাকর্মীরা সহিংসতা চালিয়ে হেফাজতের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত আমাদের দলের ৫৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেমনিভাবে আমাকেও হয়রানি করার জন্য এই মামলা দেওয়া হয়েছে। দমানোর চেষ্টা করছে। 

 

কালের কণ্ঠ : মামলাগুলোর বাদী কারা?

নুরুল হক নুর : প্রত্যেকটি মামলার বাদীই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে পল্টন থানায় যে মামলাটি হয়েছে, সেটি একজন শিল্পী করেছেন। উনি সরাসরি পদধারী না হলেও আওয়ামী ঘরনার সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রত্যক্ষ মদদেই এই মামলাগুলো করা হয়েছে। আমাকে হয়রানি বা রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে ভবিষ্যতে এই মামলাগুলো ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। মোদিবিরোধী আন্দোলনের পরে দেশের অভ্যন্তরে সরকার বেশ চাপে পড়েছে। সেটা কাটিয়ে উঠতেই বিরোধী শক্তিকে মামলা-হামলা দিয়ে দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গ্রেপ্তার করছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই এই মামলার পন্থা বেছে নিয়েছে। যেহেতু এগুলো রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যেই মামলা, সেহেতু এই মামলাগুলো আইনগতভাবে নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করব।

 

কালের কণ্ঠ : আপনার রাজনীতির পরবর্তী পরিকল্পনা কী?

নুরুল হক নুর : বর্তমান সরকার দীর্ঘদিন ধরেই দেশে একটা কর্তৃত্ববাদী শাসনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করার জন্য বিরোধী মত ও সংগঠনগুলোকে ঘায়েল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে সরকার মোদিবিরোধী আন্দোলনকে ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, মামলা, হামলার কারণে সাংগঠনিকভাবে একটু চাপের মধ্যে আছি। তবে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমরা মানুষের প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলছি। এভাবেই আমরা সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগে আমরা যেভাবে হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে ও মানুষের অধিকারের পক্ষে মাঠে সরব ছিলাম, তেমনি এই লকডাউনের মধ্যে হয়তো রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে পারছি না, তবে মানুষের পাশে থাকার জন্য মানবিক, স্বেচ্ছাসেবী ও জনসম্পৃক্ত কাজগুলো করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।