kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

ষষ্ঠ শ্রেণি

বাংলা প্রথম পত্র

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বি এ এফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গদ্য

কতকাল ধরে : আনিসুজ্জামান

সৃজনশীল প্রশ্ন

নুজহাত শীতের ছুটিতে মায়ের সঙ্গে গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়। যে কয়েকটা দিন তারা গ্রামে ছিল, সে কয় দিন নানি তাদের খাওয়ার জন্য সরু চালের ভাত, পোলাও-কোর্মা, রুই মাছ ও নুজহাতের প্রিয় গলদা চিংড়ি আর নানা রকম ফল-ফুল ও পিঠা-পায়েসের ব্যবস্থা করেছিলেন। নুজহাত খেতে না চাইলে নানা বলতেন, ‘খাও খাও, এককালে এসবই ছিল বাঙালির নিত্য প্রিয় খাবার।’

ক) ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য’ আনিসুজ্জামানের কী ধরনের রচনা?

উত্তর : মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য আনিসুজ্জামানের গবেষণাগ্রন্থ ধরনের রচনা।

 

খ) ‘প্রজারা রইল পেছনে পড়ে’ — কেন? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর : রাজরাজড়াদের আগমন এবং তাদের তৈরি নিয়ম-কানুনের ফলে প্রজারা পেছনে পড়ে রইল।

আনিসুজ্জামানের ‘কতকাল ধরে’ রচনায় ইতিহাসের পট পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এককালে এ দেশে যখন রাজরাজড়া ছিল না, তখন মানুষের দাম ছিল বেশি। লোকজন নিজেরাই যুক্তি-পরামর্শ করে কাজ করত, চাষ করত, ঘর বাঁধত, দেশ চালাত। তারপর তেইশ-চব্বিশ শ বছর আগে রাজা যখন এ দেশে এলেন, তাঁর সঙ্গে মন্ত্রী, সামন্ত-মহাসামন্তের দল এলো। অনেক লোক-লস্কর কাজে বহাল করা হলো, অনেক নিয়ম-কানুন, বিধিব্যবস্থা চালু হলো। সে সময় এককথায় কারো গর্দান যেত, কেউ বা বড়লোক হয়ে যেত কারো খুশির বদৌলতে। আর তখন থেকেই ইতিহাসে বড় বড় অক্ষরে রাজাদের নাম লেখা হয়ে গেল, ফলে প্রজারা রইল পেছনে পড়ে।

 

গ) উদ্দীপকটি ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধের সঙ্গে কিভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপকটি ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধের বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘কতকাল ধরে’ রচনায় বাঙালির প্রিয় খাবারের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ভাত বাঙালির বহুকালের প্রিয় খাদ্য। সরু সাদা চালের গরম ভাতের কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। বাঙালি সেকালে কলার পাতায় গরম ভাতের সঙ্গে গাওয়া ঘি, নালিতা শাক, মৌরলা মাছ, লাউ, বেগুন ইত্যাদি তরিতরকারি যেমন প্রচুর খেত, তেমনি খানিকটা দুধও। ইলিশ মাছ তো প্রিয় বস্তু ছিলই, সেই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে শুঁটকিরও চল ছিল। ছাগলের মাংস সবাই খেত। তবে উৎসব-আয়োজনে বা বিয়েবাড়িতে হরিণ ও পাখির মাংস দেখা যেত। ক্ষীর, দই, পায়েস, ছানা—এসব ছিল বাঙালির নিত্য প্রিয়। আম-কাঁঠাল, তাল-নারকেল ছিল প্রিয় ফল। আর খুব চল ছিল খাজা, মোয়া, নাড়ু, পিঠাপুলি, বাতাসা, কদমা এসবের। মসলা দেওয়া পান খেতেও সবাই ভালোবাসত।

উদ্দীপকের নুজহাত নানাবাড়িতে বেড়াতে গেলে তাদের নানি প্রতিদিন যেসব খাবার খাওয়াতেন, তা সাধারণত উৎসব-আয়োজনেই খাওয়া হয়। নুজহাত খেতে না চাইলে নানা বলতেন—ওসবই আসলে বাঙালির প্রিয় খাবার। উদ্দীপকের এই দিকটি ‘কতকাল ধরে’ রচনার উপর্যুক্ত বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

 

ঘ) উদ্দীপকটি ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধে সংক্ষেপে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার ধারাবাহিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে, যার একটি মাত্র দিক শুধু উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে।

‘গতকাল ধরে’ প্রবন্ধে বাংলাদেশের প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। তেইশ-চব্বিশ শ বছর আগে রাজরাজড়াদের আগমন থেকেই ইতিহাস লেখার সূচনা হয়। প্রাচীন কালের পুরুষরা পরত ধুতি-চাদর, মেয়েরা শাড়ি-ওড়না। সাধারণ লোক পড়ত কাঠের খড়ম। সোনার অলংকার পরার সুযোগ পেত শুধু ধনীরা। সাধারণ পরিবারের মেয়েরা পরত হাতে শাখা, কানে কচি কলাপাতার মাকড়ি, গলায় ফুলের মালা। কুস্তি ছিল সেকালের পুরুষদের প্রিয় খেলা। নারীদের ছিল সাঁতার। তবে পুরুষেরা শিকারও করত। ধনীরা দেখত হাতি-ঘোড়ার খেলা; গরিবরা মজা পেত ভেড়া, মোরগ-মুরগির লড়াই দেখে। জল-স্থল উভয় পথেই তারা যাতায়াত করত। বেশির ভাগ লোকই থাকত কাঠ-খড়-মাটি-বাঁশের তৈরি বাড়িতে। বড় লোকেরাই শুধু ইট-কাঠের বাড়ি করত। সেকালে রাজরাজড়া ছিল, এখন নেই; কিন্তু ধনী-দরিদ্র এখনো আছে। সেকালেও সাধারণ মানুষ স্বপ্ন দেখত সরু চালের সাদা গরম ভাতের। একালেও তারা তাই দেখছে।

উদ্দীপকে খাবারের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তাতে ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধে শুধু খাদ্যাভ্যাসের দিকই প্রতিফলিত হয়েছে, প্রবন্ধের উপর্যুক্ত দিকগুলোর কথা বলা হয়নি।

তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা