kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

হাজং

[অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের একাদশ অধ্যায়ে ‘হাজং’-এর কথা উল্লেখ আছে]

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাজং

হাজং বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। মূলত শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ী, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায় হাজংদের বসবাস। কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। নৃবিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদি নিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের একটি দল তাদের আদি নিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে। সপ্তদশ শতকে মোগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে। তারা প্রাচীনকাল থেকেই জমিচাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত। সে জন্য অনেক হাজং মনে করে গারোরা তাদের নামকরণ করেছে হাজং। ‘গারো গিলা আমগা নাম থুছে হাজং’। অর্থাৎ গারোরা আমাদের নাম রেখেছে হাজং। গারো ভাষায় ‘হা’ মানে মাটি এবং ‘জং’ মানে পোকা অর্থাৎ মাটির পোকা। দেশভাগের আগে ময়মনসিংহ জেলায় হাজংরা চাষাবাদের মাধ্যমে স্বনির্ভর ছিল। হাজংদের দৈহিক গঠন মধ্যমাকৃতি। দেহ হৃষ্টপুষ্ট ও মাংসল। মাথার চুল ঘন ও কালো। তারা বেশ হাসিখুশি স্বভাবের। বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা। তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এটি তারা নিজেদের মধ্যেই ব্যবহার করে। হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই। তারা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে। হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা ‘পাথিন’ বলে। পাথিন বিভিন্ন রঙের সংমিশ্রণে তাঁতে বোনা ডোরাকাটা মোটা কাপড়, যা দৈর্ঘ্যে সাড়ে তিন হাত এবং প্রস্থে আড়াই হাত হয়ে থাকে। হাজংরা সাধারণত বাঁশ, কাঠ, ছন প্রভৃতির সাহায্যে বসতঘর নির্মাণ করে। ঘরগুলো সাধারণত চার চালার হয়। আমিষভোজী হাজংদের প্রধান খাদ্য ভাত। বিন্নি চালের ভাত ও শুঁটকি মাছ তাদের প্রিয়। হাজং সমাজে পঁচুই মদের প্রচলন রয়েছে। হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। কোনো বিধবা হাজং যদি পুনর্বিবাহ না করেন, তবে তিনি তাঁর স্বামীর সম্পত্তির অধিকারী হন। হাজংরা যৌথ পরিবারে বাস করে। তবে বর্তমানে অনেকেই একক পরিবার গঠনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। গ্রামের বয়স্ক, সচ্ছল ও বিজ্ঞ ব্যক্তিকে গাঁওবুড়া বা গ্রামপ্রধান নির্বাচন করা হয়। তিনি তাঁর অধীন গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করেন। এক বিবাহ হাজং সমাজে স্বীকৃত প্রথা; তবে প্রথম স্ত্রীর অনুমতিক্রমে পুরুষ দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে। হাজং সমাজে বিধবা বিয়ের প্রচলন আছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও টঙ্ক আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে হাজংরা। কুমুদিনী হাজং ও যাদুমণি হাজং টঙ্ক আন্দোলন এবং জমিদারবিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। এই আন্দোলনে রাসিমণি হাজং প্রথম শহীদ হন।

পিন্টু রঞ্জন অর্ক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা