kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাণিজ্য ডেস্ক   

৩০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

টোকিওতে জাপান-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে রপ্তানিকেন্দ্রিক খাতগুলোতে বিনিয়োগের জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে জাপানি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য দেখতে চাই। এ ক্ষেত্রে জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে রপ্তানিকেন্দ্রিক খাতগুলোতে বিনিয়োগের জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের আহ্বান জানাই।’

তিনি গতকাল সকালে টোকিওতে জাপান-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের এ আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সুবিধা, বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ সুরক্ষা ইত্যাদির বিচারে একটি দ্রুত উদীয়মান আকর্ষণীয় বিনিয়োগস্থল হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আরো বেশি জাপানি বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। গেল বছর জাপান টোব্যাকোর বাংলাদেশে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এ রকম আরো বিনিয়োগ দেখতে চাই।’

বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি উদ্যোক্তা তৈরিতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগে, এটা দেশি বা বিদেশি হতে পারে।’

এশিয়ায় জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের কম্পানিগুলো এখন বাংলাদেশে ব্যবসার আগ্রহ দেখাচ্ছে। এই কম্পানিগুলো ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সম্পৃক্ত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সারা দেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে আড়াইহাজারে জাপানের বিনিয়োগকারীদের জন্যই একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, সরকার টু সরকার এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরীতে প্রচুর জায়গা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া আমরা মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, যার মাধ্যমে এটিকে একটি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি কেন্দ্র এবং শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। এই উদ্যোগগুলোতে চাইলে জাপান সহযোগিতা করতে পারে। তৈরি পোশাক শিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সফটওয়্যার শিল্পের সম্ভাবনা, কৃষিভিত্তিক পণ্য, পাটের তৈরি সামগ্রী, গৃহস্থালি সামগ্রী, হালকা প্রকৌশল, চামড়াজাত পণ্য এবং ওষুধশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি এসব খাতে জাপানি বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের সাফল্য সারা বিশ্বে সমাদৃত। বিশ্বে আমরা চীনের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। জাপানে এই কাপড়ই আমাদের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানি পণ্য এবং ২০১৮ সালে এই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সব প্রতিযোগী দেশকে ছাড়িয়ে প্রায় ৩৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দ্রুত শিল্পায়ন আমাদের বার্ষিক রপ্তানির হারকে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ করে তোলার সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। ম্যাকিনজে অ্যান্ড কম্পানি বাংলাদেশকে একটি অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল সোর্সিং ডেস্টিনেশন, উদীয়মান উৎপাদন শিল্প এবং সরবরাহ কেন্দ্র এবং ক্রমবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক এবং সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহম্মদ আজিজ খান আলোচনায় বক্তব্য দেন। এ ছাড়া, জাপানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (জেবিসিসিইসি) চেয়ারপারসন টিউরো আসাদা, জাইকার নির্বাহী সিনিয়র সহসভাপতি কাজুহিকো কোশিকাওয়া, জেটরো প্রেসিডেন্ট ইয়াসুশি আকাহোশি, সুমিটোমো করপোরেশনের সভাপতি এবং সিইও মাসাউকি হিউদোসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা গোলটেবিল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন।

সামিট গ্রুপ ও জেইআরএর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর : বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ এবং জাপানের এনার্জি ফর নিউ এরার (জেইআরএ) মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। সামিট গ্রুপের ফয়সাল করিম খান এবং জেইআরএর তোশিরো কোদোমা নগরীর একটি হোটেলে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বাসস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা