kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

সন্ধ্যামালতি

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সন্ধ্যামালতি

[সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে সন্ধ্যামালতির উল্লেখ আছে]

সন্ধ্যামালতি বা সন্ধ্যামণি বহুবর্ষজীবী গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত বসতবাড়ি সাজানোর কাজে এই ফুলগাছ ব্যবহৃত হয়। ইংরেজিতে এটি Four O’clock, Beauty-of-the-night, Marvel of Peru, Shower flower, Purple Jasmine

প্রভৃতি নামে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম Mirabilis jalapa। ধারণা করা হয়, এই ফুলের আদি নিবাস পেরু। সেখান থেকে স্প্যানিশ বণিকদের মাধ্যমে অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

সন্ধ্যামালতি বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। তবে এই ফুলে সাদা, হলুদ ও গোলাপি রঙের প্রাধান্য বেশি দেখা যায়। এর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো একই গাছে বিভিন্ন রঙের ফুল ফুটতে পারে। শুধু তাই নয়, মাঝে মাঝে একই ফুলে বিভিন্ন রং দেখা যায়।

বাংলাদেশে খুবই পরিচিত ফুল সন্ধ্যামালতি। দেশের প্রায় সব জেলায় বছরের প্রায় সময় এই ফুল দেখা যায়। প্রায় ইঞ্চিখানেক চওড়া, লম্বায় প্রায় দুই ইঞ্চি এবং কিছুটা ঘণ্টা আকৃতির যুক্ত পাপড়ির এই ফুল দেখতে খুব সুন্দর। ফুলগুলো একক অথবা গুচ্ছাকারে ফোটে।

সন্ধ্যামালতি দুই থেকে তিন ফুট লম্বা এবং একই রকম চওড়া উদ্ভিদ। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকাল জুড়ে এই ফুল ফুটতে দেখা যায়। বীজ ক্ষুদ্র, কালো রঙের। আমাদের চারপাশের বেশির ভাগ ফুলই সকালে ফোটে; কিন্তু প্রকৃতিতে এমন অনেক ফুল আছে, যেগুলো রাতে ফোটে। আবার এমন কিছু কিছু ফুল আছে, যা শুধু সন্ধ্যায় ফোটে। যেমন—সন্ধ্যামালতি। নামেই এই ফুলের পরিচয়। অন্যান্য ফুল যেখানে সারা দিন নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে ব্যস্ত থাকে, তখন সন্ধ্যামালতি ঘুমিয়ে থাকে। যখন অন্য ফুলেরা ঘুমিয়ে পড়ে, তখন সন্ধ্যামালতি নিজ সৌন্দর্য প্রকাশ করে। এই ফুল সারা রাত ফুটে থাকার পর সকালে এসে চুপসে শুকিয়ে যেতে থাকে। আমাদের গ্রামবাংলার লোকেরা এই ফুলকে সন্ধ্যা ফুল এবং ভারতের আসামের লোকজন এই ফুলকে গোধূলী গোলাপ নামে ডাকে।

সন্ধ্যামালতির কিছু ভেষজ গুণ আছে। এর পাতার নির্যাস ত্বকের প্রদাহ, শুষ্ক ত্বক, ক্ষত নিরাময় ও ব্যথা নিরসনে ব্যবহৃত হয়। দক্ষিণ ব্রাজিলে উল্লিখিত উপসর্গের ভেষজ চিকিৎসায় আজও সন্ধ্যামালতির পাতার নির্যাস ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া ফুল থেকে এক ধরনের খাবার উপযোগী রং পাওয়া যায়, যা কেক ও জেলিতে ব্যবহৃত হয়।

 

 ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য