kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

মসজিদ পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি

আহমাদ রাইদ   

৩০ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মসজিদের উন্নয়ন, নির্মাণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় একটি কমিটি থাকতে হয়। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারে না। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে মসজিদের ব্যাপারে ছয় শ্রেণির মানুষ দায়িত্বশীল। তাঁরা হলেন—ইমাম-খতিব, মুয়াজ্জিন, খাদেম, মক্তব-পরিচালক, কমিটি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। প্রত্যেকের কিছু দায়িত্বও আছে। যেমন—ইমাম যথাযথভাবে নামাজ আদায় করবেন এবং মুসল্লিদের দ্বিনি জ্ঞান, ঈমান ও আমলের উন্নয়নের চিন্তা করবেন। মুয়াজ্জিন যথাসময়ে আজান দেবেন। ইমামকে সহযোগিতা করবেন। খাদিমরা পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন করবেন। মক্তব-পরিচালক মুসলিম শিশুদের ফরজ শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবেন। কমিটি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মসজিদ ও মুসল্লিদের প্রয়োজন পূরণের চেষ্টা করবেন। মসজিদের সার্বিক পরিচালনার ক্ষেত্রে ইমামকে পরামর্শ দেবেন এবং তাঁর থেকে পরামর্শ নেবেন। (আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারিয়াতিল ইসলামিয়া, পৃষ্ঠা : ৪০৫-৮)। নিম্নে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি বর্ণনা করা হলো—মসজিদে জুমার নামাজ, প্রাক-খুতবা, খুতবা, ওয়াক্তিয়া নামাজ, ঈদের নামাজ ও জানাজার নামাজের ব্যবস্থা করা। মসজিদ কমিটি এবং স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় পবিত্র কোরআন শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, সংশ্লিষ্ট এলাকার শিশুদের বুনিয়াদি ইসলামী শিক্ষা ইত্যাদির আয়োজন করা। মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, নগদ অর্থ ও অন্যান্য স্থায়ী-অস্থায়ী যাবতীয় সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ এবং এসংক্রান্ত মনিটরিং ও ফলোআপ করা। মসজিদের প্রয়োজনীয় উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ। সুযোগ থাকলে আয় বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খাত, যথা দোকান, বাড়ি, ভূমি ইত্যাদি ক্রয় ও নির্মাণ, পুকুরে মাছ চাষ, জমিতে খামার স্থাপন ইত্যাদি অর্থকড়ি খাতে বিনিয়োগ।

মসজিদের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট প্রস্তুত এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উৎসাহ প্রদান ও উদ্বুদ্ধকরণ এবং মসজিদের সার্বিক উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ। যথাযথ সম্মানীর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া। মসজিদ পাঠাগার ও রিসোর্স সেন্টার পরিচালনা, পাঠক বৃদ্ধিসহ পাঠাগার সমৃদ্ধ করা। মসজিদভিত্তিক সুষ্ঠু ইসলামী সংস্কৃতিচর্চার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস উপলক্ষে শিশু, কিশোর ও মুসল্লিদের মধ্যে হামদ, নাত, কিরাত, আজান, রচনা প্রতিযোগিতা ইত্যাদির আয়োজন এবং শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগীদের পুরস্কার প্রদান করা।

অপসংস্কৃতি, শিরক, বিদআত রোধ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, মাদকাসক্তি রোধে সহায়তা করা। মসজিদ এলাকার অসহায়, বিধবা, বৃদ্ধ, গরিব-মিসকিন, এতিম, অন্ধ ও পঙ্গুদের সাহায্য প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মসজিদের রেস্টহাউস (মুসাফিরখানা), অডিটরিয়াম, প্রশিক্ষণকক্ষ ইত্যাদির ব্যবস্থাপনা। মসজিদের উন্নয়ন ও দৈনন্দিন পরিচালনা। কমিটির সভাপতির মৌখিক/লিখিত নির্দেশে সেক্রেটারি সভা আহ্বান করবেন। সভার হাজিরা এবং সিদ্ধান্তসমূহ লিখিত আকারে সংরক্ষিত থাকবে। প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার এবং বিশেষ প্রয়োজনে আরো বেশিসংখ্যকবার সভা আহ্বান করা যাবে। সভায় অংশগ্রহণের জন্য কমিটির কোনো সদস্য কোনো ভাতা/সম্মানী প্রাপ্য হবেন না।

সূত্র : মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র পরিচালনা নীতিমালা, ২০২১ (পরিমার্জিত ও সংক্ষেপিত)

 



সাতদিনের সেরা