kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

হাই তোলার সময় করণীয়

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাই তোলার সময় করণীয়

অনেক সময় ক্লান্তি ও অলসতা থেকে মানুষ হাই তুলতে থাকে। তবে সব সময় হাই তোলা শুভকর নয়। অফিসের জরুরি মিটিং, কাজের সময়, যাত্রাপথে, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঝে হাই তোলা অসুন্দর। কখনো কখনো এটি মানুষকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। বিখ্যাত ব্যক্তিদের দ্বারা এমন ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে দুনিয়াজুড়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। একবার ভারতের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে হাই তুলে হাসির পাত্র হয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে হাই তোলার পক্ষে-বিপক্ষে বহু যুক্তি আছে। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে হাই তোলা কোনো ভালো কাজ নয়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। কাজেই তোমাদের কারো যখন হাই আসবে যথাসম্ভব তা রোধ করবে। কারণ তোমাদের কেউ হাই তোলার সময় যখন ‘হাঁ’ বলে, তখন শয়তান হাসতে থাকে। (বুখারি, হাদিস : ৩২৮৯)

বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত হাই তোলা কখনো কখনো বিপদের কারণ হতে পারে। কোনো রকম ক্লান্তি-অবসাদ ছাড়াই যখন হাই তোলার পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে লিভারের টেস্ট করিয়ে নেওয়া উচিত। পেটের নানা সমস্যায় হাই তোলার পরিমাণ অনেক সময় বেড়ে যায়।

কখনো কখনো মৃগী রোগের পূর্বাভাস হিসেবেও ঘন ঘন হাই উঠতে পারে। অনেক সময় স্ট্রোকের আগের অবস্থায়ও বেশি বেশি হাই ওঠে।

এ ছাড়া ক্লান্তি, ঘুমের ব্যাঘাত, মেদ, দুশ্চিন্তা ও ওষুধের প্রভাবেও মানুষের হাই আসতে পারে। তাই হাই এলে তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে নির্দেশ দিয়েছেন রাসুল (সা.)। বিশেষ করে নামাজের মধ্যে হাই তোলা একদমই উচিত নয়। এটি নামাজে মনোযোগ না থাকার আলামত। তাই নামাজের ভেতরে কখনো হাই এলে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নামাজের মধ্যে হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। তোমাদের কারো হাই এলে সে যেন তা ফেরানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৭০)

শুধু নামাজের ভেতরই নয়, নামাজের বাইরে হাই তোলাও রাসুল (সা.) পছন্দ করতেন না। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা হাঁচি দেওয়া পছন্দ করেন, আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। যদি তোমাদের কেউ হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে, তবে প্রত্যেক মুসলিম শ্রোতার তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা ওয়াজিব। আর হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। কাজেই তোমাদের কোনো ব্যক্তির হাই উঠলে সে যেন যথাসম্ভব তা রোধ করে। কেননা কেউ হাই তুললে শয়তান তার প্রতি হাসে। (বুখারি, হাদিস : ৬২২৬)

হাই আটকানোর পদ্ধতি

ভারতের মুম্বাইরের ইউনিক হাসপাতালের মেডিক্যাল ডিরেক্টর জুবিন ভাইদ বলেন, ‘হাই আটকানোর সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হচ্ছে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া ও একটু বেশি সময় ধরে শ্বাস ছাড়া। বুকের বদলে পেটের পেশি ব্যবহার করা। হাই না থামা পর্যন্ত এটা করতে থাকলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। হাই এলে নিজের জীবনের কিছু পুরনো ভালো স্মৃতি, যেগুলো আপনাকে আনন্দ দেয়, সেগুলো মনে করতে পারেন। কিংবা এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানীয়ও নিতে পারেন। চুইংগামও এসব পরিস্থিতিতে ভালো উপকার দেয়।’

উল্লেখ্য, নামাজের ভেতর হাই উঠলে যেহেতু পানি পান করা কিংবা পুরনো স্মৃতি মনে করার সুযোগ নেই, তাই গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার কৌশলটি অবলম্বন করা যেতে পারে। এ ছাড়া বিনম্র হয়ে নামাজে মনোযোগী হলেও হাই উঠা বন্ধ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা