kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যে পাহাড়ে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেন মুসা (আ.)

মুফতি তাজুল ইসলাম   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যে পাহাড়ে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেন মুসা (আ.)

প্রত্যেক নবী বিশেষ গুণ-বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহর নবী মুসা (আ.) আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ লাভ করেছিলেন। মুসা (আ.) তুর পর্বতের পাদদেশ থেকে ঐশী শব্দ শুনতে পান এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন। ওই পাহাড়ের নাম সিনাই পর্বত। পাহাড়টি ছিল মুসা (আ.)-এর ডান দিকে। কেননা তখন তিনি মাদিয়ান শহর থেকে মিসরের দিকে যাচ্ছিলেন। (ড. ওহাবা আজ-জুহাইলি, আততাফসিরুল মুনির : ৮/৪৫৫)

আল্লাহর সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথোপকথনের বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আমি তাকে ডেকেছিলাম [মুসা (আ.)] তুর পাহাড়ের ডান দিক থেকে এবং অন্তরঙ্গ আলাপে তাকে নৈকট্য দান করেছি।’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৫২)। এ আয়াতে মুসা (আ.)-এর সঙ্গে আল্লাহর সরাসরি কথোপকথনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এটা আল্লাহর দরবারে মুসা (আ.)-এর উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ। এ বিষয়টিকে আলোচ্য আয়াতে ‘আল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য সর্বমোট ১০৪ খানা কিতাব নাজিল করেছেন। তার মধ্যে তাওরাত, জাবুর, ইঞ্জিল ও কোরআন মজিদ শ্রেষ্ঠতম ও সবচেয়ে বড়। তাওরাত মুসা (আ.)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। তাওরাত প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর নির্দেশে মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে তিনি ৪০ দিন রোজা রেখেছেন। ইতিকাফ করেছেন। বর্ণিত আছে যে মুসা (আ.) মিসরে অবস্থানকালে বনি ইসরাঈলকে জানিয়েছেন যে আল্লাহ তাআলা তাদের শত্রুকে ধ্বংস করে দেবেন। এবং তাদের কিতাব দান করবেন। ওই কিতাবে আদেশ-নিষেধ, করণীয়-বর্জনীয়সংক্রান্ত বিধি-বিধান থাকবে। অতঃপর যখন ফেরাউন ধ্বংস হয়ে গেল, তখন মুসা (আ.) তাঁর প্রতিপালকের কাছে আসমানি কিতাব প্রার্থনা করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে প্রথমে ৩০ দিন ইতিকাফ ও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সেটি ছিল জিলকদ মাসে। রোজার কারণে সৃষ্ট মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে তিনি তাঁর প্রভুর দরবারে যাওয়া অপছন্দ করেন। তাই তিনি মিসওয়াক করে নেন। তখন ফেরেশতারা বলল, আমরা আপনার মুখ থেকে মেশকে আম্বরের সুঘ্রাণ উপভোগ করছিলাম, আর আপনি মিসওয়াক করে তা নষ্ট করে দিয়েছেন! তখন আল্লাহ তাআলা অতিরিক্ত আরো ১০ দিন রোজা ও ইতিকাফের নির্দেশ দেন। এই ১০ দিন ছিল জিলহজের প্রথম ১০ দিন। এ ঘটনা থেকে সুফিরা বলে থাকেন যে আত্মশুদ্ধি অর্জন ও অভ্যন্তরীণ অবস্থার সংশোধনের ক্ষেত্রে ৪০ দিনের একটা বিশেষ তাৎপর্য আছে। এক হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ৪০ দিন নিরলসভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তর থেকে জ্ঞান ও হিকমতের ঝরনাধারা প্রবাহিত করে দেবেন। (রুহুল বয়ান)। এ ছাড়া ৪০ দিন প্রথম তাকবিরের সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করলে কপটতা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা হাদিসে এসেছে।

মিসরের সিনাই উপদ্বীপের প্রত্যন্ত প্রান্তরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ তিনটি ধর্মের একটি আধ্যাত্মিক এবং ঐতিহাসিক স্মৃতিসংবলিত একটুকরা জায়গা আছে, যা আজও মানুষের কাছে সম্মানের, শ্রদ্ধার। সেটি দক্ষিণ সিনাইয়ের পর্বত। এই পর্বতটি ‘মুসার পর্বত’ নামেও পরিচিত।

চতুর্থ শতাব্দীতে কপটিক খ্রিস্টানরা এই পাহাড়ে একটি ছোট গির্জা প্রতিষ্ঠা করেছিল। তারা সেই জায়গায় গির্জা নির্মাণ করার কারণ হলো, তারা বিশ্বাস করত আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসা (আ.)-এর সঙ্গে এখানে কথা বলেছেন ‘আগুনের ফুলকি হয়ে’। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহর সঙ্গে মুসা (আ.)-এর কথোপকথনের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা