kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে অর্থায়নে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে অর্থায়নে জোর

করোনা মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরের জন্য আগের মতোই সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে বাজারে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিতের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিতমাত্রায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন এই মুদ্রানীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। করোনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবারও আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করা থেকে বিরত থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে মুদ্রানীতি নিয়ে গভর্নর ফজলে কবিরের লিখিত বক্তব্য ও মুদ্রানীতির ঘোষণাপত্র সাংবাদিকদের কাছে মেইলে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, করোনা মহামারির ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মানসম্মত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে সতর্কতার সঙ্গেই সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলানমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রসার না ঘটিয়ে অধিক উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থান সহায়ক খাত ও উদ্যোগগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

করোনার প্রভাবে মানুষের হাতে নগদ অর্থ ধরে রাখার প্রবণতা বৃদ্ধিতে অর্থের আয় গতি নিম্নমুখী থাকার কারণে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ব্যাপক মুদ্রার সীমা সামান্য কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ শতাংশ। গত মুদ্রানীতিতে ব্যাপক মুদ্রার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১৬.৬ শতাংশ। এর বিপরীতে অর্জন হয়েছে ১৩.৬ শতাংশ। ফলে নতুন অর্থবছরেও ব্যাপক মুদ্রার জোগান বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

করোনার অনিশ্চয়তামূলক পরিস্থিতির কারণে বেসরকারি খাতের ঋণ বাড়ছে বেশ মন্থর গতিতে। ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে নির্ধারিত ১৪.৮ শতাংশ ঋণ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকৃত অর্জন ৮.৪ শতাংশ। এ কারণে নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য আগের মতোই ১৪.৮ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে এটি গত মুদ্রানীতিতে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬.২ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরে বেসরকারি খাতে পর্যাপ্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এর পরিমাণ এক লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে গতবারের তুলনায় কমলেও এবার চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকব্যবস্থা সরকারের ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩৬.৬ শতাংশ। এর মানে বাজেটে নির্ধারিত ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ব্যাংকঋণই নিতে পারবে সরকার। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭.৮ শতাংশ।

নতুন মুদ্রানীতিতে ব্যাংকিং খাতে নিট অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও নিট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে যথাক্রমে ১৬.৫ শতাংশ ও ১০.৪ শতাংশ।

লিখিত বক্তব্যে গভর্নর বলেন, ‘বর্তমানে আমরা এমন একটা সময় অতিক্রম করছি যখন করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ অর্থনীতিতে একটি আতঙ্কময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব ও মুদ্রানীতির আওতায় গৃহীত নীতি সহায়তার ফলে ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ও তরল সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও করোনা মহামারির প্রভাবে সামষ্টিক অর্থনীতি এখনো প্রয়োজনীয় মাত্রায় ঘুরে দাঁড়ায়নি। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের রাজস্ব বাজেটে প্রক্ষেপিত ৭.২ শতাংশ জিডিপি অর্জনে আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৫.৩ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ভঙ্গি এবং অর্থ ও ঋণ কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে।’

প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণের অপব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, ‘চলমান বিধি-নিষেধের মধ্যে সরেজমিনে নিরীক্ষা কার্যক্রম অনেকটা শিথিল থাকায় প্রণোদনা প্যাকেজের অপব্যবহার নিয়ে এরই মধ্যে দেশের গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর অফ-সাইট নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্থিক খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং বিদেশে অর্থপাচার রোধকল্পে বিএফআইইউয়ের মাধ্যমে আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

চালু থাকবে নীতি সহায়তা : করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখনো অনিশ্চয়তাময় পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে। এরূপ পরিস্থিতিতে সিআরআর হ্রাসসহ মুদ্রানীতিতে ইতোপূর্বে যেসব শিথিলতা আনয়ন করা হয়েছিল, তা চলতি অর্থবছরেও বহাল থাকবে।

প্রণোদনায় গুরুত্বারোপ : করোনার প্রভাব মোকাবেলায় প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর সফল বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।