kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

অর্থনীতিতে আশাবাদ

সবাই মিলে কাজ করলে সেটা সম্ভব

১৫ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্রুত পুনরুদ্ধার হবে। অনেক দেশের তুলনায় অনেক দ্রুত সেটা ঘটবে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের আশাবাদ নাকচ করে দেওয়া যায় না। কারণ বিদায়ি অর্থবছরে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যে পূর্বাভাস দিয়েছিল তার চেয়ে অনেক ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বলেছিল, করোনার কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১.৬ থেকে ৩.৮ শতাংশ। এডিপি বলেছিল, প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৫ শতাংশ। বাস্তবে এর চেয়েও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.২৪ শতাংশ। করোনা পরিস্থিতির নিরিখে তা অনেক ভালো। এ নিরিখেই অর্থনীতিবিদরা আশাবাদের কথা বলেছেন। এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানি ব্যয়ে ভারসাম্য, রেমিট্যান্সে সাফল্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং জিডিপি অনুপাতে সরকারি ঋণ কম হওয়ায় অন্য দেশের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গবেষকরা মনে করেন, অর্থনৈতিক সূচকগুলো ইতিবাচক হওয়ায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ভালো হবে। দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৫.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ এডওয়ার্ড লি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ মন্দার মাঝেও আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশ এ বছর ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে যাবে। একটি হলো বাংলাদেশ, অন্যটি ভিয়েতনাম। জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিক থেকে বিচার করলে বিশ্বের সব দেশের জন্যই চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক ছিল সবচেয়ে খারাপ। এই প্রান্তিকেও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দেখাতে পেরেছে বাংলাদেশ। অন্য অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মন্দার যে ঝড় এসেছিল, তা কেটে গেছে। ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বছরের বাকি সময় স্থিতিশীল থাকবে। জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে আছে। করোনার মধ্যেও মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৫৫ ডলার। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ অনেক কম, সার্বিক সরকারি ঋণ কম এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের কারণে স্বস্তিদায়ক ঋণসেবা সক্ষমতা রয়েছে।

বিভিন্ন সূচকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার আরো অনেক কিছু করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সরকার সহজেই মোকাবেলা করতে পারবে। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করা খুবই সম্ভব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা