kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দর্শকপ্রিয় মোগল স্থাপত্য

সাতগম্বুজ মসজিদ

শেখ আহমদ বিন মাসউদ   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাতগম্বুজ মসজিদ

সাতগম্বুজ মসজিদ একটি দর্শকপ্রিয় প্রাচীন স্থাপত্য। ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত প্রাচীন এই মসজিদ দেখতে প্রতিদিন হাজির হয় দেশি-বিদেশি অনেক দর্শনার্থী। দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ, বিস্তৃত প্রাঙ্গণ ও সামনের সুবিশাল ফুলবাগান দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। সতেরো শতকে নির্মিত সাতগম্বুজ মসজিদের নির্মাতা সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। জনশ্রুতি রয়েছে, শায়েস্তা খাঁর ছেলে উমিদ খাঁ ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করেন।

সাতগম্বুজ মসজিদ হিসেবে পরিচিত হলেও মসজিদের প্রধান গম্বুজ তিনটি। যা মূল প্রার্থনাকক্ষের ওপর স্থাপিত। চার কোণের টাওয়ারের ওপর আরো চারটি গম্বুজ রয়েছে। ২৬.৮২ মি. – ২৫.৬০ মি. পরিমাপের সামান্য উঁচু পাকা ভিতের পশ্চিম অংশজুড়ে মসজিদ এবং পূর্বাংশ খোলা প্রাঙ্গণ। তবে সামনের প্রাঙ্গণে নামাজ আদায় করা হয়। ভিতটি সামান্য উঁচু প্রাচীর দ্বারা সংরক্ষিত। পূর্ব প্রাচীরের মাঝ বরাবর একটি প্রবেশপথ রয়েছে। এর দুই পাশে রয়েছে সিঁড়ি। যাতে অলংকৃত ছোট মিনার রয়েছে। খিলানপথ বরাবর মসজিদের কেন্দ্রীয় প্রবেশপথ অবস্থিত।

আয়তাকার মসজিদটির ভেতরের পরিমাপ ১৪.৩৩ মি. – ৪.৮৮ মি.। কোণের অষ্টভুজি বুরুজগুলোর ওপর স্থাপিত ফাঁপা গম্বুজ মসজিদকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে তুলেছে। প্রধান প্রবেশপথ ছাড়াও নামাজকক্ষে প্রবেশের জন্য উত্তর ও দক্ষিণে রয়েছে আরো দুটি খিলানপথ। প্রধান প্রবেশপথ বরাবর পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে তিনটি অর্ধ-অষ্টভুজাকার মিহরাব। কেন্দ্রীয় মিহরাবের পাশে তিন ধাপ বিশিষ্ট পাকা মিম্বার রয়েছে।

মসজিদের অভ্যন্তর প্রশস্ত দুটি খিলান দ্বারা তিন ভাগে বিভক্ত। মাঝের ‘বে’টি বর্গাকার এবং পার্শ্ববর্তী আয়তাকার ‘বে’ দুটি অপেক্ষা বড়। মসজিদের ছাদ অষ্টভুজাকার ড্রামের ওপর স্থাপিত সামান্য কন্দাকার তিনটি গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। কেন্দ্রীয় গম্বুজটি অন্য দুটি অপেক্ষা বড়। গম্বুজের বক্রাকার ভিত্তি নির্মাণের জন্য পূর্ব ও পশ্চিম দেয়ালে অর্ধগম্বুজ ভল্ট তৈরি করে প্রথমে আয়তাকার স্থানটিকে বর্গাকারে রূপান্তর করা হয়েছে। এই অর্ধগম্বুজ ভল্টগুলোর সঙ্গে কোণের সারিবদ্ধ পেনডেন্টিভের ওপর ছোট গম্বুজগুলোর ভার ন্যস্ত করা হয়েছে।

মসজিদের কর্নার টাওয়ারগুলোয় ছোট মিনার (turrets) বিদ্যমান। দ্বিতল বুরুজগুলো নিজেরাই একেকটি স্বতন্ত্র ভবনের মতো। নিচের তলায় উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম অক্ষে চারটি খিলানপথ রয়েছে। নিচতলার ছাদটি অভ্যন্তরভাগে গম্বুজাকার হলেও এর ওপরের অংশের মেঝেটি সমতল। বিস্তৃত পদ্মচূড়া শোভিত গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত দ্বিতীয় তলা সামান্য পার্থক্যসহ একেবারেই নিচতলার মতো। নিচতলার মতো চারদিকে চারটি খিলানপথ থাকলেও ছাদের দিকে আরেকটি বাড়তি প্রবেশপথ রয়েছে।

মসজিদের অনুভূমিক প্যারাপেট ও গম্বুজের ড্রাম সারিবদ্ধ মেরলোন নকশায় শোভিত। পূর্ব ফাসাদ প্রচলিত মোগল রীতির প্যানেল দ্বারা সজ্জিত। মিহরাবগুলোর সম্মুখভাগ মনোরমভাবে খাঁজকাটা। কেন্দ্রীয় মিহরাবকে বেষ্টনকারী আয়তাকার ফ্রেমটির ওপরের দিকে রয়েছে বদ্ধ শিখরসদৃশ ফ্রিজ। সব গম্বুজের চূড়াই কলস ও পদ্মশীর্ষ সংবলিত এবং এদের অভ্যন্তরভাগের ভিত্তি পত্র নকশায় সজ্জিত। কেন্দ্রীয় গম্বুজের শীর্ষে রয়েছে পাঁচ স্তরবিশিষ্ট অলংকৃত বিশাল মেডালিয়ন। মসজিদটি তার বিভিন্ন অংশের জৌলুসময় সুবিন্যস্ততার জন্য আকর্ষণীয়।

তথ্যসূত্র : বাংলাপিডিয়া

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা