kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

আর বাকি ১১ দিন

জরিপে এগিয়ে বাইডেন, জয় সম্ভব ট্রাম্পেরও

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জরিপে এগিয়ে বাইডেন, জয় সম্ভব ট্রাম্পেরও

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে টান টান উত্তেজনা। আবারও নির্বাচিত হতে মরিয়া রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাঁধে নির্বাচনী বৈতরণী পার করার দায়িত্ব তুলে দিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের বাকি দুই সপ্তাহেরও কম। সবার প্রশ্ন, কী হতে যাচ্ছে শেষ পর্যন্ত? কে হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট?

বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পকে বাইডেনের চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তবে ‘সুইং স্টেট’ বা ‘দোদুল্যমান স্টেট’গুলোয় দুই প্রার্থীর ব্যবধান খুব সামান্য। এমনকি অনেকটা ‘ফল নির্ধারক’ ফ্লোরিডায় একপ্রকার টাই মনে হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সুইং স্টেটগুলোর ভোটের ফলের ওপরই ৩ নভেম্বরের ভোটে জিতে কে হোয়াইট হাউসে যাবেন, তা অনেকটা নির্ভর করছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং নিউ ইয়র্কের একটি লিবারেল আর্টস কলেজের এক জরিপে দেখা গেছে, জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পের চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন বাইডেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, জরিপে এগিয়ে থাকা মানেই জয় নিশ্চিত নয়। বরং জরিপে এগিয়ে থেকেও হেরে যাওয়ার অনেক উদাহরণ এ দেশে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। জরিপে এগিয়ে থেকেও ট্রাম্পের কাছে হেরেছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন।

প্রায় ৫০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন বাংলাদেশি কাজী সাহিদ হাসান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, নানা কারণে অনেক সময় জরিপে সঠিক তথ্য আসে না। এর মধ্যে একটি হচ্ছে—ব্র্যাডলি এফেক্ট। ১৯৮২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনের প্রসঙ্গটি সামনে এনে তিনি বলেন, সেবার গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ছিলেন আফ্রিকান-আমেরিকান টম ব্রাডলি। শ্বেতাঙ্গ জর্জ ডুকমেজিয়ান ছিলেন বিপক্ষে। সেবার লস অ্যাঞ্জেলেসের সাবেক মেয়র ব্রাডলি ভোটের আগের দিন পর্যন্ত জরিপে এগিয়ে থেকেও হেরেছিলেন। সেই থেকে বিষয়টি ব্র্যাডলি এফেক্ট নামে পরিচিত।

তাহলে এটা কিভাবে হয়েছিল? এমন প্রশ্নে কাজী সাহিদ হাসান বলেন, অনেক শ্বেতাঙ্গ যে বর্ণবাদী সেটা তাঁরা প্রকাশ করতে চান না। ফলে জরিপে হয় নীরব থাকেন, নাহলে মিথ্যা বলেন। কিন্তু ভোট তাঁরা শ্বেতাঙ্গ প্রার্থীকেই দেন। 

এমন উদাহরণ আরো রয়েছে। ১৯৯৩ সালে নিউ ইয়র্কের আফ্রিকান-আমেরিকান মেয়র ডেভিড ডিংকিন্স জরিপে এগিয়ে থেকেও রুডি জুলিয়ানির কাছে হেরে গিয়েছিলেন। 

কাজী সাহিদ হাসান বলেন, সব ক্ষেত্রেই যে শ্বেতাঙ্গরা বর্ণবাদী আচরণ থেকে এমন করেন তা নয়। অনেকে মনে করেন, ২০৪৪ সালের দিকে তাঁরা এ দেশে সংখ্যালঘু হয়ে যাবেন। সেই শঙ্কা থেকেও তাঁরা ভোট দেন। তাঁরা বিষয়টিকে অস্তিত্বের প্রশ্ন বিবেচনা করেন।

অনেক হিস্পানিক নিজেদের সাদা মনে করেন। তাঁদের ভোটও যাবে রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে—এমনটাই মনে করেন এই বিশ্লেষক। তবে কাজী সাহিদ হাসান পরিষ্কার করার জন্য বলেছেন, ‘সব শ্বেতাঙ্গই বর্ণবাদী’ বিষয়টি মোটেও তা নয়। তিনি শুধু একটি অংশের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

কিন্তু ডেলাওয়ারে জন্ম নেওয়া জো বাইডেনও তো একজন শ্বেতাঙ্গ, তাহলে তিনি কেন শ্বেতাঙ্গদের ভোট কম পেতে পারেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে কাজী হাসান বলেন, ‘কারণ কমালা হ্যারিস। বাইডেনের রানিং মেট কমালা একই সঙ্গে আফ্রিকান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তিনি নিজেকে আফ্রিকান-আমেরিকান পরিচয় দেন। তার ওপর নারী। অনেকে মনে করেন, ৭৭ বছর বয়সী বাইডেনের রানিং মেট হিসেবে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারেন কমালা। কারণ বয়সের কারণে বাইডেন হয়তো পরবর্তী প্রার্থী হতে পারবেন না।’ সেই জায়গা থেকেও জো বাইডেন কিছুটা পিছিয়ে বলে মনে করেন তিনি। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ক্ষেত্রে নির্ভর করছেন তাঁর নীরব বা শাই ভোটারদের ওপর; যাঁরা মুখে বলছেন না, কিন্তু ঠিকই রিপাবলিকান প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। ২০১৬ সালের অভিজ্ঞতা থেকে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। তাই বাইডেনের  প্রচারশিবিরের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জেন ও’মালি ডিলোন বলেছেন, জরিপগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বাইডেনকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও ব্যাটেল গ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত ১৭টি স্টেটে তিনি নিজেও দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। ফলে বিষয়টিকে খাটো করে না দেখে নিজেদের সমর্থকদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এর মানে এই নয়, জরিপে এগিয়ে থেকেও পরাজয়ের দিকে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামার ডিজিটাল জার্নালিজমের সহযোগী অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার অনেকগুলো ইস্যু রয়েছে। করোনা মহামারির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প নিজেকে নানা ক্ষেত্রে ব্যর্থ প্রমাণিত করেছেন। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের হারানোর কিছু না থাকলেও এবার আছে। ফলে আমি বাইডেনকেই বিজয়ী হিসেবে এগিয়ে রাখব।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা