kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

করোনা পরীক্ষায় দুর্ভোগ

পরীক্ষাগারের সংখ্যা ও জনবল বাড়াতে হবে

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




করোনা পরীক্ষায় দুর্ভোগ

বাংলাদেশে রীতিমতো লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার। আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার হতে সময় লেগেছিল ১১ দিন, আর ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার হতে সময় লেগেছে মাত্র পাঁচ দিন। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ অব মেডিসিনের মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের (এমআরসি) বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংক্রমণের বর্তমান হার ও মৃত্যু অব্যাহত থাকলে চলতি মাসের শেষ নাগাদ সম্ভাব্য দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা বর্তমান সংখ্যার চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতি রোধে যে ধরনের প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন ছিল তা আমাদের নেই।

বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশে করোনা রোগীর মোট যে সংখ্যা আমরা পাচ্ছি, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। কারণ হিসেবে তাঁরা দেখান পরীক্ষার অপ্রতুলতা। অনেকেই রোগ-লক্ষণ নিয়ে মারা যান এবং পরবর্তীকালে পরীক্ষায় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণও পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ৫২টি পরীক্ষাগারে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকায় রয়েছে ২৮টি ও বাকিগুলো ঢাকার বাইরে। জানা যায়, এর মধ্যে জনবল সংকট ও অন্যান্য কারণে কয়েকটি পরীক্ষাগারের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ১৪ হাজারের মতো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ হাজার হওয়া উচিত ছিল। তাঁরা দ্রুত পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পরীক্ষা করাতে গিয়ে পদে পদে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। রোগীরা জানান, পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দেওয়া, রসিদ সংগ্রহ এবং নমুনা দেওয়াসহ প্রতিটি জায়গায় দীর্ঘ লাইন ধরতে হচ্ছে। সকাল ৬টায় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে নমুনা দিতে পারেন না। এরপর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে দীর্ঘসূত্রতা তো আছেই। এতে পজিটিভ রোগীর চিকিৎসা পেতে যেমন বিলম্ব হচ্ছে তেমনি তারা প্রতিনিয়ত ভাইরাস ছড়িয়ে যাচ্ছে। এমআরসি বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বলেছে, করোনা মোকাবেলায় নতুন করে কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী ৩০ জুন নাগাদ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন এমন রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৪৮ হতে পারে। এ ছাড়া আগামী চার সপ্তাহে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) শয্যার চাহিদা বর্তমানের চেয়ে সাত গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

আমরা আশা করি, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখাবে। হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর জন্য শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আইসিইউ শয্যার সংখ্যা বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ এবং ভেন্টিলেশন সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাসহ করোনা চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা