kalerkantho

রাজশাহী-১

ঐক্যের খোঁজে ওমর ফারুক, অবশেষে এলেন আমিনুল

আরিফুর রহমান, রাজশাহী থেকে   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঐক্যের খোঁজে ওমর ফারুক, অবশেষে এলেন আমিনুল

একজন সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, অন্যজন সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী। রাজশাহী-১ আসনে (গোদাগাড়ী-তানোর) এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী নেমেছেন ভোটযুদ্ধে। নৌকার হাল ওমর ফারুক চৌধুরীর হাতে, ধানের শীষের চাষি ব্যারিস্টার আমিনুল হক। জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ মাথায় নিয়ে প্রায় এক যুগ এলাকাছাড়া ছিলেন বিএনপি শাসনামলের সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আমিনুল হক। কালেভদ্রে কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এলেও নীরবে এলাকা ছাড়তেন। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সাবেক এই মন্ত্রী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এখন ব্যস্ত মাঠ গোছাতে। দুই উপজেলায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনবারের নির্বাচিত এই এমপি ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত এলাকায় যে উন্নয়ন করেছেন, আবার সে ধরনের উন্নয়ন করবেন। এই আসনে এখন পর্যন্ত জামায়াতের নিষ্ক্রিয়তা ভাবিয়ে তুলেছে বিএনপিকে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে আঁতাত করেছিলেন জামায়াতের  নেতাদের সঙ্গে। যেকোনো কাজ নিজ দলের নেতাকর্মীদের না দিয়ে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের। ওমর ফারুক এখন ‘সেভেন স্টার’ খ্যাত এই আসনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ সাত নেতাকে পাশে পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

বুধবার রাজশাহী-১ আসনের এলাকা ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এলাকার প্রধান সমস্যা মাদক। পদ্মা হয়ে ওপার থেকে আসছে হেরোইন, ফেনসিডিল। ঘরে ঘরে মাদকের সমস্যা। গোদাগাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমার কলেজের ঝাড়ুদার যখন প্রতিদিন সকালে কলেজে ঝাড়ু দেয়, প্রতিদিনই ঝাড়ু দেওয়ার সময় ফেনসিডিলের বোতল পাওয়া যায়।’

সরকারি গোদাগাড়ী কলেজের বাংলা বিভাগের তিন শিক্ষার্থীর কাছে প্রশ্ন ছিল, প্রথম ভোটার হিসেবে প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা কী। আকবর আলি, সোনিয়া নাসরিন ও সাকিল আহমেদ—তিনজনের উত্তর ছিল অভিন্ন। এলাকার উন্নয়ন যাঁকে দিয়ে হবে বলে তাঁরা মনে করবেন, প্রথম ভোটটা তাঁকেই দেওয়া হবে। তাঁদের তিনজনেরই অভিযোগ, এলাকায় যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নেশায়। এই নেশায় যত দ্রুত লাগাম টানা যায়, ততই মঙ্গল। তরুণ ভোটাররা নিশ্চিত কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ঘুষ বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন। আহমেদ রানা নামের আরেক ভোটার জানিয়েছেন, পদ্মার ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দাবি তাঁর।

গোদাগাড়ী ও তানোরে মাদকের মদদদানের অভিযোগ আছে সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি। গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমি একবার এমপি মহোদয়ের কাছে ওসির বিরুদ্ধে মাদকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে গিয়ে বললাম তাঁকে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু আমার কথা শোনা হলো না। আমি যা বোঝার বুঝি।’ তবে এখন একসঙ্গে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে মেয়র বলেন, ‘এখন হতাশা নেই। আমরা একসঙ্গে তাঁর জন্য কাজ করব।’ জেলার নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শান্তকুমার মজুমদার বলেন, এখানে যে উন্নয়ন হয়েছে, তার মূল্যায়ন করা উচিত।

এদিকে গোদাগাড়ী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তাজমিলুর রহমান শেলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ আমাদের হয়রানি করছে। প্রচারণা চালাতে বাধা দিচ্ছে। আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার যে অভিযোগ করা হয়, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। তিনি মামলার কারণে এলাকায় আসতে পারেননি। তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।’

বলা হচ্ছে, ওমর ফারুক চৌধুরীর জয় সহজ হবে স্থানীয়ভাবে ‘সেভেন স্টার’ বলে খ্যাত আওয়ামী লীগের সাত নেতাকে পাশে পেলে। তাঁরা হলেন তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম রব্বানী, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বদরুজ্জামান রবু মিয়া, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মোকবুল হোসেন, প্রচার সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বাবু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আতাউর রহমান, কৃষক লীগ নেতা আব্দুল ওহাব জেমস ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মতিউর রহমান। জানা যায়, এই সাতজনের যে কাউকে এমপি পদে মনোনয়ন দিলে তাঁর হয়ে কাজ করার কথা দলের হাইকমান্ডকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু মনোনয়ন দেওয়া হয় ওমর ফারুক চৌধুরীকে। গত মঙ্গলবার রাতে পৌর এলাকায় এক বৈঠকে ওমর ফারুক সাত নেতার প্রতি অনুরোধ জানান তাঁর পাশে দাঁড়াতে।

মন্তব্য