kalerkantho

পঞ্চম শ্রেণি

প্রাথমিক বিজ্ঞান

আবু জাফর সৈকত, সহকারী শিক্ষক, হাজী সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রাথমিক বিজ্ঞান

গাড়ির হর্ন শব্দ দূষণ করছে

দ্বিতীয় অধ্যায়

পরিবেশ দূষণ

কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন :     

১। বায়ু কী কী কারণে দূষিত হয়? বায়ু দূষণের পাঁচটি প্রতিকার লেখো।

উত্তর : বায়ু দূষণের কারণগুলো হলো—

i. কল-কারখানা ও যানবাহনের নির্গত কালো ধোঁয়া।

ii. গাছপালা ও ময়লা আবর্জনা পোড়ানো।

iii. যেখানে-সেখানে মলমূত্র ত্যাগ।

iv. বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস ও ধূলিকণা বায়ুতে মেশে।

v. যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা।

বায়ু দূষণের পাঁচটি প্রতিকার নিম্নে দেওয়া হলো—

i. কল-কারখানা ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া নির্গমন কমাতে হবে।

ii. গাছপালা ও ময়লা আবর্জনা পোড়ানো যাবে না। বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে।

iii. যেখানে-সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করা যাবে না ও নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলতে হবে।

iv. বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।

v. সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

২। পরিবেশ দূষণ বলতে কী বোঝো? পরিবেশ সংরক্ষণের পাঁচটি উপায় লেখো।

উত্তর : বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশকে নানাভাবে ব্যবহার করা হয়। ফলে পরিবেশে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবেশ যখন জীবের জন্য ক্ষতিকর তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলে।

পরিবেশ সংরক্ষণের পাঁচটি উপায় নিচে লেখা হলো—

i. বিদ্যুৎ বা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে।

ii. পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহার করা, পায়ে হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার করা।

iii. মাটি, পুকুর বা নদীতে ময়লা আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা।

iv. বেশি বেশি গাছ লাগানো।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

৩। পানি দূষণের ফলে সৃষ্ট রোগের নাম লেখো। মাটি দূষণের প্রভাবে মানুষের সৃষ্ট সমস্যা চারটি বাক্যে লেখো।

উত্তর : পানি দূষণের ফলে সৃষ্ট রোগের নাম হলো— কলেরা ও ডায়রিয়া।

মাটি দূষণের প্রভাবে মানুষের সৃষ্ট চারটি সমস্যা—

i. জমির উর্বরতা নষ্ট হয়।

ii. গাছপালা ও পশুপাখি মারা যায়।

iii. মানুষ কলেরা, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়।

iv.মাটি দূষণের ফলে বায়ু ও পানি দূষিত হয়। ফলে মানুষ সহজেই নানা রকম রোগে আক্রান্ত হয়।

৪। কলকারখানার বর্জ্য পানিকে দূষিত করে। পাঁচটি বাক্যে পানি দূষণের কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : পানি দূষণের পাঁচটি কারণ নিম্নে দেওয়া হলো—

i. কলকারখানার ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ পানি দূষিত করে।

ii. কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার দ্বারা পানি দূষিত হয়।

iii. গৃহস্থালি ও হাসপাতালের বর্জ্য দ্বারা পানি দূষিত হয়।

iv. মানুষ ও পশু-পাখির মলমূত্র পানিতে মিশে পানি দূষিত করে।

v. এসিড বৃষ্টির কারণে পানি দূষিত হয়।

৫। পরিবেশ দূষণের তিনটি কারণ লেখো। পরিবেশ দূষণ রোধে তিনটি পরামর্শ দাও।

উত্তর : পরিবেশ দূষণের তিনটি কারণ নিম্নে দেওয়া হলো—

i. শিল্পায়ন

ii. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার

iii. নির্বিচারে গাছ কাটা।

পরিবেশ দূষণরোধে তিনটি পরামর্শ-

i. ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা।

ii. অধিক হারে বৃক্ষ রোপণ করা।

iii. লোকালয় থেকে দূরে কলকারখানা স্থাপন করা।

৬। শব্দ দূষণের দুটি কারণ লেখো। উচ্চ শব্দের কারণে মানবদেহে সৃষ্ট একটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো। শব্দ দূষণ রোধে দুটি করণীয় লেখো।

উত্তর : শব্দ দূষণের দুটি কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো—

i. বিনা প্রয়োজনে গাড়ির হর্ন বাজানো।

ii. উচ্চঃস্বরে গান বাজানো যাবে না।

শব্দ দূষণ রোধে দুটি করণীয় হলো—

i. বিনা প্রয়োজনে গাড়ির হর্ন বাজানো নিষেধ করতে হবে।

ii. শব্দ দূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

৭। ‘পরিবেশ দূষণের জন্য মানুষ দায়ী’—তোমার উত্তরের স্বপক্ষে পাঁচটি বাক্য লেখো।

উত্তর : পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো মানুষ। নিচে আমার উত্তরের স্বপক্ষে পাঁচটি বাক্য লেখা হলো।

i. শিল্পকারখানা সচল রাখতে বিভিন্ন ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন- তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়, যা মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়।

ii. জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

iii. এই জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারই দূষণের প্রধান কারণ।

iv. প্রয়োজনীয় খাদ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য মানুষ পরিবেশ ধ্বংস করছে।

v. পরিবেশের বেশির ভাগ দূষণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ফলেই হয়ে থাকে। তাই পরিবেশ দূষণের জন্য মানুষ দায়ী।

৮। পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা :

পৃথিবীতে মানুষসহ অন্যান্য জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান পানি, মাটি, বায়ু প্রভৃতি ক্রমান্বয়ে দূষিত হতে থাকলে দূষণের প্রভাবে বনজঙ্গলের পরিমাণ ব্যাপক হারে হ্রাস পাবে। আর বনজঙ্গলের পরিমাণ কমে গেলে উদ্ভিদ ও প্রাণী হারিয়ে যাবে। ফলে পৃথিবীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তাই বলা যায়, জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষা করতে চাইলে অবশ্যই পরিবেশ সংরক্ষণ করতে হবে।

৯। অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য জমিতে কী ব্যবহার করতে হবে ৫টি বাক্যে লেখো।

উত্তর : রাসায়নিক সার ও কটিনাশক ব্যবহারের ফলে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যায়। তাই অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে—

i. জমিতে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।

ii. বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফসল চাষ করতে হবে।

iii. রাসায়নিক সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

iv. পরিমিত পরিমাণে সঠিকভাবে সার ব্যবহার করতে হবে।

v. কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক কৌশল প্রয়োগ করতে হবে।

১০। মাটি দূষণ কেন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? মাটি ও পানি দূষণের সাদৃশ্য কোথায়?

উত্তর : বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর বস্তু মাটিতে মেশার ফলে মাটি দূষিত হয়। মাটি দূষণের ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। দূষিত মাটিতে উৎপন্ন ফসল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে মানুষ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এ কারণে মাটি দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

মাটি ও পানি দূষণের সাদৃশ্য নিম্নরূপ :

i. কলকারখানার ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থের মাধ্যমে মাটি ও পানি উভয়ই দূষিত হয়।

ii. কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার দ্বারা মাটি ও পানি উভয়ই দূষিত হয়।

iii. গৃহস্থালি ও হাসপাতালের বর্জ্য দ্বারা মাটি ও পানি উভয় দূষিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা