kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

আল্লাহর গুণবাচক নামের পরিধি

বিশ্বাসের মিনার

মুফতি আতাউর রহমান   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আল্লাহর গুণবাচক নামের পরিধি

আল্লাহর গুণ বা গুণবাচক নামগুলো সার্বিক বিবেচনায় পরিপূর্ণ। তাঁর গুণাবলিতে কোনো অপূর্ণতা নেই। যেমন—আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম ‘আল-হাইয়ু’, অর্থ চিরঞ্জীব। তিনি এমন জীবনের অধিকারী, যা কখনো অস্তিত্বহীন ছিল না এবং বিনাশও হবে না।

বিজ্ঞাপন

এই পূর্ণতা কোনো প্রকার তুলনা ছাড়াই যেমন প্রমাণিত, তেমনি অন্যের তুলনায়ও প্রমাণিত।

আল্লাহর গুণবাচক নামের পরিধিও অত্যন্ত বিস্তৃত। যখন আল্লাহর জন্য কোনো নাম প্রমাণিত হয়, তখন তিনটি বিষয় আল্লাহর জন্য প্রমাণিত হয়। তা হলো—

১. আল্লাহর জন্য নামটি প্রমাণ করা।

২. নামের অন্তর্ভুক্ত গুণাবলি আল্লাহর জন্য প্রমাণ করা।

৩. এই নামগুলোর বিধান ও দাবিগুলো প্রমাণ করা।

যেমন—কোরআনে যখন আল্লাহর নামের সঙ্গে ‘আস-সামিউ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তখন ‘আস-সামিউ’ আল্লাহর নাম হিসেবে গণ্য হবে, আল্লাহর জন্য শ্রবণশক্তি প্রমাণিত হবে এবং শ্রবণশক্তির দাবি অনুসারে এটাও প্রমাণিত হবে যে, তিনি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব কিছুই শুনবেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ অবশ্যই শুনেছেন সেই নারীর কথা যে তার স্বামীর বিষয়ে তোমার সঙ্গে বাদানুবাদ করছে এবং আল্লাহর কাছেও ফরিয়াদ করছে। আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শোনেন, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। ’ (সুরা : মুজাদালাহ, আয়াত : ১)

আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, ‘মহান আল্লাহর নামগুলো পরিপূর্ণ গুণাবলি বোঝায়। কেননা  তা গুণাবলি থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো একই সঙ্গে নাম ও গুণ। ’ (মাদারিজুস সালিকিন : ১/৫১)

শায়খ আবদুল্লাহ বিন বাজ (রহ.) বলেন, “নাম—যা সত্তা ও অর্থ বোঝায়। যা শুধু অর্থ বোঝায় তা গুণ। অন্যদিকে আল্লাহর গুণবাচক নাম ‘আর-রহমান’ (পরম দয়ালু) এটা গুণ ও নাম। কেননা এর মধ্যে সত্তা ও গুণের অর্থ আছে। ” (ফাতাওয়া নুর আলাদ-দারবি : ১/১২৪)

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মত হলো মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ব্যবহৃত গুণবাচক নামের শব্দ, মর্ম, বিধান ও দাবির ওপর ঈমান আনবে। নতুবা আল্লাহর গুণবাচক নামের ওপর ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে না।

আল-মাউসুয়াতুল আকাদিয়া

 



সাতদিনের সেরা