kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

শকুন

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘সুন্দরবনের প্রাণী’ প্রবন্ধে শকুনের কথা উল্লেখ আছে]

পিন্টু রঞ্জন অর্ক   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শকুন

শকুন তীক্ষ দৃষ্টিবিশিষ্ট একধরনের শিকারি পাখি। এর ইংরেজি নাম Vulture। এটি মৃত প্রাণীর মাংস খেয়ে থাকে। প্রশস্ত ডানার ওপর ভর করে এরা আকাশে ওড়ে। এদের মাথা, গলা বা ঘাড়ে পালক নেই। বট, পাকুড় কিংবা অশ্বত্থের মতো বিশাল গাছে সাধারণত লোকচক্ষুর অন্তরালে শকুন বাসা বাঁধে। এরা সাধারণত গুহায়, গাছের কোটরে বা পর্বতের চূড়ায় ১-৩টি সাদা বা ফ্যাকাশে ডিম পাড়ে।

সারা বিশ্বে প্রায় ১৮ প্রজাতির শকুন রয়েছে। এদের সব কটি Accipitridae  গোত্রভুক্ত। বাংলাদেশে ছয় প্রজাতির শকুন দেখা যায়। এর মধ্যে চারটি স্থায়ী এবং দুটি পরিযায়ী। এগুলো হলো রাজ শকুন, গ্রিফন শকুন বা ইউরেশীয় শকুন, হিমালয়ী শকুন, সরুঠোঁট শকুন, কালা শকুন ও ধলা শকুন। সব প্রজাতির শকুনই সারা বিশ্বে বিপন্ন। স্থায়ী প্রজাতির মধ্যে রাজ শকুন (Sarcogyps calvus) অতি বিপন্ন।

শকুন সাধারণত আকাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ওড়ে এবং সঙ্গীদের ওপর নজর রাখে। চক্রাকারে ঘোরা কোনোটিকে শবের ওপর নামতে দেখলে অন্যরা তাকে দ্রুত অনুসরণ করে। এরা  বেশিক্ষণ এক জায়গায় উড়তে পারে না এবং  বেশ ওপরে ওঠায় ঊর্ধ্ব দিকে প্রবহমান বায়ুস্রোতের ওপর নির্ভরশীল। ভরা পেট নিয়ে এরা উড়তে পারে না।

একসময় আমাদের দেশে প্রচুর শকুন দেখা যেত। শকুন দেখতে যে খুব সুন্দর পাখি তা কিন্তু নয়। এরা উড়ে বেড়ায় আকাশের অনেক ওপরে। বাসা করে গাছের ডালে। মানুষের পক্ষে যা ক্ষতিকর, সেই সব আবর্জনা শকুন খায় এবং পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখে। শকুনই একমাত্র প্রাণী, যা রোগাক্রান্ত মৃত প্রাণী খেয়ে হজম করতে পারে এবং অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা, খুরারোগের সংক্রমণ থেকে অবশিষ্ট জীবকুলকে রক্ষা করে। কিন্তু বাংলাদেশে ডাইক্লোফেনাকের যথেষ্ট ব্যবহারের কারণে শকুন বিলুপ্তির মুখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত পশুর মাংস শকুনের কোনো ক্ষতি করে না; কিন্তু ডাইক্লোফেনাক দেওয়া হয়েছে, এমন মৃত পশুর মাংস খেলে কিডনি নষ্ট হয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে শকুনের মৃত্যু ঘটে। এ কারণে গত তিন দশকে (২০১০) উপমহাদেশে ৭৫ শতাংশ শকুন মারা গেছে। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব ভেটেরিনারি মেডিসিনের গবেষক ড. লিন্ডসে ওক তাঁর এক গবেষণায় প্রমাণ করেন, পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাকের ব্যবহারই শকুন বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। শকুনকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শনিবার আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস পালিত হয়ে থাকে।           

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা