kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ছদ্মবেশে সবখানে জামায়াত-শিবির!

আরিফুজ্জামান তুহিন, এস এম আজাদ ও মোশতাক আহমদ   

২৭ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



ছদ্মবেশে সবখানে জামায়াত-শিবির!

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াত নেতাদের সাজা হতে শুরু করলে দেশজুড়ে সহিংসতা চালায় জামায়াত-শিবির। দীর্ঘদিন চলে তাদের এই তাণ্ডব। এ বছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ডাকা প্রায় তিন মাসব্যাপী অবরোধ-হরতালের সময়ও পেট্রলবোমা ছুড়ে যাত্রীবাহী বাস জ্বালিয়ে দেওয়াসহ ব্যাপক নাশকতা চালিয়েছে প্রধানত জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। তাদের এ তাণ্ডবে নিহত হয়েছে ১০১ জন আর অগ্নিদগ্ধ হয়েছে সাড়ে তিন শ সাধারণ মানুষ। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় লুকিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করায় অনেক ক্ষেত্রে নাশকতাকারীদের চিহ্নিতই করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সরকারি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমনকি ক্ষমতাসীন দলে কৌশলে ঢুকে পড়ছে জামায়াত-শিবির। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগে দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা করে নিচ্ছে তারা। এরাই পরবর্তী সময়ে জামায়াত-শিবিরকে নানা ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত থেকে আসা নেতাদের আওয়ামী লীগ ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও সাম্প্রতিক সন্ত্রাস-নাশকতায় বোমা মারার সময় হাতেনাতে ধরা পড়া জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের আওয়ামী লীগের নেতারা অর্থের বিনিময়ে তাঁদের সমর্থক ও সৎ হিসেবে সনদ দিচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামায়াতের অনেক লোক বাইরে নিজেদের পরিচয় দেয় বিএনপি বা আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো প্রগতিশীল দলের লোক হিসেবে। সরকারি নজরদারির অভাবে এদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন আদমজী সন্সে জামায়াতের লোকদের দাপট-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আসে কয়েক মাস আগে। মন্ত্রণালয় থেকে এর তদন্ত হচ্ছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জামায়াত-শিবির বসে আছে। তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলছে। শুধু প্রশাসন কিংবা পুলিশে নয়, খোদ আওয়ামী লীগে জামায়াত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতাদের প্রকাশ্যে ফুলের মালা দিয়ে আওয়ামী লীগে নেওয়া হচ্ছে।' তিনি বলেন, 'একটি দলের শৃঙ্খলা বলতে যদি কিছু থাকে তাহলে আওয়ামী লীগের মতো একটি দলে কখনোই জামায়াত-শিবির স্থান পেতে পারে না। এ দলে কোনো শৃঙ্খলা নেই।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক অনুষদের একটি বিভাগে ছাত্রশিবিরের এক কর্মী ভর্তি হয়ে বিভাগের অধিকাংশ প্রগতিশীল শিক্ষকের সঙ্গে মিশে যান। তবে শেষ পর্যায়ে তাঁর আসল পরিচয় বেরিয়ে আসে। পরে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের আমলেই। গোয়েন্দা তথ্যমতে, সাবেক এই শিবির নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি দলের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আলবদর নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার খবর পেয়ে গত ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেন, 'জয় মা কালী, জয় ইন্ডিয়া'। পরে তিনি মন্তব্য সংশোধন করে লেখেন, 'জয় ইন্ডিয়া, জয় মাসল পাওয়ার, জয় পলিটিকস'। এ বিষয়ে ফেসবুকে অন্যরা তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বিভিন্ন সময়ে লেখেন, 'জয় বাংলা শুধু একটি দলকেই উপস্থাপন করে', 'জয় বাংলাদেশ বলুন। এটা অরাজনৈতিক। জয় বাংলা দুটি দেশকে উপস্থাপন করে।' সবশেষে মন্তব্য করেন, 'কারেক্টেড : জয় ইন্ডিয়া, জয় মাসল পাওয়ার, জয় নেসটি পলিটিকস, জয় ইনজাস্টিস'। এ ঘটনার পর দিন বুয়েটের ওই শিক্ষকের কাছে যায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে তাঁর গায়ে হাত তোলে। ঘটনার সময় বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষক লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ২০ এপ্রিল বুয়েট প্রশাসন শুভ্র জ্যোতি টিকাদার ও আবু সাঈদকে আজীবন বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আদালতের রায় অনুযায়ী আলবদর নেতার ফাঁসি কার্যকর করা হলেও এ নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করায় জাহাঙ্গীর আলমকে কোন দণ্ড পেতে হয়নি। উল্টো যারা প্রতিবাদ করল তাদেরই আজীবন বহিষ্কার করে দিল কর্তৃপক্ষ। বুয়েট প্রশাসনে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের প্রভাবের এটি ছোট্ট একটি নমুনা।

এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে শাহরিয়ার কবির বলেন, 'ছাত্রলীগ সেখানে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করতে যায়নি। আমাদের সর্বোচ্চ আদালতে দেওয়া রায় নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদ করতে তারা গিয়েছিল। এ জন্য ছাত্রলীগকে পুরস্কার না দিয়ে বুয়েট বহিষ্কার করল। বুয়েটে এখন জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব চলছে, যারা সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে প্রশ্ন তুলেও পার পেয়ে যাচ্ছে। এর অবসান হওয়া দরকার।'

আওয়ামী লীগেও জামায়াত-শিবির : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ে জামাতের নেতা হিসেবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন মৌলভী বখতিয়ার আহমেদ। মিয়ানমার থেকে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে তাদের তিনি আশ্রয় দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ আছে। বখতিয়ার মেম্বারের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রি, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে (আরএসও) মদদ দেওয়াসহ নানা ধরনের অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২১ আগস্ট উখিয়া থানায় মামলা হয়েছিল। সে বছরের ১০ নভেম্বর বখতিয়ার মেম্বারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে মর্মে চার্জশিট দেন উখিয়া থানার উপপরিদর্শক। কিন্তু বখতিয়ারকে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে সনদ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেন ওই এলাকার সরকারদলীয় এমপি আবদুর রহমান বদি। এ প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৬তম সভায় মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে বখতিয়ার মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় আদালত থেকে। বর্তমানে বখতিয়ার মেম্বার উখিয়া উপজেলা মংস্য লীগের সভাপতি। তবে আরএসও জঙ্গিদের মদদ দেওয়া ও ইয়াবা বিক্রির টাকা জঙ্গিবাদে সরবরাহ বন্ধ করেননি তিনি। এভাবেই বখতিয়ার মেম্বার আওয়ামী লীগের ব্যানারেই চালিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতের কাজ।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র মো. রেজাউল ইসলামকে পেট্রলবোমাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছিল মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। শিবিরকর্মী মো. রেজাউল ইসলামের জামিনের আবেদনের সঙ্গে তার আইনজীবী আদালতে একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। এ প্রত্যয়নপত্রটি দেন আওয়ামী লীগের পাবনা সদর উপজেলা সভাপতি আলহাজ মো. মোশারফ হোসেন। ওই প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়- 'আসামি রেজাউল ইসলাম আওয়ামী লীগের সদস্য। সে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত নয়।'

গত বছর সিরাজগঞ্জে যে পাঁচ জঙ্গিকে র‌্যাব আটক করে, তাদের মধ্যে জঙ্গি সংগঠনের একজন এহসার সদস্যের জন্য আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্যসহ অনেক আওয়ামী লীগার লিখিতভাবে সুপারিশ করেন। এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে গত বছর ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা জামায়াতের সাবেক সভাপতি আবু বক্কর খান আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এ নিয়ে তখন সংবাদপত্রে বেশ লেখালেখিও হয়।

পুলিশে জামায়াতের সোর্স! : ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর রাজধানীতে কর্মরত পুলিশের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে কল করে ও ম্যাসেজ পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনার তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে, লন্ডন থেকে ওই ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটিয়েছে জামায়াত-শিবিরের একটি গ্রুপ। ডিবির সাইবার ক্রাইম শাখার প্রধান ও সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান এ ব্যাপারে বলেন, 'লন্ডন থেকে ইন্টারনেট প্যাকেজের মাধ্যমে একটি নম্বর থেকেই বেশি হুমকি দেওয়া হয়। নম্বর শনাক্ত হলেও ব্যক্তি শনাক্ত হয়নি।' তবে দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের সরকারি ও ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বর জামায়াত-শিবিরের বিদেশি সিন্ডিকেটের হাতে কিভাবে গেল তা বের করা যায়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা। তদন্তসংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা বলেন, 'পুলিশের অভ্যন্তরের সোর্সের মাধ্যমেই জামায়াত-শিবির তথ্য পাচ্ছে। এমনকি জামায়াত-শিবিরের নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযানের তথ্যও আগে ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা খতিয়ে দেখে ভেতরের লোক শনাক্ত হয়েছে এমনটি আমার জানা নেই।'

২০১৩ সালের ২০ এপ্রিল গোপালগঞ্জে আবুল হায়াত মোল্লা নামে এক শিবিরকর্মীকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছে তিন পুলিশ কর্মকর্তার নাম পাওয়া যায়। ওই বছরের অক্টোবরে এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের ওপর আক্রমণের পাশাপাশি জামায়াত-শিবির সক্রিয় পুলিশ কর্মকর্তাদের হিটলিস্ট করছে। পুলিশের ভেতরে সোর্স নিয়োগ করেই সরকারের আজ্ঞাবহ বা আস্থাশীল কর্মকর্তাদের ব্যাপারে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।' তবে এমন 'সোর্স' সিন্ডিকেটে কারা জড়িত তা বের করতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর নীলনকশা হিসেবে সাবেক ছাত্রদল নেতা ইন্সপেক্টর আমানউল্লাহ আমানকে প্রথমে সাতক্ষীরায় ডিবিতে ও পরে সদর থানায় বদলি করে নেওয়া হয়। আমানউল্লাহ আমান ডিবিতে থাকাকালে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রতিটি অভিযানের খবর আগেভাগে ফাঁস করে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাতক্ষীরা ডিবির ইন্সপেক্টর মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি নুরুল হুদাকে ধরতে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালালেও তা ব্যর্থ হয়। কারণ ইন্সপেক্টর মোশাররফ হোসেনের মাধ্যমে আগেভাগে খবর পেয়ে সটকে পড়েন নুরুল হুদা।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'বিএনপি জোট ক্ষমতায় থাকার সময় ছাত্রদল পরিচয়ের পাশাপাশি শিবিরের পরিচয়ে কিছু নিয়োগ হয়েছে। টাকার বিনিময়ে অনেক নিয়োগ হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই জামায়াত-শিবিরের। দলই তাঁদের সেই ঘুষের টাকা জোগান দিয়ে প্রশাসনে দলীয়করণ করেছে। নিয়োগের সময় রাজনৈতিক পরিচয়টা না থাকার কারণে তাঁরা বর্তমান সরকারের আমলেও অনেকটা আড়ালে আছে। কৌশলে চলছেন অনেকে। তাঁদের শনাক্ত করা যায়নি।'

সক্রিয় ৩০-৪০ হাজার নারী সদস্য : দলীয় সূত্রে জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বানচাল করার লক্ষ্যে অপপ্রচার আর বিকৃত তথ্য ছড়ানোর কাজ করছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার নারী, যারা জামায়াত-শিবিরের সক্রিয় সদস্য। ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে তারা পরিচালিত। তাদের মধ্যে আছে 'ফুল টাইমার' ও 'পার্ট টাইমার' কর্মী। তারা মাসিক বেতন পায়।

জানা যায়, জামায়াত-শিবির ২০২৮ সালকে টার্গেট করে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ওই বছর ছাত্রশিবিরের ৫০ বছর পূর্ণ হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার এক সদস্য বলেন, '২০২৮ সালের মধ্যে ডাক্তার, পুলিশ, বিজিবি, শিক্ষক, সরকারি আমলা, আইনজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সব সেক্টরে বেশির ভাগ লোকই থাকবে জামায়াত-শিবিরের। এসব স্থানে শক্ত অবস্থান তৈরির পর দেশে একটা বিপ্লব ঘটানো হবে।' ওই নেতার দাবি, মিসরে ব্রাদারহুডের ৯০ শতাংশ সমর্থক থাকার পরও সেনাবাহিনীতে লোক না থাকায় মুরসি সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, 'এ ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। আমরা মনে করি, এটা আমাদের জন্য বড় সংকেত ও শিক্ষা।'

 

 



সাতদিনের সেরা