• ই-পেপার

ভারতের আগ্রাসনের প্রতিবাদ

আগরতলা অভিমুখে লং মার্চ করবে বিএনপির তিন সংগঠন

  • ► লং মার্চের তারিখ নির্ধারণে আজ নয়াপল্টনে বৈঠক

সংসদে মির্জা ফখরুল

স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াত এখনো ক্ষমা চায়নি

বিরোধী দলের ওয়াক আউট

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াত এখনো ক্ষমা চায়নি
মির্জা ফখরুল ইসলাম

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামী এখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অতীতের সেই অবস্থান নিয়ে দলটির এখনো নতুন করে ভাবার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করারও আহবান জানান তিনি।

গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদে বিরোধী দলের বেঞ্চের দিকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যাঁরা ওই পাশে আছেন, তাঁরা নানা সময় আমাদের ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিজেদের দিকেও একবার ফিরে তাকানোর। ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আপনারা কখনো জাতির কাছে ক্ষমা চাননি। যদি সেই ভুল স্বীকার করতেন, তাহলে আজকের অনেক সমস্যাই সৃষ্টি হতো না।’

জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি একসময় বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে তাঁরা কোনো ভুল করেননি। কিন্তু আমার বিশ্বাস, এখনো সময় আছে। আপনারা নতুন করে বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত। ১৯৭১ সালের বিষয়ে আপনাদের স্পষ্ট বক্তব্য আমরা কখনো শুনিনি। যদি আপনারা সেই ইতিহাস স্বীকার করেন, তাহলে আপনাদের জন্য রাজনীতি আরো সহজ হয়ে যাবে।’

জামায়াতের রাজনৈতিক মিত্র জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রসঙ্গ টেনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, তরুণদের এই রাজনৈতিক দলটি সম্ভাবনাময় হলেও এমন একটি দলের সঙ্গে তাদের জোট করা দুঃখজনক, যে দল বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় ছাত্র ও তরুণদের দল এনসিপি ভালো করছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি দুঃখিত যে তারা এমন একটি দলের সঙ্গে জোট করেছে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরো পরিষ্কার করবে বলে আশা করি।’

বাজেট আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের অর্থনীতি প্রায় খাদের কিনারে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের ফলে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে।

বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, এবারের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি ভবিষ্যতের উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা। আগামী এক বছরে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পরবর্তী তিন বছরে রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কার এবং পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিরোধী দলের ওয়াক আউট : সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার ন্যায্য সময় না পাওয়া, সংসদের কার্যপ্রণালি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা ও পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাঁরা জানান, গতকাল রবিবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণার আগ মুহূর্তে ওয়াক আউট করেছেন।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে দিনের কার্যসূচির শেষে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিল দুটি উত্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ অনুযায়ী বিল উত্থাপনের কমপক্ষে তিন দিন আগে সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের কপি পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তিনি বলেন, স্পিকারের তিন দিনের শর্ত শিথিল করার ক্ষমতা থাকলেও তা প্রয়োগ করা হলে সংসদকে অবহিত করা উচিত ছিল। নিয়মিতভাবে এ ধরনের ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে কার্যপ্রণালি বিধির মূল উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হবে। এ সময় আগের আইনের সঙ্গে নতুন বিলের তুলনামূলক সারণি না দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি।

জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিল দুটি উত্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ১৫ জুন বিলের নোটিশ দেওয়া হয় এবং ২৩ জুন সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিলের কপি বিতরণ করা হয়েছে।

 

ডিএমপির সাবেক কমিশনারসহ তিন কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএমপির সাবেক কমিশনারসহ তিন কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, এক আসামিকে যাবজ্জীবন ও আরেক আসামিকে ২০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডিত পাঁচজনই পুলিশের সাবেক সদস্য।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল রবিবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মীয়মাণ ভবনের তিন তলার কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং দুজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল আসামিদের বিরুদ্ধে।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিনজন হলেন—ডিএমপি সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান। তিন আসামিই পলাতক। এ নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় হাবিবুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। গত ২৬ জানুয়ারি ‘চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডে’র মামলায় হাবিবুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন এই ট্রাইব্যুনাল।

গতকালের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া

হয়েছে—রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে। তিনিও পলাতক। আর একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে দেওয়া হয়েছে ২০ বছরের কারাদণ্ড। গতকাল রায় ঘোষণার সময় তাঁকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এ নিয়ে পাঁচটি মামলার রায় হলো পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে।

গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রায় পড়া শুরু হয়। এর আগে রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের জন্য অনুমতি চান প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দিলে তা সরাসরি সম্প্রচার করে বিটিভি।

রায় নিয়ে প্রসিকিউশন সন্তোষ প্রকাশ করলেও সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গতকাল রায় ঘোষণার পর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি যথার্থ রায় হয়েছে। আমরা এ রায়ে আপাতত সন্তোষ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এ রায়ের মধ্য দিয়ে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বেতার বার্তার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঠেকানোর জন্য ছাত্র-জনতার পায়ে গুলি করতে অধীনদের নির্দেশ দিয়েছিলেন ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান। তাঁর মৌখিক নির্দেশ এমন থাকলেও বাস্তবে বুকে ও মাথায় গুলি করা হয়।’

আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন মনে করেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁর মক্কেল ন্যায়বিচার পাননি। এ জন্য রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। চঞ্চল চন্দ্র সরকারের কাছ থেকে বিচারবহির্ভূতভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের অভিযোগ আছে জানিয়ে আইনজীবী নিপ্পন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বারবার ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেছি বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হোক। কিন্তু তা করা হয়নি। অতএব, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। এ কারণেই আপিল বিভাগে যাব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার ক্লায়েন্টের কাছে (ঘটনার দিন) কোনো অস্ত্র ছিল না। ১৯ জুলাই তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন সেন্টারে দায়িত্বে ছিলেন। সিডিআরে সেটি উল্লেখ রয়েছে। হঠাৎ একটি ভিডিওর ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যা সমীচীন হয়নি বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ কারণেই আপিলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আরশাদুল হক বাবু ও মো. আমির হোসেন।

যে তিন ঘটনায় মামলা : ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছিল শুক্রবার। জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন আমির হোসেন। রাজধানীর রামপুরা এলাকায় তখন পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল। এর থেকে বাঁচতে তিনি নির্মীয়মাণ ওই ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন। এক পর্যায়ে আন্দোলকারীদের ধাওয়া করে পুলিশও ভবনটিতে উঠে যায়। ভয়ে কার্নিশের রড ধরে নিচে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করছিলেন আমির হোসেন। তখন তিনতলা থেকে এক পুলিশ সদস্য ঝুলতে থাকা আমির হোসেনকে ছয়টি গুলি করেন। সব কটি গুলি তাঁর পায়ে লাগে। পরে সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায় লোকজন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সেখান থেকে তাঁকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আমির হোসেন।

আরেক ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, রামপুরার মেরাদিয়া হাট এলাকায় বাসার নিচের দোকান থেকে সাত বছরের নাতি বাসিত খান মুসাকে আইসক্রিম কিনে দিতে যান দাদি মায়া ইসলাম (৬০)। এ সময় মায়া ইসলামের পেটে গুলি এবং মুসার মাথায় গুলি লাগে। মায়া ইসলাম পরদিন মারা যান। মুসাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় মুসাকে সিএমএইচ থেকে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে পাঠায় সরকার। পাঁচ মাস ১২ দিন পর গত বছর ৪ এপ্রিল দেশে আনা হয় শিশুটিকে। বেঁচে গেলেও শিশুটি কথা বলছে না বলে সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর তামীম।

আরেক অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসায়ী নাদিম মিজান স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বনশ্রী এলাকায় থাকতেন। ওই দিন (২০২৪ সালের ১৯ জুলাই) জুমার নামাজ পড়তে বাসা থেকে বেরিয়েই পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তিনি। রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

গত বছর ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। শুনানির পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

পরে ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ১৬ অক্টোবর প্রসিকিউশন সূচনা বক্তব্য দেওয়ার পর মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ২৩ অক্টোবর থেকে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। পরে শুরু হয় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এর পর থেকে মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় ছিল। গত ৪ মার্চ প্রথমে রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি। সেদিন প্রসিকিউশন নতুন করে ডিজিটাল প্রমাণ দাখিল করার জন্য চার সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করে ট্রাইব্যুনালের কাছে। অন্যদিকে আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পনও ছয় সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেন। শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষকে পাঁচ সপ্তাহ সময় দিয়ে গত ৯ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেন। পরে গত ৯ এপ্রিল শুনানির দিনে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সেখানে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এএসআই চঞ্চলের স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং তা সম্পূর্ণ অথেনটিক বা সত্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী সারোয়ার জাহান ট্রাইব্যুনালের কাছে চঞ্চল সরকারের পুনরায় জবানবন্দি বা পুনরায় সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন করেন, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেন। গত ১০ জুন আসামি চঞ্চল সরকার ট্রাইব্যুনালে তাঁর দ্বিতীয় দফার সাফাই সাক্ষ্য দেন। সেই সাক্ষ্যে তিনি দাবি করেন, প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা তাঁকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছিলেন।

সাক্ষ্যে চঞ্চল বলেছিলেন, গ্রেপ্তারের পর থানা হেফাজতে থাকাকালে প্রসিকিউটর জোহা তাঁকে ভয়ভীতি দেখান এবং মেরে ফেলার হুমকির পাশাপাশি তাঁর নিকটাত্মীয়-স্বজনকেও হত্যার হুমকি দেন। মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় তিনি ওই ভিডিওতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তবে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

নতুন সাক্ষ্য-প্রমাণের সংযুক্তির পর মামলাটিতে পুনরায় আইনি যুক্তিতর্ক হয়। গত ১৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ নতুন সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। সেদিনই ট্রাইব্যুনাল ২৮ জুন এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন।

উক্তি

উক্তি

আমি আমার প্রধানমন্ত্রীর নিয়োজিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আমার বাচ্চাগুলো বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে—এটা হতে পারে না।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী

 

 

সড়ক ও রেল মন্ত্রী

বিরোধী দলের বাজেট সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধী দলের বাজেট সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না
শেখ রবিউল আলম

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে এটি তাদের প্রথম অভিজ্ঞতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আরো গঠনমূলক সমালোচনা করতে শিখবে।

গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাজেট নিয়ে সংসদে তেমন নেতিবাচক আলোচনা হয়নি। কিছু সদস্য রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশ

করেছেন। তবে ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ, কর অব্যাহতি কমানো, রাজস্ব ফাঁকি শনাক্তকরণ এবং ভ্যাট কাঠামোর সংস্কারের ফলে এ ধরনের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন।

মন্ত্রী বলেন, যাঁরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাঁরা প্রথমবার বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা করতে গিয়ে ভুল করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, আরো কয়েকবার বিরোধী দলে থাকলে তাঁরা আরো ভালোভাবে সমালোচনা করতে শিখবেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, এবারের বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১৮ শতাংশের বেশি এবং সাধারণ সেবা খাতে প্রায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দ দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৯ শতাংশ। অথচ নেপাল ও ভুটানে এই হার ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী কর আহরণ বাড়ানোর যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টিকে বাজেটের অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী রবিউল আলম। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়ে মোট বরাদ্দের ৭২.৭ শতাংশ ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকলেও এবার তা কমিয়ে ৬৬.৩ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয় ২৭.৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩.৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) তিন লাখ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এবারের বাজেটে উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ঘাটতি বাজেটের সমালোচনার জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, কর ও রাজস্ব যথাযথভাবে আহরণ করা গেলে এবং নির্ধারিত ব্যাংকঋণ পাওয়া গেলে ঘাটতি বাজেট হওয়ার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাজেটেও জিডিপির তুলনায় ঘাটতির উদাহরণ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্ধারিত ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এ ছাড়া বাজেটে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও কমানো হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা কমিয়ে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি কমলে মানুষের সঞ্চয় বাড়বে, ফলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট তৈরি হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আগরতলা অভিমুখে লং মার্চ করবে বিএনপির তিন সংগঠন | কালের কণ্ঠ