• ই-পেপার

ব্যঙ্গাত্মক নামে ডাকা মারাত্মক গুনাহ

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৬১

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

তারা কি অনুধাবন করে না যে আল্লাহ যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এই সবার সৃষ্টিতে কোনো ক্লান্তি বোধ করেন নাই, তিনি মৃতের জীবন দান করতেও সক্ষম? বস্তুত তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।...তারা যেন দিনের এক দণ্ডের বেশি পৃথিবীতে অবস্থান করেনি। এটা এক ঘোষণা, পাপাচারী সম্প্রদায়কেই ধ্বংস করা হবে। (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ৩৩-৩৫)

আয়াতে পরকালে অবিশ্বাসীদের সত্য স্বীকারের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. আরবের কাফিররা এটা স্বীকার করত যে আল্লাহ আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তারা পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করত। অথচ নতুন সৃষ্টির তুলনায় পুনরুত্থান সহজ।

২. অদৃশ্যের বিষয়গুলো অদৃশ্য থাকা অবস্থায় ঈমান আনা আবশ্যক। তা দৃশ্যমান হওয়ার পর ঈমান আনলে গ্রহণযোগ্য হবে না। যেমনজান্নাত ও জাহান্নাম।

৩. অবিশ্বাসীদের শাস্তি কামনায় তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। কেননা মুসলমানদের মনোতুষ্টির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) কাফিরদের দ্রুত শাস্তি কামনা করলে তাঁকে সতর্ক করা হয়।

৪. দ্বিনি কাজে কষ্ট সহ্য করা এবং ধৈর্য ধারণ করা নবী-রাসুলদের বৈশিষ্ট্য। তাই মুমিন দ্বিনি কাজে বাধা পেলে হতাশ হবে না।

৫. পরকালে মানুষ উপলব্ধি করবে পার্থিব জীবন খুব সংক্ষিপ্ত ছিল এবং তাদের মনে হবে কিয়ামত তাৎক্ষণিকভাবে এসে গেছে। (মাআরেফুল কোরআন : ৭/৮১১)

মক্কায় হিজরে ইসমাঈলে প্রবেশের নতুন সময়সূচি

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মক্কায় হিজরে ইসমাঈলে প্রবেশের নতুন সময়সূচি

পবিত্র কাবা শরিফসংলগ্ন ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান হিজরে ইসমাঈল (আ.)-এ প্রবেশের জন্য পুরুষ ও নারীদের পৃথক সময়সূচি ঘোষণা করেছে দুই পবিত্র মসজিদবিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সি। গ্র্যান্ড মসজিদের অভ্যন্তরে চলাচল আরো সুশৃঙ্খল করা এবং মুসল্লিদের জন্য ইবাদতের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, নারীরা প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত হিজরে ইসমাঈলে প্রবেশ করতে পারবেন। অন্যদিকে পুরুষদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত।

প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, হিজরে ইসমাঈলে প্রবেশের সময় নির্ধারণের মূল লক্ষ্য হলো মুসল্লি ও ওমরাহ হজ পালনকারীদের স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ইবাদত করার সুযোগ করে দেওয়া। একই সঙ্গে মসজিদুল হারামের তাওয়াফ এলাকা ও আশপাশের অংশে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করাও এ ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, দুই পবিত্র মসজিদে আসা মুসল্লিদের জন্য সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করতে তারা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে। হিজরে ইসমাঈলে প্রবেশের এই নতুন সময়সূচিও সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

উল্লেখ্য, হিজরে ইসমাঈল (আ.) কাবা শরিফের উত্তর পাশে অবস্থিত অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীরবেষ্টিত একটি পবিত্র স্থান। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী এটি কাবা শরিফের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে এখানে নামাজ আদায় ও ইবাদত করার জন্য মুসল্লিদের বিশেষ আগ্রহ লক্ষ করা যায়। নতুন এ সময়সূচির মাধ্যমে মুসল্লিদের ইবাদতের পরিবেশ আরো সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

মেক্সিকোতে ইসলাম প্রচারের ইতিহাস

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা
মেক্সিকোতে ইসলাম প্রচারের ইতিহাস

উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর দাপ্তরিক নাম ইউনাইটেড মেক্সিকান স্টেটস। এর উত্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ-পূর্বে গুয়াতেমালা ও বেলিজ, পূর্বে মেক্সিকো উপসাগর ও ক্যারিবীয় সাগর এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের অবস্থান। ভূ-প্রাকৃতিকভাবে মেক্সিকো অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। দেশটিতে বিস্তৃত মালভূমি, আগ্নেয়গিরি, পর্বতমালা, মরুভূমি, উষ্ণমণ্ডলীয় বনভূমি ও দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে। মেক্সিকোর অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো উৎপাদনশিল্প, তেল ও গ্যাস, অটোমোবাইলশিল্প, কৃষি, পর্যটন। মেক্সিকোর আয়তন প্রায় ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৫ বর্গকিলোমিটার। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। মেক্সিকো সিটি দেশটির সর্ববৃহৎ শহর ও রাজধানী। মেক্সিকোর বেশির ভাগ মানুষ খ্রিস্টধর্মের অনুসারী। দেশটিতে ১০ হাজারের মতো মুসলমান রয়েছে।

ইতিহাস বলে, আমেরিকায় মুসলিম আগমনের সূচনা হয়েছিল সেখানে স্প্যানিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তখন স্পেন থেকে নির্বাসিত মুসলিমদের দাস ও শ্রমিক হিসেবে আমেরিকা মহাদেশে নিয়ে আসা হয়েছিল। তারাই ছিল মেক্সিকোসহ এই অঞ্চলের প্রথম মুসলমান। ১৫২১ খ্রিস্টাব্দে স্প্যানিশদের হাতে মেক্সিকোর অ্যাজটেক সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে আমেরিকা মহাদেশে নিউ স্পেনের উদয় হয়। স্প্যানিশরা নতুন উপনিবেশ পরিচালনা করতে এবং এখানের উর্বর ভূমিগুলো চাষাবাদ করতে স্পেন থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিমকে দাস ও শ্রমিক হিসেবে নিয়ে আসে। এ ছাড়া আফ্রিকান উপকূলীয় মুসলিম অঞ্চল থেকে মুসলিমদের ধরে এনে দাসে রূপান্তর করা হতো। তাদের মাধ্যমেই মেক্সিকোতে প্রথম ইসলামের আগমন ঘটেছিল।

স্প্যানিশরা শুধু মুসলিম দাসদের আমেরিকায় নিয়ে আসেনি, বরং ৭০০ বছরের শাসনামলে মুসলিমরা স্পেনে যে উন্নত সমাজ, সভ্যতা ও প্রযুক্তি গড়ে তুলেছিল তাও সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। যার মধ্যে মুসলিম স্থাপত্য ও কারুশিল্প ছিল অন্যতম। যেমনমুদেজার শৈলী, যা গোথিক ও ইসলামী শৈলীর মিশ্রণে গড়ে উঠেছে। এতে অশ্বখুরাকৃতির খিলান, জ্যামিতিক টালি ও অ্যারাবিস্ক অলংকরণের সংমিশ্রণ দেখা যায়। ঔপনিবেশিক আমলের প্রথম দিকের অবকাঠামোতে মুদেজার শৈলী প্রয়োগ দেখা যায়। স্পেন থেকে নিয়ে আসা কারিগর ও শিল্পীরা এসব স্থাপনা তৈরি করেছিল। অনুমান করা যায়, তাদের অনেকেই হয়তো মুসলিম ছিল। মেক্সিকো সিটির কপিলা দেল পোসিতোতে এখনো মুদেজার শৈলীতে নির্মিত স্থাপনা টিকে আছে।

মেক্সিকোর মুসলিম ইতিহাসের একটি মানবিক অধ্যায় মোরিস্কো। আফ্রিকান মুর শব্দ থেকেই এই শব্দের উৎপত্তি। গ্রানাডার পতনের মাধ্যমে স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসান হলে মুসলমানের সামনে দুটি পথ খোলা রাখা হয় : হয়তো ধর্মান্তর, নয়তো দেশান্তর। অস্তিত্ব সংকটে পড়ে একদল মুসলিম প্রকাশ্যে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে। কিন্তু তারা গোপনে ইসলামচর্চা অব্যাহত রাখে। এসব খ্রিস্টরূপী মুসলমানদের মোরিস্কো বলা হতো। খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দিলেও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। ১৬০৯ খ্রিস্টাব্দে রাজা তৃতীয় ফিলিপ তাদের বহিষ্কারের আদেশ দেন। ১৫৩০ থেকে ১৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বহুসংখ্যক মোরিস্কো দাস, শ্রমিক ও কারিগর হিসেবে মেক্সিকোতে আগমন করেছিল। ১৬০৯ থেকে ১৬১৪ সালে মধ্যে প্রায় এক হাজার মোরিস্কো মেক্সিকোতে এসে পৌঁছেছিল।

প্রবাসে এসেও মোরিস্কো বা গোপন মুসলিমদের স্বস্তি ছিল না। ১৫৭১ খ্রিস্টাব্দে মেক্সিকো সিটিতে প্রতিষ্ঠিত মেক্সিকান ইনকুইজিশন (স্প্যানিশ ক্যাথলিক আদালতের সম্প্রসারিত রূপ) প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ধরনের ইসলাম পালন নিষিদ্ধ করেছিল। তারা মোরিস্কোদের ওপর কঠোর নজরদারি করত। তদন্তে ইসলাম পালনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হতো। ১৬২৩ খ্রিস্টাব্দে আলেক্সো ডে ক্যাস্ত্রোকে গোপনে ইসলাম অনুশীলনের অভিযোগে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। ফলে খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগের পর মেক্সিকোতে মুসলমানদের টিকে থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় না।

২০০ বছর পর বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মেক্সিকোতে আবার মুসলমানের আগমন শুরু হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। তখন কিছুসংখ্যক মুসলমান মেক্সিকোতে পাড়ি জমায়। তারা মূলত অর্থনৈতিক কারণেই মেক্সিকোতে এসেছিল। ফলে তারা মেক্সিকো সিটি, ভেরাক্রুজ, পুয়েবলা ও ইউকাতনের মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে বসতি স্থাপন করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আরো কিছু মুসলিম আরব মেক্সিকোতে আসে। তার পরও ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা এক হাজারেরও নিচে রয়ে যায়।

মেক্সিকোতে ইসলামী দাওয়াহ কার্যক্রম প্রকৃত অর্থে গতি পায় ১৯৬০-এর দশকের পর। এ ক্ষেত্রে বিদেশি সুফি গোষ্ঠীগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭৮ সালে স্পেনের মুরাবিতুন নামের সুফি আন্দোলন মেক্সিকোতে সংগঠিত দাওয়াহ কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৮০-এর দশকে মেক্সিকো সিটিতে সালাফি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া পাকিস্তান ও মিসর থেকে আসা আলেম, আলোচক ও বক্তারাও মেক্সিকো সিটিসহ বিভিন্ন নগর এলাকায় ইসলামী সাহিত্য বিতরণ এবং ধর্মীয় আলোচনাসভার আয়োজন করেন। ফলে ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ছোট ছোট মুসলিম ধর্মান্তরিত গোষ্ঠী গড়ে ওঠে।

১৯৮৯ সালে কোয়াহুলিয়ায় সুরাইয়া মসজিদ, যা মেক্সিকোর প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৫ সালে সেন্ট্রো কালচারাল ইসলামিকো ডে মেক্সিকো (সিসিআইএম) প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি ইসলামী গ্রন্থের স্প্যানিশ অনুবাদ এবং সমন্বিত দাওয়াহ কর্মসূচি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।                     সূত্র : বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

মুমিনের আত্মপর্যালোচনার এখনই সময়

উম্মে আহমাদ ফারজানা
মুমিনের আত্মপর্যালোচনার এখনই সময়

মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, সৌন্দর্য কিংবা খ্যাতি নয়; বরং মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সময়। কারণ হারিয়ে যাওয়া সম্পদ ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু চলে যাওয়া একটি মুহূর্তও কখনো ফিরে আসে না। দিন ও রাতের অবিরাম আবর্তন, মাস ও বছরের পরিবর্তন, শৈশব থেকে যৌবন এবং যৌবন থেকে বার্ধক্যের দিকে ধাবিত হওয়াএসব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমরা এই পৃথিবীতে স্থায়ী নই; বরং একটি নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছি।

প্রতিটি সূর্যোদয় যেন আমাদের জীবনের একটি নতুন পৃষ্ঠা খুলে দেয় এবং প্রতিটি সূর্যাস্ত সেই পৃষ্ঠার হিসাব বন্ধ করে দেয়। তাই একজন সচেতন মুমিনের জন্য সময়ের প্রবাহ শুধু ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক গুরুত্বপূর্ণ আহবান। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ করে যে আগামীকালের জন্য সে কী প্রেরণ করেছে।

(সুরা : হাশর, আয়াত : ১৮)

সময়ের পরিবর্তনে মানুষের জন্য শিক্ষা

আল্লাহ তাআলা এই পৃথিবীকে পরিবর্তনের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুখের পর দুঃখ, দুঃখের পর সুখ, শক্তির পর দুর্বলতা, যৌবনের পর বার্ধক্য এবং জীবনের পর মৃত্যুএসবই আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, তোমরা অবশ্যই এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় উত্তীর্ণ হবে। (সুরা : ইনশিকাক, আয়াত : ১৯)

একটি ঋতু আসে, মানুষ তার জন্য প্রস্তুতি নেয়; একটি ঈদ আসে, মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে; কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সবকিছু অতীত হয়ে যায়। যারা একদিন একত্র ছিল, তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যে ঘর একদিন মানুষের কোলাহলে মুখর ছিল, তা একদিন নীরব হয়ে যায়। এভাবেই জীবন আমাদের শিক্ষা দেয় যে এই পৃথিবী চিরস্থায়ী আবাস নয়; বরং এটি পরীক্ষার ক্ষেত্র।

দিন-রাতের পরিবর্তনে আল্লাহর নিদর্শন

যারা চিন্তাশীল, তারা দিন ও রাতের পরিবর্তনের মধ্যে আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন দেখতে পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাতের পরিবর্তনে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।

(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯০)

এরপর আল্লাহ তাঁদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন, যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯১)

সুতরাং প্রকৃত মুমিন সময়ের পরিবর্তন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং নিজের আমল পর্যালোচনা করে।

নতুন হিজরি বছর আত্মসমালোচনার সময়

একটি বছর চলে গেছে, আরেকটি বছর শুরু হয়েছে। এ সময়টি শুধু নতুন ক্যালেন্ডারের সূচনা নয়; বরং নতুন জীবন গড়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ। এই সময়ে একজন মুমিন নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেগত বছরে আমি কী অর্জন করেছি? আমার সালাত, তিলাওয়াত ও ইবাদতের অবস্থা কেমন ছিল? আমি কত মানুষের উপকার করেছি? কত পাপ থেকে তাওবা করেছি? যদি আজ আমার মৃত্যু হয়, আমি কি প্রস্তুত?

আল্লাহ তাআলা বলেন, যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃত ভালো ও মন্দ কাজ সামনে উপস্থিত পাবে। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৩০)

তাই নতুন বছরের সূচনা হওয়া উচিত আন্তরিক তাওবা, ইস্তিগফার এবং নেক আমলের দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে।

ডিজিটাল যুগে সময় অপচয়ের ভয়াবহতা

বর্তমান যুগে মানুষের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো সময়ের অপচয়। হাতে থাকা স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের অজান্তেই তার জীবনের অমূল্য মুহূর্তগুলো গ্রাস করছে। দিন-রাত স্ক্রিনের সামনে কাটতে কাটতে অনেকেই ভুলে যাচ্ছেকোরআন তিলাওয়াত, জ্ঞানার্জন, পরিবারকে সময় দেওয়া, আত্মউন্নয়ন, সমাজ ও উম্মাহর জন্য কাজ করা ইত্যাদি। একটি নোটিফিকেশন থেকে আরেকটি ভিডিও, একটি সংবাদ থেকে আরেকটি বিতর্কএভাবেই মূল্যবান জীবন ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে বেশির ভাগ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত্তসুস্বাস্থ্য ও অবসর সময়।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

অতএব, আসুন আমরা আমাদের অতীত ভুলত্রুটির জন্য আন্তরিকভাবে তাওবা করি, মহররম ও আশুরার ফজিলতপূর্ণ আমলগুলো পালন করি, সময়ের সঠিক ব্যবহার করি এবং ডিজিটাল বিভ্রান্তি থেকে নিজেদের রক্ষা করি। আমরা যেন প্রতিটি দিনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি নতুন সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সময়ের মূল্য উপলব্ধি করার, নেক আমলে জীবনকে সমৃদ্ধ করার এবং উত্তম পরিণতি লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।