kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

জ্বালানি তেলে সুখবর

সময়ক্ষেপণ নয়, সঠিক সিদ্ধান্ত কাম্য   

৪ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বাংলাদেশকে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জ্বালানি তেল আমদানি করতে গিয়ে বড় অঙ্কের দেনায় ডুবে আছে। প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন করে অর্থায়ন করার ব্যাপারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংগুলোরও অনীহা। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাসের প্রভাব দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে পড়েনি। এর জন্য বিপিসিকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি যখন লোকসান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে তখনই উজ্জীবিত হওয়ার মতো খবর আসছে জ্বালানি তেল খাত থেকে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও জ্বালানি তেল রপ্তানি করতে পারে বাংলাদেশ। দেশেই গড়ে উঠতে পারে নতুন নতুন পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান। জ্বালানি তেল রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যেমন সম্ভব, তেমনি এই খাতে বড় অঙ্কের বেসরকারি বিনিয়োগ সম্ভাবনাও রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর এক লাখ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রল ও এক লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন থেকে এক লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন অকটেনের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদার পুরোটাই দেশের নিজস্ব উৎপাদন থেকে মেটানো সম্ভব। বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্যাসকূপ থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কনডেনসেট উত্তোলিত হচ্ছে। প্রতিবছর এই কনডেনসেট উত্তোলন বাড়ছে। কনডেনসেট পরিশোধন করেই উৎপাদন করা হয় পেট্রল ও অকটেন। কিন্তু দেশের বাজারে এই পেট্রল ও অকটেনের চাহিদা তেমন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কনডেনসেট পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু এ থেকে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পেট্রোপণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। এ ছাড়া উৎপাদিত জ্বালানি তেল বিদেশে রপ্তানির সুযোগ আছে। যেসব দেশে তেলের খনি নেই, কিন্তু অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে এমন দেশে রপ্তানির সুযোগ থাকছে। বাংলাদেশে এই তেলের চাহিদা না থাকলেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। রপ্তানি করেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। পৃথিবীর অনেক দেশ একই সঙ্গে জ্বালানি তেল আমদানি ও রপ্তানি করে।

দেশে জ্বালানি তেল উৎপাদনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। কনডেনসেট থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন ও পেট্রোপণ্য তৈরির শিল্প গড়ে উঠলে তা দেশের অর্থনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করবে। কাজেই এ ব্যাপারে বাস্তবসম্মত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশের মধ্যে যে সম্ভাবনা আছে তা পুড়িয়ে না ফেলে উৎপাদনে যেতে হবে। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপণ না করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।