kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

শক্তিশালী হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শক্তিশালী হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়বুলবুল’ আরো শক্তিশালী হয়ে উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি গতকাল সন্ধ্যায় পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি ধীরে ধীরে ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। এই ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আঘাত হানবে কি না তা ভারত ও বাংলাদেশের আবহাওয়া কর্মকর্তারা গতকালও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। বাংলাদেশের ঠিক কোন অঞ্চলের ওপর দিয়ে আঘাত আসতে পারে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আরিফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আরো শক্তিশালী হয়ে উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। সে কারণে সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিসের সূত্র মতে, ঘূর্ণিঝড় সিডর আইলার মতো প্রভাব রাখবে না বুলবুল। এখন পর্যন্ত এর যে গতিপথ তাতে ২০১৬ সালে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু যে অঞ্চল দিয়ে আঘাত হেনেছে, বুলবুলও একই অঞ্চল দিয়ে আঘাত করতে পারে। ৯ অক্টোবর শনিবার থেকে বুলবুলের প্রভাব পড়তে শুরু করবে বাংলাদেশের উপকূলে। আর উপকূলে আঘাত হানতে পারে ১০ নভেম্বর কিংবা ১১ নভেম্বর। সাতক্ষীরা, ভোলা, পটুয়াখালী অঞ্চল দিয়ে আঘাত আসতে পারে বলে এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে। তবে গতিপথ যদি পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের ওপর আঘাত না-ও আসতে পারে।

গতকাল আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল গতকাল মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া কর্মকর্তা আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত বিশেষ বুলেটিনে আরো বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, মোংলা, কক্সবাজার ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, বুলবুল শুক্রবার সকাল থেকে আরো ভয়ংকর চেহারায় রূপ নেবে। এর প্রভাবে শনি ও রবিবার ভারি বর্ষণ হবে। আকাশ মেঘলা থাকবে।

আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, শনিবার নাগাদ বুলবুল আরো শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তখন বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করছে। তবে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত না-ও আসতে পারে যদি গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়। গতিপথ যদি পরিবর্তন না হয়, তাহলে বাংলাদেশের বিশাল উপকূলে আঘাত হানতে পারে বুলবুল। তবে জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে শক্তি কমে একপর্যায়ে বুলবুল সাগরেই শেষ হয়ে যেতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা