বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানের মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেনা সদস্য মো. ইমরুল কায়েস।
গতকাল রবিবার জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন ইমরুল কায়েস। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চলমান এ মামলায় জিয়াউল আহসান একমাত্র আসামি। ইমরুল কায়েসের জবানবন্দির সময় তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সাক্ষ্যে ইমরুল কায়েস বলেন, জিয়াউল আহসানের সঙ্গে থাকা অবস্থায় তিনি এক দিন তাঁকে ফোনে কথা বলতে দেখেন। সে সময় অন্য একটি ফোন এলে জিয়াউল আহসান বলেন, ‘তুই রাখ, তারেক স্যার ফোন দিয়েছেন।’ পরে তিনি তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, কথোপকথনের এক পর্যায়ে জিয়াউল আহসান বলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ (গুম বা হত্যা অর্থে ব্যবহৃত কোড) করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে? এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠাই দেন, এটাই আমার জন্য ভালো।’
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকার বনানীর ২ নম্বর সড়ক থেকে ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। পরে বনানী থেকে তাঁদের পরিত্যক্ত গাড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। বিএনপি শুরু থেকেই এ ঘটনার জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও র্যাবকে দায়ী করে এলেও সরকার তা অস্বীকার করে।
ইমরুল কায়েস ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ২০১২ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে জিয়াউল আহসানসহ র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে একটি ‘টার্গেট’ ধরার অপেক্ষায় ছিলেন। সে রাতে অভিযান সফল না হওয়ায় তিনি ছুটিতে যান। ছুটিতে থাকা অবস্থায় গণমাধ্যমে ইলিয়াস আলীর অপহরণের খবর জানতে পারেন। কর্মস্থলে ফিরে তিনি জানতে পারেন, ওই রাতের অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার ও সিসিটিভি ফুটেজ জিয়াউল আহসান নিজেই ধ্বংস করেছেন।
সাক্ষ্যে ইমরুল কায়েস আরো বলেন, ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি র্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে জিয়াউল আহসানের রানার বা বডিগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তিনি জিয়াউল আহসানের নির্দেশে ও উপস্থিতিতে একাধিক গুম ও হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।
এক ঘটনায় তাঁকে উত্তরার র্যাব-১ কার্যালয়ের সামনে ডাকা হয়। পরে একটি মাইক্রোবাসে করে টঙ্গীর একটি নির্জন স্থানে নেওয়া হলে গাড়ির ডিকি থেকে একটি বস্তা নামাতে বলা হয়। ইমরুলের ভাষ্য, ‘বস্তা নামানোর উদ্দেশ্যে হাত দিলে দেখি সেটি বস্তা না, বরং একটা ডেড বডি ছিল এবং ঠাণ্ডা ছিল।’ পরে মরদেহটি রেললাইনে রেখে দেওয়া হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যে একটি ট্রেন সেটির ওপর দিয়ে চলে যায়।
সাক্ষ্যে তিনি আরো দাবি করেন, ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের পর ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’-এর সময় কয়েকজন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করা হয়। তাঁদের শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ করে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে মাথায় গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। ২০১২ সালের শুরুতেও একইভাবে ১১ জনকে হত্যা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া সুন্দরবনে জলদস্যু দমন অভিযান, রাজধানীর উত্তরায় কথিত ক্রসফায়ার ও জাফলং সীমান্ত থেকে আনা কয়েকজনকে হত্যার ঘটনাসহ আরো কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।
সাক্ষ্যের এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইমরুল কায়েস। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘আমি দেশের জন্য শপথ গ্রহণ করেছি, প্রশিক্ষণও নিয়েছি, তবে তা কখনোই দেশের মানুষকে হত্যা করার জন্য নয়। আমি রানার হিসেবে তাঁর সঙ্গে থেকে দেখেছি, তিনি ওই সময়ে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে বিভিন্ন পন্থায় হত্যা করেছেন। আমি বিবেকের তাড়নায় এবং সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে জবানবন্দি প্রদান করেছি। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। কোনো সৈনিককে কখনোই যেন আমার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।’
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলামসহ অন্য প্রসিকিউটররা।




ওঠার পথও অনেকটাই মসৃণ হয়ে যাবে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে জর্দানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের দিয়েছে
চলে না। লিওনেল স্কালোনির সময় থেকে আরো একটা বিষয় তো রীতির মতো হয়ে গেছে। সেটি হলো বারবিকিউ। বিশ্বকাপে সামনে যে ম্যাচই থাকুক না কেন, এর আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে একটা বারবিকিউ ভোজ হবেই হবে।