kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

ব্যক্তির অপরাধে আলেমসমাজকে কটাক্ষ করা অন্যায়

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ   

২৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোথায় লাশ গুম হলো, কার অবকাশযাপনে কী ঘটল, কে ধর্ষণ করল বা কাকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হলো—এ জন্য আলেমসমাজকে কটাক্ষ করা অন্যায়। আর্থিক দ্বন্দ্ব, মিথ্যাচার, জৈবিক তাড়না, ব্যক্তিগত বিরোধ-স্বার্থ, রাজনৈতিক মতাদর্শগত কারণে একজন বিচারাধীন আলেমের আচরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ঢালাওভাবে গোটা আলেমসমাজের চরিত্র হনন, হেয়প্রতিপন্ন করা, ধর্ম-নৈতিকতা ও আইনের দৃষ্টিতে শুধু অপরাধই নয়; বরং এমন অপতৎপরতায় ঈমান ও আখিরাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

একজন আলেমের ব্যক্তিত্ব অনুসরণীয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে কথা বলা শিখিয়েছেন....।’ এ জন্য একেকজন আলেম যেন একটি লাওহে মাহফুজ, একেকটি জীবন্ত কোরআন। একজন আলেমের মধ্যে ওয়াহির জ্ঞান ও তার প্রতিফলন ঘটে, তার মধ্যে ‘নবী ওয়ালা’ আদর্শ প্রতিবিম্বিত হয়।

‘সাদা কাপড়ে দাগ লাগলে বেশি দেখা যায়!’ তেমনি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা আলেমের নামে গুঞ্জন শুনলে অনেকেরই কান খাড়া হয়। নানা ঘটনায় সর্বসাধারণের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা, ধার্মিকতা ও মাদরাসার ছাত্র, আলেম-উলামা, ইমাম-মুয়াজ্জিনের মতো ব্যক্তিত্ব নিয়ে কটাক্ষ ও জিজ্ঞাসা তৈরি হয়। অনেকে এ সুযোগে করেন খিস্তিখেউড়!

একজন আলেম মহান আল্লাহকে ভয় করেন তাঁর বিধানাবলি জেনে-বুঝে, যুক্তিসংগত কারণে, অধিকমাত্রায় ও আন্তরিকতার সঙ্গে। পবিত্র কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমরা আল্লাহকে (বেশি) ভয় করে।’ (সুরা ফাতির, আয়াত : ২৮)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আলেম যিনি...আল্লাহর বিধানের হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মনে করেন।’ (ইবনে কাসির)

ইবনে আব্বাস (রা.) আরো বলেন, ‘বেশি হাদিস জানার নাম ইলম নয়; বরং বেশি আল্লাহভীরুতা হলো ইলম। (ইবনে কাসির)। কেননা রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করেছে, যার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, অথচ সে শুধু দুনিয়া হাসিলের উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করে, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না।’ (আবু দাউদ)

নিষ্ঠাবান ও পরিশুদ্ধ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আলেমরা হলেন পবিত্র ওয়াহির ধারক-বাহক এবং হাদিসের ভাষায় ‘নবীদের উত্তরাধিকার’। এ জন্য একজন আলেমের মধ্যে ন্যূনতম নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্য থাকা জরুরি।

ইসলামের পরিপূর্ণ-পূর্ণাঙ্গ অনুসারী হওয়া।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বিষয়াদি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের অগাধ জ্ঞান থাকা।

অনুকরণীয় ও আদর্শবান হওয়া।

দুনিয়াবিমুখ ও পরকালমুখী হওয়া।

তাঁর কথা ও কাজে মিল থাকা।

ধর্মীয় সূক্ষ্ম বিষয়ে প্রকৃত ও গভীর জ্ঞান থাকা।

সমসাময়িক বিষয়াদি সম্পর্কে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দানে সক্ষম হওয়া।

জ্ঞানের কারণেই মানুষ হয় নন্দিত, যার মূল উৎস ‘ওয়াহি’ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর ‘সুন্নাহ’। ASK অর্থ জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন এবং এর মধ্যে জ্ঞান-প্রজ্ঞার রহস্যের সন্ধান মিলে A-Attitude (দৃষ্টিভঙ্গি) S-Skill (দক্ষতা) K-Knowledge (জ্ঞান) এবং এগুলোর সমন্বয়ে তৈরি হয় যোগ্যতা। একজন আলেমের মধ্যে এসবের সমাহার ঘটে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ০৯)

তিনি আরো বলেন, ‘যাকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তাকে প্রভুত কল্যাণ দান করা হয়েছে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৬৯)

অন্যদিকে একজন আলেমকে সৌজন্যশীল, বিনয়ী ও ধৈর্যের অধিকারী হতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তোমার প্রজ্ঞা কৌশল ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে (মানুষকে) তোমার প্রভুর দিকে আহ্বান করো।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১২৫)

বস্তুত মাদরাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা আমাদের সমাজের একেকজন অভিভাবক ও দিশারী। তাঁদের ভুল-ত্রুটি, সামান্য অসচেতনতা সমাজের চোখে মস্তবড় অপরাধ। তাই আলেমসমাজের কাছে প্রত্যাশা, কেউ যেন তাঁদের গায়ে কলঙ্ক লেপন করতে না পারে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর।

 



সাতদিনের সেরা