kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

কালিবঙ্গান

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে কালিবঙ্গানের কথা উল্লেখ আছে]

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কালিবঙ্গান

ভারতীয় অঞ্চলের পুরনো সভ্যতাগুলোর একটি কালিবঙ্গান। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই সভ্যতা প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো।

বর্তমান ভারতের রাজস্থান রাজ্যে ঘগর নদের একটি অধুনালুপ্ত খাতের ধারে অবস্থিত এই বিখ্যাত প্রত্নক্ষেত্র। একেই এখন মনে করা হচ্ছে ভারত বর্ষের সবচেয়ে পুরনো সভ্যতা। কারো কারো মতে, এই সভ্যতা হরপ্পা সভ্যতার চেয়েও পুরনো। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এই সভ্যতা হরপ্পা সভ্যতারই অংশ।

কালিবঙ্গান জায়গাটির নাম এখনো বহাল আছে। হনুমানগড় ও সুরতগড়ের মাঝে কালিবঙ্গান শহরের প্রত্নক্ষেত্রে ওই সময়কার বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ও পুরনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষিত আছে।

কালিবঙ্গান প্রত্নক্ষেত্রটি খননের সময় কালো রঙের অসংখ্য টেরাকোটার চুড়ি আবিষ্কৃত হয়। এ জন্যই জায়গাটির নাম ‘কালিবঙ্গান’। এখানে কালি বলতে কালো, আর বঙ্গান মানে চুড়ি বোঝানো হয়েছে।

এই প্রত্নক্ষেত্রটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখানেই ভারত বর্ষের প্রথম কৃষিকর্মের চিহ্ন পাওয়া যায়। কৃষিক্ষেত্রের ওপর লাঙল চালনার চিহ্নও রয়েছে কালিবঙ্গানে। প্রত্নিতাত্ত্বিকদের ধারণা মতে, কৃষিক্ষেত্রটি আনুমানিক চার হাজার ৮০০ বছরের পুরনো।

ইতালির প্রত্নতত্ত্ববিদ লুইগি তেসিতোরি এই সভ্যতা আবিষ্কার করেন। আবার কোনো কোনো প্রত্নতাত্ত্বিকের মতে, ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫৩ সালে অমলানন্দ ঘোষ এই প্রত্নক্ষেত্র আবিষ্কার করেন। তবে তিনি মনে করেছিলেন, এই প্রত্ন অঞ্চলটি হরপ্পা সভ্যতারই অংশ। ১৯৬০ সালে বি কে থাপারের তত্ত্বাবধানে এখানে খননকাজ চালানো হয়। প্রাপ্ত নিদর্শন দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করেন, এটি নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা ছিল এবং অঞ্চলটি ছিল জনবহুল। এখানে সাতটি অগ্নিবেদি ও উটের উপস্থিতিরও প্রমাণ পাওয়া যায়। কালিবঙ্গানের অনেক বাড়িতেই নিজস্ব কুয়ো ছিল। এ ছাড়া এখানে আয়তাকার কবরযুক্ত সমাধি ও গোলাকার কবরযুক্ত সমাধি—এই দুই ধরনের সমাধিক্ষেত্র পাওয়া যায়।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা