kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করুন

মধ্য বাড্ডায় জনদুর্ভোগ

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্যই রাজধানীতে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের উন্নয়নকাজ করা হয়; কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অবহেলা, অব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ নজরদারির অভাবে এই উন্নয়নকাজই জনগণের বড় ধরনের দুর্ভোগের কারণ হয়। প্রায়ই দেখা যায়, প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গলিপথ পর্যন্ত রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়। এক দিন কাজ হয় তো দুই দিন কাজ বন্ধ থাকে। এসব রাস্তা বা গলিপথে হাঁটাচলা করতে গিয়ে সবচেয়ে সমস্যা হয় শিশু ও বৃদ্ধদের।

বিজ্ঞাপন

অনেকে গর্তে পড়ে হাত-পা ভাঙাসহ গুরুতর আহত হয়। ঠিকাদারদের তাতে কিছু যায় আসে না। অভিযোগ আছে, সিটি করপোরেশনও ঠিকমতো নজরদারি করে না। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, রাজধানীর মধ্য বাড্ডার মাটির গলিতে দুই মাস ধরে চলছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ড্রেনেজ লাইনের কাজ। পুরনো পাইপ তুলে বসানো হচ্ছে নতুন পাইপ। নতুন পাইপ বসানো হলেও পুরনো পাইপ সরানো হয়নি। মাটি, আবর্জনা জমা হয়ে আছে। এ কারণে এই গলিপথে যান চলাচল করতে পারছে না। স্থানীয় লোকজন ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকমে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ইশিকা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ড্রেনেজ লাইন স্থাপনের কাজটি করছে। অন্য সব কাজের মতো এখানেও শর্ত ছিল জনভোগান্তি সৃষ্টি না করে কাজ করার; কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এই গলির কয়েক শ মানুষের কাছে এটি এখন একটি মরণফাঁদ। স্কুলগামী ছোট ছোট শিশুকে নিয়ে মায়েদের চলাচল যে কতটা বিপজ্জনক, তা চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। নতুন বসানো পাইপের স্থানে স্থানে যেসব মুখ রয়েছে সেগুলোতে ঢাকনা পর্যন্ত বসানো হয়নি। সেগুলোতে উঁকি দিতে গিয়ে শিশুদের পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার মাটি, বর্জ্য এমনভাবে পড়ে আছে যে পিছলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এলাকাবাসীর বক্তব্য, অন্তত বর্জ্যগুলো নিয়মিত সরিয়ে নিলেও মানুষের এতটা ভোগান্তি হতো না; কিন্তু তা-ও করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তারা মনে করে, প্রতিষ্ঠানটি কাজে গাফিলতি করছে। কখনো কাজ চলে, কখনো বন্ধ থাকে। দুই মাসে যেটুকু কাজ হয়েছে, ইচ্ছা করলে তারা সেই কাজ ১৫ দিনেও করতে পারত।

আমরা মনে করি, ডিএনসিসি স্থানীয় মানুষের এই দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে। তাদের চলাচলের ন্যূনতম ব্যবস্থা রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাতে কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তদুপরি কাজটি যাতে দ্রুত শেষ করা যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা