kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ মাঘ ১৪২৭। ২৬ জানুয়ারি ২০২১। ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

জয়পুরহাটে সাত শ বছরের পরিত্যক্ত মসজিদে নামাজ শুরু

আতাউর রহমান খসরু   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয়পুরহাটে সাত শ বছরের পরিত্যক্ত মসজিদে নামাজ শুরু

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার শত বছরের প্রাচীন ও পরিত্যক্ত মসজিদে আবারও আজান ও নামাজ আদায় শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) জোহর নামাজের জামাতের মাধ্যমে নতুন যাত্রা শুরু হয় প্রাচীন মসজিদটির। জামিয়া ইসলামিয়া আজিজিয়া আনওয়ারুল উলুমের অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুল হুদা খান জামাতের ইমামতি করেন। ইকামত দেন ড. একলিমুর রেজা এবং আজান দেন মুফতি জোবায়ের আহমদ। এ সময় স্থানীয় মান্যবর ব্যক্তি, আলেম-উলামা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিতি ছিলেন। এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার পাঠানপাড়ায় অবস্থিত এ মসজিদটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। তাঁদের ধারণা, প্রায় সাত শ বছর আগে সুলতানি আমলে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। মসজিদের সামনে পাকা ঘাট বাঁধানো প্রাচীন পুকুরও রয়েছে, যা দেখে ধারণা হয় প্রাচীনকালে এখানে হয়তো কোনো সমৃদ্ধ নগর ছিল। 

‘পাঠানপাড়া মসজিদ’ খ্যাত পরিত্যক্ত মসজিদ আবাদের মূল উদ্যোক্তা স্থানীয় আলেম ড. একলিমুর রেজা। মসজিদ ও আশপাশের জমির মালিকানা তাঁর বাবা ও চাচার মালিকানাধীন। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, ১৯৭২ সালে তাঁর বাবা ও বড় চাচা হিন্দু মালিকদের কাছ থেকে পাঁচ একরের মতো ভূমি কেনেন। তবে ব্রিটিশ আমল থেকে ভূমির কিছু অংশ মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তখন ভূমি অফিসের দায়িত্বশীলরা তাদেরকে মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক এবং অবশিষ্ট ভূমির মালিকানা প্রদান করে দলিল করে দেন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার আগে মসজিদের অবস্থা কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শৈশবে আমরা প্রাচীন মসজিদের অবকাঠামো দেখেছি। তখন ওপরের তিনটি গম্বুজও ছিল। তবে বিভিন্ন ধরনের বুনো গাছে তা ঢেকে ছিল। পরবর্তী সময়ে আমার বড় চাচা মসজিদের ওপরের বুনো গাছগুলো কেটে ফেলেন। সম্ভবত তখন অসতর্কতায় গম্বুজগুলো ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘদিন তা সেভাবেই পড়ে ছিল। এখন শুধু মসজিদের পশ্চিম দিকের দেয়াল অবশিষ্ট আছে। আমরা তা ঠিক রেখে শুধু মেঝেটা পরিষ্কার করে নিয়েছি। আপাতত প্রাচীন স্থাপত্য ভেতরে রেখে বাইরে টিনের বেড়া দিয়ে নামাজ আদায় করা হবে।’ তবে ঠিক কত দিন আগে এবং কী কারণে মসজিদটি পরিত্যক্ত হলো তা ঠিক বলতে পারেনি ড. একলিমুর রেজা।

মসজিদে আবার নামাজ শুরুর প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত আছেন ঢাকার আলেম মুফতি জোবায়ের আহমদ। শত বছর পর তিনিই পাঠানপাড়া মসজিদে প্রথম আজান দেন। মসজিদ আবাদের উদ্যোগ ও প্রথম আজান প্রদানের অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়ায় ভারতের প্রখ্যাত দায়ি আল্লামা কালিম সিদ্দিকির কাছে ড. একলিমুর রেজা মসজিদের অবস্থা তুলে ধরেন। তখন তিনি মসজিদে পুনরায় আজান ও নামাজ শুরু করার উদ্যোগ নিতে বলেন। তাঁর নির্দেশ ও পরামর্শেই আমরা মসজিদ আবাদ করার উদ্যোগ নিই। আলহামদুলিল্লাহ! দীর্ঘ চেষ্টার পর সেখানে আবার নামাজ শুরু করা গেছে এবং আল্লাহ আমাকে প্রথম আজান দেওয়ার তাওফিক দিয়েছেন। পরিত্যক্ত মসজিদে নামাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় মুসলিমরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এমনকি প্রতিবেশী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পর্যন্ত আমাদের স্বাগত জানাতে এগিয়ে আসেন।’

মঙ্গলবার মসজিদের সঙ্গে একটি মাদরাসারও উদ্বোধন হয়েছে। ড. একলিমুর রেজা জানান, তাঁরা সেখানে ইসলামিক কমপ্লেক্স করতে চান। যেখানে মসজিদ, মাদরাসা, গণপাঠাগারসহ একাধিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। মসজিদ ও মাদরাসার প্রাথমিক কাজের জন্য প্রয়োজন প্রায় ২২ লাখ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা