ভেনেজুয়েলায় গত বুধবার কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশটির সরকারের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মারা গেছে অন্তত এক হাজার ৪৩০ জন। আহত হয়েছে আরো তিন হাজার ২৩৮ জন। ৫১ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ।
স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার দেশটির সংসদ সদস্য হোর্হে রদ্রিগেজ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভবনের ধ্বংসাবশেষের মাঝে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রতি মুহূর্তে কমছে।
রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রে।
সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শত শত আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী এরই মধ্যে দেশটিতে এসে পৌঁছেছেন এবং আরো উদ্ধারকারী দল আসছে।
দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৫, যা গত এক শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। এর কয়েক সেকেন্ড আগের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.২।
কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল। এই রাজ্যে দেশের দুটি প্রধান সমুদ্রবন্দরের একটি এবং দেশের প্রধান বিমানবন্দর সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ধারণা করছে, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইএমএসসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, গত শুক্রবারও ভেনেজুয়েলায় আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ৪.৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির উত্তরের মারাকাই শহরের ৬১ কিলোমিটার (৩৬ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে। এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেছে, মারাকাই ও কারাকাসে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলা সরকার এক্সের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর থেকে বিধি-নিষেধ শিথিল করেছে। ২০২৪ সালে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর দেশটিতে এই বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ এবং ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারে অনুসন্ধান কার্যক্রমে চালাতে সংগঠিত হয়েছেন। কেউ কেউ তাঁদের ব্যক্তিগত যানবাহনকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন।
২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস বলেন, ‘স্থানীয়রাই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে জীবিতদের উদ্ধার করে আনছেন।’ জেনিফারের ছয় বছর বয়সী ছেলে এবং আরো পাঁচ স্বজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। তিনি বলেন, ‘কংক্রিটের বড় বড় স্ল্যাব সরাতে আমাদের ক্রেন দরকার। সেখানে এখনো মানুষ আটকা পড়ে আছে।’ সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, আল জাজিরা




