ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের বিরুদ্ধে ভারতের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে দেশটিতে কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে যে বিএসএফ লোকজনকে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দিচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতের বক্তব্য কী? জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘এখানে (ভারতে) অবস্থানরত সব বিদেশি নাগরিকের বিষয়ে আমাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যর্পণের জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় কাঠামো আছে। সেখানে আমরা নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে তথ্য দিই।’
নাগরিকত্ব যাচাইয়ে অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের অনেক অনুরোধ অনিষ্পন্ন অবস্থায় আছে। আমরা আশা করি, দ্রুতই এটি নিষ্পন্ন করা হবে, যাতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে হয়।’
এর আগে গত ৭ মে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সওয়াল বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের কাছে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য পাঠানো দুই হাজার ৮৬০টির বেশি অনুরোধ এখনো ঝুলে আছে। সেগুলোর কয়েকটি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে যাচাইয়ের অপেক্ষায় আছে।’
ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘পুশ ইনের’ অভিযোগের কথা উল্লেখ করে গতকালের ব্রিফিংয়ে আরেকজন সাংবাদিক জানতে চান, ভারত কি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এই নীতি অনুসরণ করছে?
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে আমি আমার আগের উত্তরটির কথাই বলব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য থাকতে পারে।’
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিত করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে ব্রিফিংয়ে। মমতার ওই বক্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলবে কি না, জানতে চান একজন সাংবাদিক।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, তিনি সুনির্দিষ্টভাবে ওই মন্তব্য দেখেননি। তবে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায়।




