• ই-পেপার

দক্ষিণ কোরিয়ার কইকা স্কলারশিপের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে আবেদন আহ্বান

আইজিপির সঙ্গে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আইজিপির সঙ্গে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। 

সৌহার্দ্যপূর্ণ এই সাক্ষাৎকালে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহায়তা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের বিপুল সমর্থন ও ভালোবাসার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের জনসাধারণের এই ফুটবলপ্রীতি ও আবেগকে সম্মান জানিয়ে বিষয়টি বিশ্বব্যাপী প্রচার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি দুই দেশের পুলিশের মধ্যে পেশাগত সমন্বয় জোরদারসহ নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলপ্রীতিকে বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতের আগ্রহের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাড়ছে তিস্তার পানি, ডুবতে পারে যেসব জেলা

বাসস
বাড়ছে তিস্তার পানি, ডুবতে পারে যেসব জেলা
সংগৃহীত ছবি

উজানে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এরই মধ্যে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরগুলোতে ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। যা বর্তমানে ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।

রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধায় তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তবে এমন অবস্থা চলমান থাকলে আগামীকাল রবিবার সকালের মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা। এতে নদীর দুই তীর উপচে চরাঞ্চলের আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশংকায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন চরের কৃষকরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯ টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপচেলার দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২ মিটার। এ পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯ টায় এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল ৫১ দশমিক ৬৪ মিটার। 

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট ভারত খুলে দেয়ায় তিস্তার পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। এতে চরের অনেক কৃষকের আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তিস্তার পানি হুহু করে বাড়ছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোন সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। ‘যেহেতু উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসছে তাই তিস্তার পানি বাড়তেই থাকবে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক শামসুল হক বলেন, শনিবার ভোরে তিস্তার পানি তাদের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পানি আর একটু বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে তাতে যেকোন সময় বন্যা হতে পারে।

কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের চরটি ইতোমধ্যে নদীর পানিতে ডুবে গেছে। তারা এখনো বাড়িতে অবস্থান করছেন, তবে পানি আরেকটু বাড়লে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। গেল কয়েকদিন বৃষ্টি না হলেও প্রত্যেক রাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি হুহু করে আসছে।

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসার গতি দেখে মনে হচ্ছে এবার তিস্তাপাড়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। আমন ধানের চারার তৈরিকৃত বীজতলাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।

চর ইসলির কৃষক আমজাদ আলী বলেন, তার আবাদকৃত দেড় বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। পানি স্থায়ী হলে বড় লোকসান গুনতে হবে।

চর রাজপুরের কৃষক সুলাইমান আলী বলেন, চরে বিভিন্ন শাকসবজি আবাদ করা হয়েছে, কিন্তু হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে সেগুলো তলিয়ে যাওয়ায় এখন বিপাকে পড়ে গেছি।

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীপাড়ে ভাঙন পরিস্থিতি পযর্বেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম ও ঘাঘট নদীপাড়ে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপির হিসাব পদ্ধতি সংস্কার করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মূল্যস্ফীতি ও জিডিপির হিসাব পদ্ধতি সংস্কার করছে সরকার
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের অর্থনৈতিক সূচকের হিসাব আরো নির্ভুল ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করতে মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই), মজুরি হার সূচক এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাব পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দুটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। একই সঙ্গে অতীতে প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্যও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আয়োজিত সিপিআই, মূল্যস্ফীতি, মজুরি হার সূচক ও জিডিপি প্রণয়নবিষয়ক মতবিনিময়সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে নির্ভুল পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে বর্তমান হিসাব পদ্ধতি পর্যালোচনা করে আরো আধুনিক, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রণয়ন করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, অতীতে প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্যের মধ্যেও কোনো অসংগতি বা বিকৃতির সম্ভাবনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে এর উদ্দেশ্য কাউকে দায়ী করা নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তোলা। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে বাস্তবভিত্তিক তথ্য প্রকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ৭৪৯টি পণ্য ও সেবার মূল্যতথ্যের ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হিসাব করা হয়। শহর ও গ্রামের বিভিন্ন বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একাধিক ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আরো উন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করে মূল্যস্ফীতি নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মানুষের প্রকৃত ভোগব্যয়ের চিত্র আরো সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়।

বিবিএস কর্মকর্তারা জানান, গঠিত কারিগরি কমিটি বর্তমান সিপিআই ও জিডিপি প্রণয়ন পদ্ধতির বিস্তারিত মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ দেবে। পরে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা পরিসংখ্যান আইন-২০১৩ সংশোধন, নিয়মিত জরিপ পরিচালনা, পরিসংখ্যান খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদারের সুপারিশ করেন। তাদের মতে, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, উন্নয়ন পরিকল্পনা আরো কার্যকর হবে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।

সিলেটের মানুষ দেশকে যা দিয়েছে, তার প্রতিদান পায়নি : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের মানুষ দেশকে যা দিয়েছে, তার প্রতিদান পায়নি : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সিলেট অঞ্চলের মানুষ দেশকে যা দিয়েছে, সেই অনুযায়ী তারা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের প্রতিদান পায়নি। এটা নিয়ে এখন আমাদের সবাইকে আওয়াজ তুলতে হবে। সিলেটের সার্বিক উন্নয়নের জন্য দায়িত্ব নিয়ে এখানকার সব কৃতিজন, রাজনীতিবিদ ও আমলাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘সিলেটের কৃতিজন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘পুণ্যভূমি সিলেটের যে ১১৩ জন কৃতিজনের জীবনী এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছে, তাদের পাশাপাশি আরো অনেক শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও আমলা আছেন, যারা সমাজের জন্য অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাদের সেই অনন্য কাজ ও অবদান নিয়েও আগামীতে বই লেখা উচিত।’

নতুন প্রজন্মের মাঝে এই গৌরবময় ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব, সিলেটের কৃতি ও কৃতিত্ববান মানুষদের নিয়ে লেখা এসব বই যেন প্রতিটি লাইব্রেরিতে রাখা হয়, যাতে আমাদের যুবসমাজ সহজেই এই ইতিহাসের সংস্পর্শে আসতে পারে। তবে কেবল বই পৌঁছে দিলেই হবে না, তরুণদের মাঝে বই পড়ার নিয়মিত চর্চা বাড়াতেও আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ‘সিলেটের কৃতিজন’ গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক আলাউদ্দিন আল আজাদ তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘এই গ্রন্থ রচনার পেছনে আমাদের একটিই মূল প্রেরণা, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাসের আয়নার সামনে দাঁড় করানো। যেন তারা নিজেদের শিকড়কে দেখতে পায় এবং উপলব্ধি করতে পারে যে, তাদের পূর্বপুরুষরা কেবল নিজেদের জন্য নয়, বরং দেশ ও জাতির জন্য এক গৌরবময় ও ঈর্ষণীয় উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, এমপি, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, বাংলাদেশ বিচিত্রার প্রধান উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদসহ সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকবৃন্দ।