kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সিন্ডিকেট আবার সক্রিয়

বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনই উদ্যোগ নিন

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিন্ডিকেট আবার সক্রিয়

বাংলাদেশের বাজার-ব্যবস্থাপনার বাস্তবতা হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের অধিকার সুরক্ষিত নয়। সরকারি নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় পণ্যের দাম বাড়ায়। পণ্যটি অত্যাবশ্যকীয় হলে ক্রেতা না কিনেও পারে না। উৎপাদক বা বিক্রেতারা এই দুর্বলতা কাজে লাগায়। কারসাজির বিরুদ্ধে সরকারের শাস্তির হুমকি কিংবা ক্রেতাদের দুর্গতি আমলে নেয় না তারা। পেঁয়াজসহ কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে যে উদাহরণ তৈরি হয়েছে, তাতে ভোক্তাকে সব সময় আতঙ্কের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া গোপন প্রতিবেদনে যে তথ্য দিচ্ছে, তা ভয়াবহ। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী, আড়তদার ও মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে নিত্যপণ্যের বাজার। পর্যাপ্ত উৎপাদন, আমদানি, মজুদ থাকার পরও এরই মধ্যে চাল, ভোজ্য তেলসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। আসছে রমজান মাস ঘিরে ছোলা, মটর ডালসহ আরো কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছেন বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা। চীনের করোনাভাইরাসে ‘আমদানি বন্ধের’ গুজব ও অজুহাত তুলে মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ানোরও অপচেষ্টা আছে। প্রতিবেদনে রমজান মাসে ব্যবসায়ীরা যাতে নিত্যপণ্যের দাম লাগামছাড়া না বাড়াতে পারেন, সে জন্য অসৎ ব্যবসায়ীদের নজরদারিতে আনা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া এবং টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকিতে পণ্য বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, দেশে কিছু কিছু পণ্যের মজুদ চাহিদার চেয়ে বেশি। এর পরও বাজারে চাল-ডাল, পেঁয়াজ-রসুন, ভোজ্য তেল-চিনিসহ প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়তি। আর এর প্রধান কারণ অসৎ মিল মালিক, আড়তদার ও আমদানিকারকরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় আমদানিকারক ও এজেন্টরা তেলের দাম বাড়ান। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তাঁরা কমান না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানির বিকল্প বাজার সৃষ্টি না করলে রমজানে দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আসন্ন রমজানে যেন কোনো ভোগ্যপণ্যের দাম না বাড়ে, সে জন্য সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। এ জন্য ব্যবসায়ীদের নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। এ বছর কোনো সমস্যা হবে না—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বাজারে পণ্যের দাম কেন বাড়ে? সাধারণত চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেলে বাজারে যেকোনো জিনিসের দাম বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে নানা অজুহাতে। অন্যান্য দেশে পারস্পরিক যোগসাজশে কোনো পণ্যের দাম বাড়ালে শাস্তি পেতে হয়। বাংলাদেশে কি তেমন উদাহরণ আছে। আমরা আশা করব, পুলিশের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা