kalerkantho

সোমবার । ৩ কার্তিক ১৪২৭। ১৯ অক্টোবর ২০২০। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কুয়েতে ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের সংখ্যা বাড়ছে

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুয়েতে ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের সংখ্যা বাড়ছে

উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কুয়েত। প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘দাওলাতু কুয়েত’ বা স্টেট অব কুয়েত। অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের মতোই কুয়েত মরু অধ্যুষিত ও তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশ। জাতীয় আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল খাত থেকে আসে। ৯টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত কুয়েত রাষ্ট্রের মোট আয়তন ১৭,৮১৮ বর্গকিলোমিটার। বুবিয়ান কুয়েতের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। রাজধানী কুয়েত সিটি। কুয়েত পৃথিবীর সপ্তম এবং আরব উপদ্বীপের দ্বিতীয় ধনী রাষ্ট্র। কুয়েতের উত্তরে রয়েছে ইরাক, দক্ষিণে সৌদি আরব এবং অন্যদিকে আছে পারস্য উপসাগর ও কুয়েত সাগর। কুয়েতের মোট জনসংখ্যা ৪.৫ মিলিয়ন, যার মধ্যে ৩.২ মিলিয়নই বহিরাগত। কুয়েতের ৭৪.৩৬ শতাংশ মানুষ মুসলিম, ১৮.১৭ শতাংশ খ্রিস্টান এবং ৭.৪৭ শতাংশ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

কুয়েতের বিভিন্ন অঞ্চল খনন করে মধ্যপ্রস্তর যুগের বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে। তাই ধারণা করা হয়, কুয়েতে মানুষের পা পড়েছিল ঐতিহাসিক আমলে। তবে ইতিহাসে কুয়েতের প্রথম লিখিত অস্তিত্ব পাওয়া খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে। যখন গ্রিক বীর আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট আরব অঞ্চল জয় করেছিলেন। তিনি কুয়েতের ফিলকা দ্বীপ জয় করেছিলেন। ফিলকা দ্বীপে গ্রিক মন্দিরেরও ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে কুয়েতের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল মুসলিমদের হাতে। ১৬১৩ সালে কুয়েত সিটির গোড়াপত্তন হয়। তখন স্থানীয় শেখরা কুয়েত শাসন করত। ১৭১৬ সালে বনি উতাব কুয়েতে বসতি স্থাপন করে এবং তাদের হাত ধরে কুয়েতের আর্থিক সমৃদ্ধি শুরু হয়।

 

কুয়েতে ইসলামের আগমন : দিগ্বিজয়ী মুসলিম বীর খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) ১২ হিজরিতে সাসানিদের পরাজিত করে কুয়েতকে মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। উত্তর কুয়েতের কাজিমা নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সাসানি বীর ও নেতা হরমুজ নিজে এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। এর পর থেকে কুয়েত আরব উপদ্বীপের অংশ হিসেবে উমাইয়া ও আব্বাসীদের দ্বারা শাসিত হয়, যত দিন না কারামাতিয়া রাজবংশ আব্বাসীয়দের পরাজিত করে কুয়েতের দখল নেয়। খ্রিস্টীয় পনেরো শতকের শেষ ভাগে কুয়েতে গোত্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় কাজিমের সমুদ্রবন্দর পূর্ব আরব উপদ্বীপের প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কুয়েত দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করেছে। ১৫০৭ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগিজরা হরমুজ প্রণালি ও কুয়েত উভয়টির দখল নেয়। ১৬৪৯ সালে ওমানের সুলতান নাসির বিন মুর্শিদের সহায়তায় কুয়েত পর্তুগিজদের দখলমুক্ত হয়।

 

কুয়েত দখলের নানা প্রচেষ্টা : এরপর কুয়েতে দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্থান-পতন হয়। কুয়েত উসমানীয়দের অনুগত বাগদাদের শাসনাধীন হয়। তখন তা ইরাকের বসরা অঞ্চলের অন্তর্গত ছিল। ১৮৯০ সালে উসমানীয়রা কুয়েতের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের চেষ্টা করলে কুয়েতের শাসক মোবারক আস-সাবাহ ভারতীয় ব্রিটিশদের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ১৯৬১ সাল পর্যন্ত কুয়েত ব্রিটিশদের নিরাপত্তা গ্রহণ করে। ১৯১৯-২০ কুয়েত-নজদ যুদ্ধের পর থেকে সৌদি আরবের ইবনে সৌদ পরিবার ১৯২৩ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য অবরোধ আরোপ করে। সৌদি আরবের বাণিজ্যিক ও সামরিক আক্রমণের লক্ষ্য ছিল কুয়েতের ভূমি নিজের সীমানায় যুক্ত করা। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় কুয়েত ইরাককে সমর্থন করে। যুদ্ধ শেষে ইরাক কুয়েতকে ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষমা করার আবেদন করে। কুয়েত প্রত্যাখ্যান করলে উভয় দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। কুয়েত তেল উৎপাদন ৪০ শতাংশ বাড়ালে উভয় দেশের মধ্যে তিক্ততা আরো বাড়ে। জুলাই ১৯৯০ ইরাক তেল উৎপাদনকারী দেশের জোট ওপেকের কাছে অভিযোগ করে কুয়েত সীমান্তবর্তী ইরাকের ‘রুমাইলা তেলক্ষেত্র’ থেকে তেল চুরি করছে। আগস্ট ১৯৯০ ইরাকি বাহিনী কুয়েতে প্রবেশ করে এবং তার নিয়ন্ত্রণ নেয়। কুয়েতকে দখলমুক্ত করার কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযান শুরু করে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ ইরাকি বাহিনী কুয়েত ত্যাগে বাধ্য হয়।

 

কুয়েতে কমছে মুসলমানের সংখ্যা : কুয়েতের রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম হলেও সব ধর্মের অনুসারীরা ধর্মপালনে স্বাধীন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো কুয়েতে মুসলমানের হার কমছে। পিউফোরামের মতে, কুয়েতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের হার ক্রমহ্রাসমান। ২০১০ সালে কুয়েতে মুসলমানের হার ছিল ৭৪.১ শতাংশ, যা ২০৩০ সালে ৬৯.৬ শতাংশে নেমে আসবে। বিপরীতে কুয়েতে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের সংখ্যা বাড়ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ কুয়েতে হিন্দুদের সংখ্যা ৮.৫ শতাংশ থেকে ১০.৫ শতাংশে এবং বৌদ্ধদের সংখ্যা ২.৮ শতাংশ থেকে ৬.৫ শতাংশে উন্নীত হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা