kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ধর্ষণ মামলায় অভিযোগপত্র

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা দেশের সব মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে কলেজের ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। এ সময় ছাত্রাবাসের আঙিনায় তাঁর স্বামীকে আটকে রাখা হয়। ওই রাতেই ধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বামী মামলা করেন। গ্রেপ্তার আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এতে ছয় আসামিকে সরাসরি ধর্ষণে অভিযুক্ত করা হয়েছে; বাকি দুজন সহায়তাকারী। এ ছাড়া এই আটজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী তরুণীকে মারধর করাসহ ছিনতাইয়ের অভিযোগে করা আরেক মামলায়ও অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। গত অক্টোবর মাসে এজাহারভুক্ত ছয় আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের পর পাঠানো হয় ঢাকার ল্যাবে। সেখান থেকে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট প্রথমে আদালতে এসে পৌঁছায়। পরে তা তদন্ত কর্মকর্তার হাতে আসে।

দেশে প্রতিদিন গড়ে সাত নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মানবাধিকার সংগঠনের দেওয়া তথ্য মতে, প্রতিদিন অন্তত চারজনের ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হচ্ছে। মাঝেমধ্যে কিছু ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় হলেও ধর্ষণের ঘটনা কমেনি। ধর্ষণ-নিপীড়ন প্রতিরোধে নেই দৃশ্যমান কার্যক্রম। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের কমিটি থাকলেও তারা সভা-সেমিনারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। কমিটি থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আর বাস্তবায়িত হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এলাকাভিত্তিক গ্যাং ও বখাটেদের প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। সাম্প্রতিক সময়ের ধর্ষণের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে সমাজ বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন সেক্টরে অপরাধীচক্র গড়ে উঠেছে। রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এলাকাভিত্তিক দুর্বৃত্ত দল তৈরি হচ্ছে। ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিকারের পাশাপাশি আগে প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জোর দিয়েছেন সমাজ বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, নারী নিপীড়ন, বখাটেপনা, অপরাধী গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নজরদারির মাধ্যমে আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কোনো কোনো ঘটনা সমাজ ও মানুষের বিবেককে আলোড়িত করে। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তেমনই একটি ঘটনা। আলোড়ন থাকতে থাকতে এই বর্বর ধর্ষণকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। আমরা আশা করি, ধর্ষণকারীদের দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক দণ্ড দেওয়া হবে। যখন মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় চরমে পৌঁছে, সমাজ থেকে নৈতিকতা নির্বাসনে যায়, তখনই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ-নিপীড়ন বেড়ে যায়। এর কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি সামাজিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা