kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ

মনীষীদের স্মৃতিধন্য দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বেলায়েত হুসাইন   

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মনীষীদের স্মৃতিধন্য দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে গেণ্ডারিয়ার ফরিদাবাদে অবস্থিত জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ দেশের অন্যতম ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৩৭৫ হিজরি মোতাবেক ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির ওপর মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। মৌলভী সাঈদুল হক দানবীর মরহুম কবির মোল্লাসহ আরো কয়েকজন মিলে জায়গাটি মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করেন। প্রতিষ্ঠাকালে মাদরাসার মুতাওয়াল্লি নিযুক্ত হন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও সমাজসংস্কারক আলেম মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) এবং আমৃত্যু তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক নেতা হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি (রহ.)-এর নামানুসারে মাদরাসার নাম রাখা হয় ইমদাদুল উলুম। তবে সারা দেশে তা ‘ফরিদাবাদ মাদরাসা’ নামেই বেশি পরিচিত। প্রাথমিকভাবে মাদরাসার কার্যক্রম স্বল্প পরিসরে শুরু হলেও বর্তমানে তা দেশের অন্যতম প্রধান দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নব্বইয়ের দশক থেকে ফরিদাবাদ মাদরাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস।

কওমি শিক্ষা সিলেবাসের প্রাথমিক স্তর থেকে সর্বোচ্চ শ্রেণি দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) এবং ইফতা (ইসলামী আইন গবেষণা) বিভাগের সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। শুধু দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষার্থী সংখ্যা এক হাজারের বেশি। মসজিদসহ মাদরাসার শিক্ষা ও আবাসিক ভবনের সংখ্যা ৯টি। ৯ জন বিখ্যাত সাহাবির নামে ভবনগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। যথাক্রমে ভবনগুলোর নাম-দারে আবু বকর, দারে উমর, দারে উসমান, দারে আলী, দারে হামজা, দারে জুবায়ের, দারে তালহা ও দারে আবু হুরায়রা (রা.)। মসজিদের নাম মসজিদে বেলাল (রা.)। মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা যুবায়ের জানান, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর সিলেবাসের অধীনে এ মাদারাসায় শিক্ষার্থীদের ইসলামী শিক্ষাদানের পাশাপাশি সমসাময়িক নানা বিষয়েও পাঠদান করা হয়। তারা মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও আরবি, উর্দু, ইংরেজি ও ফার্সি ভাষা শেখার সুযোগ পায়। এখানে আবাসিক ব্যবস্থাপনায় এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে অথবা স্বল্প খরচে শিক্ষাগ্রহণের বিশেষ সুবিধা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও দেখভালের জন্য ৮৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োজিত আছেন।

প্রতিবছর এখান থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্নকারী তরুণ আলেম ইলমের খেদমতের জন্য দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে এবং সুনামের সঙ্গে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছে। দেশের বহু শীর্ষ ও প্রবীণ আলেম ফরিদাবাদ মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ (বেফাক) প্রতিষ্ঠা লাভ করার পর প্রায় এক যুগ বেফাকের প্রধান কার্যালয়ও ছিল এই মাদরাসাতেই। জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদের মুখপত্র হিসেবে নেয়ামত নামের একটি মাসিক ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) ১৯৩৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং নানা প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ছাপা হচ্ছিল; কিন্তু এরপর বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে ফের নেয়ামত প্রকাশিত হচ্ছে। এ ছাড়া ফরিদাবাদ মাদরাসা বহুমুখী দ্বিনি খেদমতের সঙ্গে জড়িত।

 



সাতদিনের সেরা