• ই-পেপার

উক্তি

ট্রাইব্যুনালে সেনা সদস্যের সাক্ষ্য

ইলিয়াস আলী গুমের ভয়ংকর বর্ণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইলিয়াস আলী গুমের ভয়ংকর বর্ণনা
ইলিয়াস আলী

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও তৎকালীন র‌্যাব কর্মকর্তা লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানের মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেনা সদস্য মো. ইমরুল কায়েস।

গতকাল রবিবার জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন ইমরুল কায়েস। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চলমান এ মামলায় জিয়াউল আহসান একমাত্র আসামি। ইমরুল কায়েসের জবানবন্দির সময় তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সাক্ষ্যে ইমরুল কায়েস বলেন, জিয়াউল আহসানের সঙ্গে থাকা অবস্থায় তিনি এক দিন তাঁকে ফোনে কথা বলতে দেখেন। সে সময় অন্য একটি ফোন এলে জিয়াউল আহসান বলেন, তুই রাখ, তারেক স্যার ফোন দিয়েছেন। পরে তিনি তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, কথোপকথনের এক পর্যায়ে জিয়াউল আহসান বলেন, স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ (গুম বা হত্যা অর্থে ব্যবহৃত কোড) করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে? এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠাই দেন, এটাই আমার জন্য ভালো।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকার বনানীর ২ নম্বর সড়ক থেকে ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। পরে বনানী থেকে তাঁদের পরিত্যক্ত গাড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। বিএনপি শুরু থেকেই এ ঘটনার জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও র‌্যাবকে দায়ী করে এলেও সরকার তা অস্বীকার করে।

ইমরুল কায়েস ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ২০১২ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে জিয়াউল আহসানসহ র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে একটি টার্গেট ধরার অপেক্ষায় ছিলেন। সে রাতে অভিযান সফল না হওয়ায় তিনি ছুটিতে যান। ছুটিতে থাকা অবস্থায় গণমাধ্যমে ইলিয়াস আলীর অপহরণের খবর জানতে পারেন। কর্মস্থলে ফিরে তিনি জানতে পারেন, ওই রাতের অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার ও সিসিটিভি ফুটেজ জিয়াউল আহসান নিজেই ধ্বংস করেছেন।

সাক্ষ্যে ইমরুল কায়েস আরো বলেন, ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি র‌্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে জিয়াউল আহসানের রানার বা বডিগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তিনি জিয়াউল আহসানের নির্দেশে ও উপস্থিতিতে একাধিক গুম ও হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।

এক ঘটনায় তাঁকে উত্তরার র‌্যাব-১ কার্যালয়ের সামনে ডাকা হয়। পরে একটি মাইক্রোবাসে করে টঙ্গীর একটি নির্জন স্থানে নেওয়া হলে গাড়ির ডিকি থেকে একটি বস্তা নামাতে বলা হয়। ইমরুলের ভাষ্য, বস্তা নামানোর উদ্দেশ্যে হাত দিলে দেখি সেটি বস্তা না, বরং একটা ডেড বডি ছিল এবং ঠাণ্ডা ছিল। পরে মরদেহটি রেললাইনে রেখে দেওয়া হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যে একটি ট্রেন সেটির ওপর দিয়ে চলে যায়।

সাক্ষ্যে তিনি আরো দাবি করেন, ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের পর অপারেশন রেবেল হান্ট-এর সময় কয়েকজন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করা হয়। তাঁদের শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ করে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে মাথায় গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। ২০১২ সালের শুরুতেও একইভাবে ১১ জনকে হত্যা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া সুন্দরবনে জলদস্যু দমন অভিযান, রাজধানীর উত্তরায় কথিত ক্রসফায়ার ও জাফলং সীমান্ত থেকে আনা কয়েকজনকে হত্যার ঘটনাসহ আরো কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।

সাক্ষ্যের এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইমরুল কায়েস। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আমি দেশের জন্য শপথ গ্রহণ করেছি, প্রশিক্ষণও নিয়েছি, তবে তা কখনোই দেশের মানুষকে হত্যা করার জন্য নয়। আমি রানার হিসেবে তাঁর সঙ্গে থেকে দেখেছি, তিনি ওই সময়ে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে বিভিন্ন পন্থায় হত্যা করেছেন। আমি বিবেকের তাড়নায় এবং সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে জবানবন্দি প্রদান করেছি। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। কোনো সৈনিককে কখনোই যেন আমার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলামসহ অন্য প্রসিকিউটররা।

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক

সুইডেনের বিনিয়োগ বাড়বে আশা জামায়াত আমিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
সুইডেনের বিনিয়োগ বাড়বে আশা জামায়াত আমিরের
শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় আগামী দিনে বাংলাদেশে সুইডেনের বিনিয়োগ আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।

গতকাল রবিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মিস ম্যাটিল্ডা সভেনসন এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি ও বাণিজ্য, রাজনীতি এবং যোগাযোগ বিভাগের প্রধান মি. ওলে লুন্দিন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাক্ষািট আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ-সুইডেন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের প্রতি সুইডেনের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠকে জুলাই সনদ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং আলোচিত অর্ডিন্যান্সগুলোর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেট, কর কাঠামো সংস্কার, রোহিঙ্গা সমস্যার কার্যকর সমাধান এবং বাংলাদেশে সুইডেনের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প বিষয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।

সাক্ষাতে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

মেসির জন্য এক সেকেন্ডই যথেষ্ট

মেসির জন্য এক সেকেন্ডই যথেষ্ট

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এমন কিছু ম্যাচ থাকে, যেগুলো অনেক সময় নক আউট পর্বের আবহ তৈরি করে। আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার লড়াই ঠিক তেমনই একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে। ফলে এই লড়াইয়ে নিশ্চিত হবে কারা গ্রুপের শীর্ষে থাকবে। সঙ্গে নক আউট পর্বে মেসির জন্য এক সেকেন্ডই যথেষ্টওঠার পথও অনেকটাই মসৃণ হয়ে যাবে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে জর্দানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের দিয়েছে অস্ট্রিয়াও। ইউরোপিয়ান দলটি ম্যাচজুড়ে গতিময় ফুটবল খেলেছে এবং প্রতিপক্ষকে খুব কম সময়ই স্বস্তিতে থাকতে দিয়েছে। ফলে এ দুই দলের মুখোমুখি লড়াইটি এখন জে গ্রুপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচে পরিণত হয়েছে।

আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে তারা। লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা এখন শুধু তারকানির্ভর নয়, বরং অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণতিন বিভাগেই রয়েছে উঁচুমানের ফুটবলার। তবে অস্ট্রিয়াকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউরোপের এই দলটিকে অনেকেই এবারের আসরের ডার্ক হর্স হিসেবে বিবেচনা করছেন। কারণ দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি সুসংগঠিত দলীয় খেলা। রালফ রাংনিকের অধীনে অস্ট্রিয়া গত দুই বছরে ইউরোপের অন্যতম দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে। রাংনিকের দর্শনই অস্ট্রিয়ার বড় অস্ত্র। তাঁর দল প্রতিপক্ষকে মাঠে জায়গা ছেড়ে দিতে চায় না। হাই প্রেসিং, দ্রুত বল রিকভারি এবং দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার ক্ষমতা তাদের বিশেষ শক্তি।

আমার মতে, ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হবে মধ্যমাঠে। এনজো ফার্নান্দেস, রদ্রিগো ডি পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার যদি ছন্দে থাকেন, তাহলে খেলার নিয়ন্ত্রণ থাকবে আর্জেন্টিনার পায়ে। কারণ এই তিনজনই আর্জেন্টিনার খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। কিন্তু অস্ট্রিয়ার মার্সেল সাবিটজার, কনরাড লেইমার ও ক্রিস্টোফ বোমগার্টনারদের কাজই হবে এই ছন্দ নষ্ট করা। সাবিটজার শুধু গোলের সুযোগ তৈরিই করেন না, মধ্যমাঠে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কাজও করেন। লেইমার আবার ইউরোপের অন্যতম পরিশ্রমী মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত। ফলে মাঝমাঠের এই যুদ্ধই হয়তো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। এই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে অস্ট্রিয়ার হাই প্রেসিংয়ের বিপরীতে আর্জেন্টিনার বল নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সাধারণত ধৈর্য ধরে ছোট ছোট পাসে খেলা গড়ে তোলে। কিন্তু অস্ট্রিয়া তাদের সেই সুযোগ দিতে চাইবে না। যে দল এই লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও সম্ভবত তাদের হাতেই থাকবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আর্জেন্টিনার রক্ষণ। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেসের জুটি আলজেরিয়ার বিপক্ষে ভালো করেছে। তবে অস্ট্রিয়ার দ্রুতগতির আক্রমণ তাদের জন্যও পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে উইং দিয়ে দ্রুত ওঠানামা এবং কাউন্টার অ্যাটাকে অস্ট্রিয়া বেশ কার্যকর।

তবে বড় ম্যাচে শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেন বিশেষ কিছু ফুটবলার। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে সেই নামটি নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসি। বয়স বাড়লেও তাঁর প্রভাব কমেনি। প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তিনি এখনো বিশ্বসেরা। একটি পাস, একটি ফ্রি কিক কিংবা একমুহূর্তের জাদুতেই তিনি ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণ যতই সংগঠিত হোক, মেসির মতো খেলোয়াড়ের জন্য মাত্র এক সেকেন্ডের সুযোগই যথেষ্ট। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা এগিয়ে। অভিজ্ঞতা, উঁচুমানের খেলোয়াড় এবং বড় মঞ্চে সাফল্যের ইতিহাসসব দিক থেকেই তারা ফেভারিট। তবে অস্ট্রিয়া এমন একটি দল, যারা প্রতিপক্ষকে স্বস্তিতে খেলতে দেয় না। তাদের বিপক্ষে সামান্য মনোযোগহীনতারও মূল্য দিতে হতে পারে। আমার বিশ্বাস, ম্যাচটি হবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। অস্ট্রিয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নিজেদের সেরাটা খেলতে বাধ্য করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন মেসিই।

আজ আর্জেন্টিনার অস্ট্রিয়া পরীক্ষা

আজ আর্জেন্টিনার অস্ট্রিয়া পরীক্ষা
অনুশীলনে লিওনেল মেসি ও ডি পল।

লিওনেল মেসি নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নেমে রেকর্ডবুকে নাম লিখিয়েছেন। তবে আর্জেন্টিনা শিবিরে এমন একজনও আছেন, যাঁর কিনা এটি সপ্তম বিশ্বকাপ চলছে। তিনি ডিয়েগো লাকোভোনে, মেসিদের রাঁধুনি। সেই ১৯৯৯ সাল থেকে দলের সঙ্গে আছেন। কত কিছু বদলায়, কিন্তু লাকোভোনের রান্না ছাড়া আলবিসেলেস্তেদের অনুশীলনে লিওনেল মেসি ও ডি পল।চলে না। লিওনেল স্কালোনির সময় থেকে আরো একটা বিষয় তো রীতির মতো হয়ে গেছে। সেটি হলো বারবিকিউ। বিশ্বকাপে সামনে যে ম্যাচই থাকুক না কেন, এর আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে একটা বারবিকিউ ভোজ হবেই হবে। অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগেও হয়েছে।

গত পরশু ইনস্টাগ্রামে সেই বারবিকিউ পার্টির ভিডিওই শেয়ার করেছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তাপিয়া নিজেও সে আয়োজনে ছিলেন। লাউতারো মার্তিনেস ও জুলিয়ানো সিমিওনেকে দেখা গেছে মাংস পোড়ানোর সেই বিরাট আয়োজনে হাত লাগাতে। দিবু মার্তিনেস আবার মজা করে বলেছেন, সবই হালকা খাবার। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দারুণ এক জয়ের পর অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগে আলবিসেলেস্তেদের অন্দরের এ ছবিটাই বলছে তারা বিশ্বকাপটা উপভোগ করে চলেছেন। অনুশীলনে মেসি, রদ্রিগো দি পলদেরও দেখা গেছে ফুরফুরে মেজাজে। যদিও ইউরোপীয় এ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পুরোপুরি ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জে নামছে স্কালোনির এই দল। যাদের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে আসলে খেলার রেকর্ড নেই আর্জেন্টিনার। সর্বশেষ ম্যাচ ১৯৯০ সালে, এর আগেরটি ১৯৮০-তে। দুটিই ছিল প্রীতি ম্যাচ, দুটিতেই খেলেছিলেন  ডিয়েগো ম্যারাডোনা। প্রথমটিতে ৫-১ গোলের জয়ে ম্যারাডোনা করেছিলেন হ্যাটট্রিক, পরেরটি ড্র হয় ১-১ গোলে। দুটি ম্যাচই হয়েছিল ভিয়েনায়। ম্যারাডোনার উত্তরসূরি মেসি বিশ্বকাপটা শুরু করেছেন হ্যাটট্রিক দিয়ে, এ ম্যাচে আবারও কি ডিয়েগো ম্যারাডোনার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেবেন তিনি? মেসি নিজের মতো করে জ্বললে অবশ্য প্রতিপক্ষের আর কোনো সুযোগই থাকে না আসলে।

অস্ট্রিয়া সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রালফ রাংনিকের অধীন হাই প্রেসিং ফুটবলের কারণে। গত ইউরোতে আলো ছড়িয়েছে এই অস্ট্রিয়া। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা উঠেছিল শেষ ষোলোতে। এ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গ্রুপেও র‌্যাংকিং অনুযায়ী দ্বিতীয় সেরা দল তারা। প্রথম ম্যাচে জর্দানকে ৩-১ গোলে হারিয়েই গতকাল ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডালাসে পা রেখেছে দলটি। ডালাস অবশ্য গতকাল থেকেই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের দখলে। কানসাস মাতিয়ে গতকাল মেসিদের এ শহরে পৌঁছার আগেই তারা আকাশি-সাদায় ছেয়ে দিয়েছে এখানকার পথঘাট। কানসাসের মতোই ডালাসের দেয়ালেও আঁকা হয়েছে মেসির ম্যুরাল। কন টোডা লা ফুয়েরজা মেসির ছবির পাশে স্প্যানিশ লেখাটার মানে সর্বশক্তি দিয়ে লড়ো। আর্জেন্টাইনদের আকুতিটা তাতে স্পষ্ট। জাতীয় দলের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স চায় তারা, যা নিয়ে তারা গর্ব করতে পারে। দলকে অকুণ্ঠ সমর্থন জুগিয়ে যেতেও কোনো ক্লান্তি নেই তাদের। ইনচাস আর্জেন্টিনোস আর লা বান্দা দে আর্জেন্টিনা’—সমর্থকদের এই দুটি গ্রুপ জাতীয় দলের সঙ্গে দেশ থেকে দেশ সফর করে। ডালাসেও গতকাল নেচে-গেয়ে মেসিদের স্বাগত জানিয়েছে তারা। কানসাস সিটিতেই শেষ দিনের অনুশীলনের পর ডালাসের বিমান ধরেছে আর্জেন্টিনা দল।

গনসালো মনতিয়েল চোট কাটিয়ে এদিন পুরোদমে অনুশীলনে ফিরলেও আজ প্রথম একাদশে তাঁর থাকার সম্ভাবনা কমই। নাহুয়েল মলিনা নেবেন সেই জায়গাটা। একাদশে আরো দুটি পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। থিয়াগো আলমাদার জায়গায় নিকোলাস গনসালেসের শুরু করার সম্ভাবনা বেশি। আর ফরোয়ার্ডে মেসির সঙ্গে লাউতারো মার্তিনেসের বদলে দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেসকে। নিকোলাস তাগলিয়াফিকো এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসও মাঠে নামার জন্য তৈরি। স্কালোনি বদলি হিসেবেও তাঁদের সেই সুযোগটা দিতে পারেন। তবে যেখানে যে-ই খেলুন, এ ম্যাচেও সবার চোখ থাকবে এক মেসির দিকেই। রালফ রাংনিক তাঁর জন্য কী পরিকল্পনা সাজান, সেটিই দেখার। অস্ট্রিয়া দলেও মার্সেল সাবিটজার, মার্কো আরনাতোভিচ এবং ডেভিড আলাবার মতো অভিজ্ঞ পারফরমাররা আছেন। এই ম্যাচে তাই লড়াই হবে। আর্জেন্টিনা জিতলে নক আউট রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাবে, অস্ট্রিয়ানদেরও সেই একই লক্ষ্য। লক্ষ্যপূরণে তাদের আগে থামাতে হবে মেসিকে।