• ই-পেপার

মুসলিম শাসনামলে কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্যে স্বনির্ভরতা

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৫১

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

হা মিম। এই কিতাব পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকে অবতীর্ণ; আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং তাদের মধ্যবর্তী সবকিছুই আমি যথাযথভাবে নির্দিষ্ট কালের জন্য সৃষ্টি করেছি। কিন্তু অবিশ্বাসীরা, তাদেরকে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে...সেই ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত কে যে যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে, যা কিয়ামত দিবস পর্যন্তও তাকে সাড়া দেবে না? এবং এগুলো তাদের প্রার্থনা সম্পর্কে অবহিতও নয়।  (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ১-৫)

পবিত্র কোরআনের ৪৬তম সুরা আহকাফ। মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় ৩৫টি আয়াত ও চারটি রুকু রয়েছে। এতে ঈমানের মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

 

১. কোরআন পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকে অবতীর্ণ। সুতরাং কোরআনও অনিবার্য ও জ্ঞানের উৎস।

২. আয়াতে নির্ধারিত সময় দ্বারা কিয়ামত দিবস উদ্দেশ্য। কেননা তখন আসমান-জমিন ধ্বংস হবে এবং সব জীবের মৃত্যু ঘটবে।

৩. পূর্ববর্তী আসমানি কিতাব ও পরম্পরাগত জ্ঞান কোনো কিছুই শিরককে সমর্থন করে না।

৪. আয়াত থেকে ধারণা মেলে জাহেলি যুগের আরব সমাজেও জ্ঞানের চর্চা ছিল। যদিও তা সীমিত পরিসরে, অগ্রন্থিত ও মৌখিক ছিল।

৫. অসার ও স্থির প্রস্তরখণ্ডকে উপাস্য অথবা আল্লাহর সমকক্ষ জ্ঞান করা স্পষ্টত বিভ্রান্তি ও জ্ঞানের দৈন্যদশার প্রমাণ। (জাদুল মাসির : ৭/৩৬৪)

জিজ্ঞাসা

রাসুল (সা.) কোরআনের হাফেজ ছিলেন?

আমার নাম মাসরুর নোমান, বয়স ১০ বছর। আমি হিফজখানার একজন শিক্ষার্থী। আমি জানতে চাই, আমাদের নবীজি (সা.) কি কোরআনের হাফেজ ছিলেন? তিনি কোরআনের হাফেজ হলে কত দিনে কোরআন হিফজ করেছিলেন?

মুফতি আবদুল্লাহ নুর
রাসুল (সা.) কোরআনের হাফেজ ছিলেন?

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-ই পৃথিবীতে কোরআনের প্রথম হাফেজ ছিলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি কোরআনের যতটুকু অবতীর্ণ করতেন তিনি সঙ্গে সঙ্গে তা মুখস্থ করে নিতেন। এভাবে তিনি দীর্ঘ ২৩ বছরে ধীরে ধীরে কোরআন হিফজ করেন। মহান আল্লাহ নিজ দায়িত্বে তাঁর প্রিয় নবীকে কোরআন মুখস্থ করান। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, এটা সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কোরো। (সুরা : কিয়ামা, আয়াত : ১৭-১৮)

আল্লামা কাজি সানাউল্লাহ পানিপথি (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, কোরআন আপনার অন্তরে সংরক্ষণ এবং তা বিশুদ্ধভাবে পাঠ করানো আমার দায়িত্ব। আমি যখন জিবরাইলের মাধ্যমে কোরআন পাঠ করিয়ে  শোনাই, তখন আপনি তার পাঠ অনুসরণ করে পাঠ করুন। যেন তা আপনার মন-মস্তিষ্কে সুদৃঢ়ভাবে বসে যায়।

(তাফসিরে মাজহারি : ১০/৩৯)

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) লেখেন, ইসলামের সূচনালগ্নে কোরআন সংরক্ষণের জন্য মুখস্থ করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। তাই ওহি নাজিলের প্রথম দিনগুলোতে ওহি নাজিলের সঙ্গে সঙ্গে  রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্রুততার সঙ্গে বারবার তা পাঠ করতে থাকতেন। আল্লাহ সুরা কিয়ামার আয়াতে নবীজি (সা.)-কে এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, আপনার এভাবে দ্রুততার সঙ্গে পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আপনার ভেতর এমন স্মৃতিশক্তি দান করেছেন একবার ওহি নাজিল হলে আপনি তা ভুলে যাবেন না, সঙ্গে সঙ্গে তা আপনার মুখস্থ হয়ে যাবে। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-ই সবচেয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। তিনি এমন মজবুত হাফেজে কোরআন ছিলেন যে তাতে ন্যূনতম ভুলত্রুটি ও পরিবর্তন আসারও সম্ভাবনা ছিল না।

আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে সুনিশ্চিত মুখস্থ শক্তি দান করেছিলেন। তার পরও উম্মতকে সতর্কতা শেখানোর জন্য তিনি প্রতি রমজানে জিবরাইল (আ.)-কে কোরআন পাঠ করে শোনাতেন। এমনকি ইন্তেকালের বছর রমজানে তিনি জিবরাইল (আ.)-কে দুবার কোরআন পাঠ করে শোনান। (মাআরেফুল কোরআন : ১/৩৫; ফাতহুল বারি : ৯/৩৬)

আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইসলাম ও আরব সভ্যতার প্রদর্শনী

উম্মে আহমাদ ফারজানা
মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইসলাম ও আরব সভ্যতার প্রদর্শনী

বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সভ্যতার মিলনমেলায় পরিণত হওয়া মেক্সিকো বিশ্বকাপ ঘিরে ইসলাম ও আরব সভ্যতার সৌন্দর্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইয়ুথ। সংস্থাটি অনুপ্রেরণাদায়ক সভ্যতা শীর্ষক এক বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছে, যার মূল লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে আগত দর্শনার্থীদের কাছে ইসলামের মানবিক মূল্যবোধ, আরব সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং মুসলিম সভ্যতার অবদানকে পরিচিত করে তোলা।

প্রদর্শনীটি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এতে রয়েছে ১১টি বিশেষায়িত প্যাভিলিয়ন, যেখানে মডেল, বই, প্রকাশনা, তথ্যচিত্র ও স্মারক উপহারের মাধ্যমে ইসলামী ও আরব সভ্যতার ইতিহাস, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়েছে।

দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে নানা ইন্টারেক্টিভ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। তারা আরববিশ্বের ঐতিহ্যবাহী পোশাকথোব, শেমাগ ও বিশত পরিধান করে ছবি তুলতে পারবেন। পাশাপাশি মেহেদির নকশা, হিজাব পরিধানের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আরব ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হলো, দুই পবিত্র মসজিদকে নিবেদিত বিশেষ প্যাভিলিয়ন। এখানে দর্শনার্থীরা মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর মডেল, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র এবং আধুনিক সম্প্রসারণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবছর লাখো হাজি ও ওমরাহ পালনকারীর জন্য প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র।

আরব আতিথেয়তার অনন্য ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী আরবীয় তাঁবু। সেখানে আগত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হচ্ছে আরবি কফি, খেজুর ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী দিয়ে। ফলে দর্শনার্থীরা শুধু তথ্যই পাচ্ছেন না, বরং আরব সংস্কৃতির আন্তরিকতা ও অতিথিপরায়ণতার স্বাদও গ্রহণ করছেন।

প্রদর্শনীর পরিধি আরো বিস্তৃত করতে মেট্রো টানেলের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ তথ্যকেন্দ্র। সেখানে হাজার হাজার বিনামূল্যে মেট্রো মানচিত্র বিতরণের পাশাপাশি ইসলাম ও আরব সংস্কৃতি সম্পর্কে তথ্যসমৃদ্ধ প্রকাশনাও সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সাতটি সাংস্কৃতিক তথ্যকেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং ইসলামী সভ্যতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরছেন।

 

ভিয়েতনামে হালাল পণ্য আইনের যাত্রা শুরু

আবরার আবদুল্লাহ
ভিয়েতনামে হালাল পণ্য আইনের যাত্রা শুরু

বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারি বাড়ানো, মুসলিম দেশগুলোতে রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং মুসলিম পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ আইনগত হালাল কাঠামো চালু করেছে ভিয়েতনাম। দেশটির সরকার সম্প্রতি ডিক্রি ১২৭/২০২৬ (Decree No. 127/2026/ND-CP) জারি করেছে, যা হালাল পণ্য ও সেবার মাননিয়ন্ত্রণ, সার্টিফিকেশন এবং বাজার উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রদান করবে।

গত ৬ এপ্রিল জারি হওয়া এ ডিক্রি গত ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ভিয়েতনামে হালাল পণ্য, সেবা, লেবেলিং, ট্রেসেবিলিটি (পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ), সার্টিফিকেশন এবং মাননিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামোর আওতায় এলো।

নতুন বিধান অনুযায়ী কোনো পণ্যকে হালাল হিসেবে বাজারজাত করতে হলে তার কাঁচামাল, উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বিপণনের প্রতিটি ধাপ হালাল মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। প্রাণিজ উপাদান ব্যবহার করা হলে তা অবশ্যই শরিয়াহসম্মত উৎস থেকে আসতে হবে এবং উৎপাদনের সময় হারাম উপাদানের সঙ্গে মিশ্রণ বা দূষণ (cross-contamination) প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ডিক্রিতে হালাল লেবেলিংয়ের বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের মোড়কে হালাল বা হালাল প্রোডাক্ট উল্লেখ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে পণ্যের উৎস ও সরবরাহ শৃঙ্খল সহজে যাচাই করা যায়।

ভিয়েতনামের মান, পরিমাপ ও গুণগত মান কমিশনের (STAMEQ) কর্মকর্তারা বলছেন, হালালকে শুধু ধর্মীয় বিষয় হিসেবে নয়, বরং গুণগত মান, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের একটি কৌশলগত মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত। তাদের মতে, হালাল সনদ ভবিষ্যতে ভিয়েতনামের কৃষিপণ্য, খাদ্যপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের জন্য নতুন বাজারের দুয়ার খুলে দিতে পারে।

ভিয়েতনাম এরই মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ইরানের সঙ্গে হালাল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং ইসলামী দেশগুলোর মান ও পরিমাপবিষয়ক প্রতিষ্ঠান SMIIC-এর মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেদের নীতিমালা সমন্বয়ের চেষ্টা করছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ভিয়েতনামে এক হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের হালাল সনদ অর্জন করেছে। নতুন আইন এসব কার্যক্রমকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে ভিয়েতনাম এখন হালাল অর্থনীতিকে জাতীয় রপ্তানি কৌশলের অংশে পরিণত করতে চাইছে। একই সঙ্গে মুসলিম পর্যটকদের জন্য হালাল খাদ্য, মুসলিমবান্ধব হোটেল ও পর্যটনসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে পর্যটন খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

নতুন আইনকে অনেক পর্যবেক্ষক ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হলে দেশটি বৈশ্বিক হালাল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

সূত্র : সালাম গেটওয়ে

মুসলিম শাসনামলে কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্যে স্বনির্ভরতা | কালের কণ্ঠ