kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

জাজিরা প্রান্তে আজ চার লেন সড়ক খুলছে

পদ্মা সেতুর অগ্রগতি হয়েছে ৩৯ শতাংশ

পার্থ সারথি দাস   

৮ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাজিরা প্রান্তে আজ চার লেন সড়ক খুলছে

পদ্মা সেতুর জাজিরা সংযোগ সড়ক। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতুর বিভিন্ন অঙ্গ ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৩৯ শতাংশ। এরই মধ্যে মূল সেতুর পাইল নির্মিত হয়েছে ৪০টি। টোল প্লাজাসহ মাওয়া সংযোগ সড়কের কাজও পুরোপুরি শেষ। জাজিরা চার লেন সংযোগ সড়কের শিবচর থেকে কাঁঠালবাড়ী পর্যন্ত আট কিলোমিটার অংশ আজ রবিবার উদ্বোধন করা হবে। তাতে ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতে কমপক্ষে এক ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে। দিন কয়েকের মধ্যেই কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটটি সরিয়ে নেওয়া হবে কাঁঠালবাড়ীতে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে প্রকল্পের শিবচর গোলচত্বরে জাজিরা সংযোগ সড়কের এ অংশের ফলক উদ্বোধন করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পাঁচ দিন আগে থেকেই এ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। আজ উদ্বোধন উপলক্ষে সুধী সমাবেশও হবে। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ৬০০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বি এম মোজাম্মেল হক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী।

সংসদ সদস্য বি এম মোজাম্মেল হক গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, জাজিরা সংযোগ সড়ক উদ্বোধন উপলক্ষে শিবচর গোলচত্বরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা আরো কম সময়ে চলাচল করতে পারবে। কারণ কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটটি কাঁঠালবাড়ীতে স্থানান্তর করা হবে। পদ্মা সেতু ধীরে ধীরে বাস্তব হতে চলেছে। সংযোগ সড়ক উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকাবাসীও উচ্ছ্বসিত।

প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (সড়ক) সৈয়দ রজব আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, জাজিরা সংযোগ সড়ক ১০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ অংশে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৮৬ শতাংশ। জাজিরা টোল প্লাজার অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়ে গেছে। সেখানে রোড মার্কিং, বিদ্যুৎ সংযোগ, বুথ স্থাপনের কাজ বাকি আছে।

এই সংযোগ সড়ক চার লেনের। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এর স্থায়িত্ব হবে ১০০ বছর। তবে ২০-৩০ বছরের ব্যবধানে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। সংযোগ সড়কের পুরুত্ব ৮১০ মিলিমিটার। চার লেন সড়কটির মধ্যস্থলে আছে বিভাজক। প্রতিটি লেন ৩.৬৫ মিটার বা ১২ ফুট প্রশস্ত।

জাজিরা সংযোগ সড়কের শিবচর-কাঁঠালবাড়ী অংশে ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে গত মাসে। জাজিরার নাওডোবায় ঢালাইয়ের কাজ কিছু বাকি আছে। তবে জনগণের সুবিধার জন্যই শিবচর-কাঁঠালবাড়ী অংশ চালু করা হচ্ছে।

জাজিরা সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর। প্রকল্পের চুক্তি মূল্য এক হাজার ৯৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত কাজের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৮৫.৮০ শতাংশ। জাজিরা সংযোগ সড়ক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবদুল মোনেম ও এইচসিএমজেবি।

১৫ জানুয়ারির মধ্যে মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটটি পাশের কাঁঠালবাড়ীতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী বলেন, ঘাটটি সরিয়ে নিলে সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে চলাচলে আগের চেয়ে আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় কমবে। কাঁঠালবাড়ীসংলগ্ন সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, বরিশালগামী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন এই চার লেন সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে পারবে।

জাজিরা সংযোগ সড়কটি শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা থেকে মাদারীপুরের পাচ্চর পর্যন্ত। সমতল থেকে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় মিটার উঁচুতে নির্মাণ করা হয়েছে চার লেনের মজবুত সড়কটি। বন্যাপ্রবণ ও জলাভূমির ওপর নির্মিত সড়কটির স্থায়িত্ব হবে কমপক্ষে ১০০ বছর। স্বাভাবিক সড়কগুলোর চেয়ে এ সড়কের ওপরের স্তরগুলোর পুরুত্ব রাখা হচ্ছে বেশি।

সংযোগ সড়কে পাঁচটি বড় সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে বহু আগেই। ২০টি কালভার্ট নির্মাণের কাজও শেষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য রয়েছে আটটি আন্ডারপাস।

প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের অগ্রগতি : প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মূল সেতুর অগ্রগতি হয়েছে ৩৪ শতাংশ। মূল সেতু নির্মাণের জন্য বানানো হয়েছে ৪০টি পাইল, ভায়াডাক্ট করা হয়েছে ৩৬টি। মোট ৩০ হাজার মিটারের মধ্যে ১৮ হাজার মিটার স্টিল পাইল ফেব্রিকেশন করা হয়েছে। পাইলের নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য এক লাখ ২৯ হাজার টন স্টিল প্লেটের মধ্যে এক লাখ ২৫ হাজার টন স্টিল প্লেট প্রকল্প এলাকায় এসেছে। মাওয়ায় কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে ১৫০ মিটার স্প্যানের চারটি ট্রাস ফেব্রিকেশনের কাজ চলছে। নদীশাসন কাজে অগ্রগতি হয়েছে ২৮.৫০ শতাংশ। মাওয়া সংযোগ সড়কের কাজ হয়েছে ১০০ শতাংশ। সার্ভিস এরিয়া-২-এর কাজ হয়েছে ১০০ শতাংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা