রাজধানীর চারিদিকে ঘিরে থাকা নদীর তীর দখলমুক্ত করতে চলমান অভিযানের ছত্রিশ কার্যদিবসে গতকাল মঙ্গলবার ৩৩টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সংখ্যাগত দিক থেকে এদিন কম স্থাপনা ভাঙা পড়লেও নিলামে বিক্রি হয়েছে পৌনে এক কোটি টাকার মালামাল। বালু নদী সংলগ্ন পাতিরা এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়্যার হাউজ উচ্ছেদ করা হয়েছে অভিযানে। তৃতীয় পর্বের এ উচ্ছেদ অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানকালে গতকাল ভাঙা হয়েছে সর্বমোট ৩৩টি স্থাপনা। যার মধ্যে রয়েছে একটি বৃহদাকার ওয়্যারহাউজ। ভাঙা পড়েছে দুটি একতলা ও পাঁচটি আধাপাকা ভবন। এ সময় ৪ হাজার ফুট দীর্ঘ ১৫টি বাউন্ডারি ওয়াল উচ্ছেদ করা হয়। বালু, পাথর ব্যবসায়ে ব্যবহৃত ১০টি টিনের ঘর ভাঙা পড়ে অভিযানে। অবমুক্ত করা হয়েছে তিন একর তীরভূমি। অভিযানকালে মোট ৮০ লাখ ৪০ হাজার টাকার মালামাল নিলাম হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) সরকার ও আদালতের নির্দেশে নদী তীর দখলমুক্তের আলোচিত অভিযান শুরু করে। উচ্ছেদ অভিযানে বাধাদান ও হামলার ঘটনা ঘটেছে কয়েক দফা। এর সাথে যোগ হয়েছিল প্রাকৃতিক বৈরিতা। ঝড়-বৃষ্টি, তীব্র দাবদাহ থামাতে পারেনি অভিযান। তৃতীয় পর্বের চতুর্থ পর্যায় মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত ৩৬ দিবস উচ্ছেদ অভিযান চলেছে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ হয়ে অভিযান পৌঁছেছে বালু নদীতে। উচ্ছেদ হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্থাপনা। আইনি বাধাসহ নানা কারণে অভিযানকালে শতাধিক স্থাপনা রয়ে গেছে উচ্ছেদের বাইরে। সেগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্তসহ পরবর্তী অভিযান কবে থেকে শুরু হবে তা জানা যাবে সহসাই। তবে রোজার মাসে অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। রাজধানীর খিলক্ষেত ইছাপুরা বাজার থেকে সকালে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। রূপগঞ্জ সংলগ্ন ফকিরখালী বাজার পর্যন্ত বালু নদীর উভয় তীরে দিনভর উচ্ছেদ অভিযান চলে। এস্কেভেটরসহ উচ্ছেদ সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে চলেন খাল সদৃশ বালু নদী ধরে। ক্ষীণ প্রবাহের মাঝে মিলেছে সীমানা পিলারসহ ইট পাথরের স্তুপ। দুই তীরে অনেক কারখানাসহ স্থাপনা। তার মধ্যে যেগুলো নদীর সীমানা দখল করে গড়ে উঠেছে সেগুলো ভেঙে এগিয়ে চলে অভিযান। পাতিরা মৌজায় নদীর সীমানায় পড়া বড় একটা কারখানার পুরোটাই ভাঙা পড়ে বিনা বাধায়। এছাড়া অন্যসব অবৈধ স্থাপনাগুলো আগে থেকেই লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত ছিল। এসব স্থাপনা উচ্ছেদে সমস্যা হয়নি তেমন। গতকাল অনেক স্থানেই দেখা গেছে বালুর গদি ও পাথরের ব্যবসা। দুটি স্থানে অবৈধ বালু ও পাথরের মজুত নিলামে তোলা হয়। যা রাজস্বসহ বিক্রি হয়েছে ৮০ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। অভিযানে ভাঙা পড়ে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় চার হাজার রানিং ফুট ওয়াল। বিআইডাব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, 'সফলভাবে ছত্রিশ কার্যদিবস অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নদী তীরের বেশিরভাগ অংশ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। সেগুলো রক্ষার পাশাপাশি পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুতই শুরু করা হবে। নদী তীর ঘিরে বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। যা বাস্তবায়ন সকলের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।’