kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

ভাগ্য কখন লিপিবদ্ধ হয়

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুমিনের জন্য আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও ভাগ্যলিপির ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব। মুমিন মাত্রই বিশ্বাস করে—সব কিছু আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ও চূড়ান্ত। কেননা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপর্যয় আসে আমি তা সংঘটিত করার আগেই লিপিবদ্ধ থাকে; আল্লাহর পক্ষে এটা খুবই সহজ।’ (সুরা হাদিদ, আয়াত : ২২)

ভাগ্য কখন লিপিবদ্ধ হয় : ভাগ্য মূলত চারটি পর্যায়ে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকে। তা হলো—

১.   পৃথিবী সৃষ্টির আগে : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সব সৃষ্টির তাকদির আসমান ও জমিন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে লিপিবদ্ধ করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৯১৯)। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি কলমকে বলেন, লেখো। অতঃপর কলম যা (বিদ্যমান) ছিল এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু সংঘটিত হবে তার সব কিছু লিখল।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২২৭০৫)

২.   মাতৃগর্ভে : হাদিসে এসেছে, মাতৃগর্ভে মানবভ্রূণ মাংসপিণ্ডে পরিণত হওয়ার পর তার কাছে ফেরেশতা প্রেরিত হয়। ফেরেশতা তার ভেতর রুহ ফুঁকে দেন। তাঁকে চারটি বিষয় লিখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় : জীবিকা, বয়স, আমল ও তার সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্য। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২০৮)

৩.   কদরের রাতে : আল্লাহ বলেন, ‘এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত : ৪)

৪.   প্রতিদিন : প্রতিদিন আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার জন্য যা দান করে থাকেন তাকে দৈনন্দিন ভাগ্যলিপি বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনি প্রত্যহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে রত।’ (সুরা আর-রাহমান, আয়াত : ২৯)

 

ভাগ্য বিশ্বাসের উপকারিতা : ভাগ্য বিশ্বাস মানুষের জন্য দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়া ও অন্তরের প্রশান্তি লাভের উপায়। যখন কেউ বিশ্বাস করবে যে প্রত্যেক বিষয় লিপিবদ্ধ ও নির্ধারিত, তখন সে অস্থিরতা থেকে রক্ষা পাবে।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তাই পৌঁছান, যা তার জন্য লিপিবদ্ধ আছে। সুতরাং কেউ-ই কারো কোনো বিষয়েই উপকার করতে পারবে না, যা তার জন্য লেখা হয়নি। আর কেউ-ই কারো কোনো বিষয়ে ক্ষতি করতে পারবে না, যা তার জন্য লেখা হয়নি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি বলুন! যা আল্লাহ আমাদের জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন তা ছাড়া কিছুই আমাদের কখনোই স্পর্শ করবে না।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৫১)

ভাগ্যে বিশ্বাসের স্বরূপ : ‘তাকদিরের প্রতি ঈমান’ মানে এ কথা বিশ্বাস করা যে একমাত্র মহান আল্লাহ ক্ষতির মালিক, উপকারকারী, দানকারী ও নিষিদ্ধকারী। সুতরাং বান্দার এ বিশ্বাস তার জন্য আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস, আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে গ্রহণ এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা রক্ষা করাকে আবশ্যক করে। (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম : ২০/৩১)

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা।