kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অন্যের প্রয়োজন পূরণ করা নবীজির আদর্শ

সাইফুল ইসলাম তাওহিদ   

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অন্যের প্রয়োজন পূরণ করা নবীজির আদর্শ

আল্লাহর রহমত ও দয়া অর্জনের অন্যতম একটি সহজ মাধ্যম হলো আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া করা। তাদের প্রতি যাবতীয় কল্যাণ ও উপকারের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা এবং বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে একটি ভালো কাজ। অন্যের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানো একটি মহৎগুণ।

বিজ্ঞাপন

রাসুল (সা.) অভাবী অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছিলেন এবং বিভিন্ন হাদিসে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। একজন মুমিনের জন্য রাসুল (সা.)-এর জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ। যেকোনো কাজে-কর্মে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। সৃষ্টির সেবা কিংবা অন্যের প্রয়োজন পূরণ করা ফজিলত ও সওয়াব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা হলো।

সৃষ্টির সেবা করার ঐশী নির্দেশ : সৃষ্টির সেবা বা অপরকে সহায্য করা একটি মহৎগুণ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ভালো ও কল্যাণকর কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কল্যাণকর কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো, পাপে তোমরা একে অপরকে সহযোগিতা কোরো না। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ২)

আল্লাহর সাহায্যের ওয়াদা : যারা অন্যের প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তাআলাও তাদের প্রয়োজন পূরণ করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যতক্ষণ একজন মানুষ অন্য মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে, আল্লাহ তাআলাও তার কল্যাণে রত থাকবেন। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৪৬)

 

অন্য হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান!  তুমি ব্যয় করো, আমিও তোমার প্রতি ব্যয় করব। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩৫২)

মুমিনের বৈশিষ্ট্য : অন্যের কল্যাণে এগিয়ে আসা এবং অকল্যাণ থেকে নিজেকে বিরত রাখা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সালেম (রহ.) তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কাজেই সে তার ওপর নির্যাতন করবে না এবং তাকে অসহায় অবস্থায়ও ছেড়ে যাবে না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন মেটাবেন। একইভাবে যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৯৩)

সামাজিক ঐক্যের ভিত্তি : আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন মুমিনের জন্য ইমারতসদৃশ, যার একাংশ অন্য অংশকে মজবুত করে। এরপর তিনি (হাতের) আঙুলগুলো (অন্য হাতের) আঙুলের (ফাঁকে) ঢোকালেন। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬০২৬)

পরস্পর সম্প্রীতি বৃদ্ধির মাধ্যম : নুমান ইবনু বাশির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন, মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়ার্দ্রতা ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি মানবদেহের ন্যায়, যখন তার একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয়, তখন তার সমস্ত দেহ ডেকে আনে তাপ ও অনিদ্রা। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৮০)

নববী আদর্শ : অসহায়-গরিবদের সাহায্য করা রাসুল (সা.)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাসুল (সা.) সর্বপ্রথম যখন ওহির সংবাদ এবং ভয় পাওয়ার কথা খাদিজা (রা.)-কে জানান, তখন তিনি রাসুল (সা.)-এর বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেন। খাদিজা (রা.) রাসুল (সা.)-এর গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায় দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। ’ (বুখারি, হাদিস : ৩)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন।

 



সাতদিনের সেরা