kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

বেঁচে থাকবে বাংলার আঞ্চলিক ভাষাও

আজিজুল পারভেজ   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেঁচে থাকবে বাংলার আঞ্চলিক ভাষাও

বেঁচে থাকবে বাংলার উপভাষা বা আঞ্চলিক ভাষাগুলোও। বাংলার উপভাষাগুলোর বৈচিত্র্য, রূপ-রস-মাধুর্য বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট।

বাংলার উপভাষাগুলো আঞ্চলিক ভাষা হিসেবে পরিচিত। আঞ্চলিক ভাষা অঞ্চল ভেদে মানুষের ভাষারই বৈচিত্র্য মাত্র। বলতে গেলে এ ভাষাই আমাদের মাতৃভাষা। আর মাতৃভাষার লালন, বিকাশ ও সংরক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলার উপভাষাগুলোকে সংরক্ষণের কাজ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ তথ্য জানালেন এ প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. জীনাত ইমতিয়াজ আলী। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের উপভাষাগুলো আমাদের সম্পদ। হাজার বছরের চর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের উপভাষা সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়েছে। মানবজ্ঞান

লুকিয়ে আছে এসব উপভাষার মধ্যে; উপভাষার লোককাহিনি, প্রবাদ-প্রবচনের মধ্যে। উপভাষাগুলোর ধ্বনির উচ্চারণ, শব্দ গঠন প্রক্রিয়া, বাক্য গঠনের মধ্যে মানবজ্ঞানের পরিচয় মেলে। এগুলোর বৈচিত্র্য ও মাধুর্য হলো এগুলোর উচ্চারণ। কিন্তু কালের বিবর্তনে প্রধান ভাষা ও অন্যান্য ভাষার প্রভাবে লুপ্ত হতে বসেছে উপভাষাগুলো। তাই এসব ভাষা সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

বাংলা ভাষার উপভাষাগুলো সংরক্ষণপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিভাগভিত্তিক উপভাষাবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে ‘খুলনা অঞ্চলের উপভাষা : রূপবৈচিত্র্য অনুসন্ধান, সংরক্ষণ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে রংপুর, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি কর্মশালায় ওই অঞ্চলের বাংলা উপভাষাবিষয়ক গবেষক, সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ-অধ্যাপক, কবি-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালাগুলোর সারাংশ পুস্তিকা বা বিবরণ আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কর্মশালা চলতি বছর অনুষ্ঠিত হবে।

অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী আরো জানান, বিভাগীয় পর্যায়ের এই কর্মশালাকে তাঁরা পাইলট সার্ভে (পরীক্ষামূলক জরিপ) হিসেবে দেখছেন। এটি শেষ হলে উপভাষা ডকুমেন্টেশনের কাজটি আরো বিস্তৃত পরিসরে করা যাবে। সে ক্ষেত্রে পুরো দেশকে সাবেক ১৯-২০টি বৃহত্তর জেলায় ভাগ করে প্রামাণীকরণ (ডকুমেন্টেশন) করা হতে পারে।

পরিকল্পনা অনুসারে প্রতিটি উপভাষা ডকুমেন্টেশন করা হবে ডিজিটাল সফটওয়্যারে। প্রতিটি অঞ্চলের আঞ্চলিক বা উপভাষার অবিকল রূপ ধরে রাখতে ভিডিও চিত্র ধারণ করা হবে। এতে মানুষের মুখের ভাষার উচ্চারণ শোনার পাশাপাশি অভিব্যক্তিও অবলোকন করা যাবে। এগুলো প্রকাশ করা হবে বই ও সিডি আকারে। একপর্যায়ে অনলাইনেও পাওয়া যাবে। এর ফলে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে যে কেউ আমাদের উপভাষা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবে। পাশাপাশি প্রতিটি উপভাষার অভিধান, ব্যাকরণও প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয় আঞ্চলিক ভাষার অভিধান। আমাদের বিশ্বাস, পরিকল্পনা অনুযায়ী উপভাষার ডকুমেন্টেশনের কাজ সম্পাদন করা গেলে তা আমাদের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অভিমত অধ্যাপক ইমতিয়াজ আলীর।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা