kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

ধারাবাহিক তাফসির

ফেরাউনের প্রতি হিদায়াতের দাওয়াত

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহান আল্লাহ মুসা ও হারুন (আ.)-এর প্রতি এই মর্মে নির্দেশ দেন—

৪৩. তোমরা উভয়ে ফেরাউনের কাছে যাও, কেননা সে সীমা লঙ্ঘন করেছে।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪৩)

 

তাফসির : আগের আয়াতে মুসা (আ.) ও হারুন (আ.) দ্বিন প্রচারে যাত্রা শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে তাঁদের ফেরাউনের কাছে দ্বিনের দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে যে ফেরাউন সীমা লঙ্ঘনকারী। সীমা লঙ্ঘন করতে করতে সে নিজেকে খোদা দাবি করেছে। কাজেই খুবই সতর্কতার সঙ্গে তার কাছে দ্বিনের কথা, হিদায়াতের কথা প্রচার করতে হবে।

ফেরাউন কোনো ব্যক্তির নাম নয়। এটি তত্কালীন মিসরের সম্রাটদের উপাধি। কিবতি বংশীয় এই সম্রাটরা কয়েক শতাব্দীব্যাপী মিসর শাসন করেছেন। এ সময় মিসর সভ্যতা-সমৃদ্ধির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিল। লাশ মমি করা, পিরামিড তৈরি প্রভৃতি তাদের সময়কার বৈজ্ঞানিক উন্নতির প্রমাণ বহন করে। মুসা (আ.)-এর সময় পর পর দুজন ফেরাউন ছিল। লুইস গোল্ডিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, জালিম ফেরাউনের নাম ছিল দ্বিতীয় রামাসিস। আর ডুবে মরা ফেরাউন ছিল তার পুত্র মানেপতাহ বা মারনেপতাহ। লোহিত সাগরসংলগ্ন তিক্ত হ্রদে সে সসৈন্যে ডুবে মারা যায়, যার মমি ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয়। সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিম তীরে ‘জাবালে ফেরাউন’ নামে একটি ছোট পাহাড় আছে। এখানেই ফেরাউনের লাশ সর্বপ্রথম পাওয়া যায় বলে জনশ্রুতি আছে। এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকার নিবন্ধে বলা হয়েছে, থেবস নামক স্থানের সমাধি মন্দিরে ১৮৯৬ সালে একটি স্তম্ভ আবিষ্কৃত হয়। এর মধ্যে মারনেপতাহর আমলের কীর্তিগুলো লিপিবদ্ধ ছিল। তারপর ১৯০৬ সালে ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ স্যার ক্রাঁফো ইলিয়ট স্মিথ মমিগুলো খুলে মমীকরণের কলাকৌশল অনুসন্ধান শুরু করেন। তিনি ৪৪টি মমি পরীক্ষা করেন। অবশেষে ১৯০৭ সালে তিনি ফেরাউন মারনেপতাহর লাশ শনাক্ত করেন। ওই সময় তার লাশের ওপর লবণের একটি স্তর জমেছিল। এটি দেখে সবাই স্তম্ভিত হয়ে যান। এর কারণ হলো, অন্য কোনো মমির দেহে এরূপ পাওয়া যায়নি। এ লবণের স্তর যে সাগরের লবণাক্ত পানি, তা বলাই বাহুল্য। এ গবেষণার মধ্য দিয়ে সুরা ইউনুসের ৯২ নম্বর আয়াতের বক্তব্য দুনিয়াবাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। সেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আজ আমি তোমার দেহকে (বিনষ্ট হওয়া থেকে) বাঁচিয়ে দিলাম, যাতে তুমি পরবর্তীকালের মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারো।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৯২)

ফেরাউনের লাশ আজও মিসরের পিরামিডে রক্ষিত আছে। এটি দেখে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। (নবীদের কাহিনী)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

মন্তব্য