kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জলবায়ু পরিবর্তন

ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলো আরো ক্ষতির মুখে

ক্রিশ্চিয়ান এইডের গবেষণা প্রতিবেদন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলো আরো ক্ষতির মুখে

পৃথিবীবাসী স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে গেলে এবং বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেলে দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। ঝুঁকিপূর্ণ ৬৫ দেশের জিডিপি ২১০০ সাল নাগাদ গড়ে ৬৪ শতাংশ কমে যাবে এবং ২০৫০ সাল নাগাদ তাদের জিডিপি কমে যাবে গড়ে ২০ শতাংশ।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুসারে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ যদি প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়, এর পরও ওই ৬৫ দেশের জিডিপি ২০৫০ সাল নাগাদ গড়ে ১৩ শতাংশ কমে যাবে। চলতি শতকের শেষ নাগাদ তা কমে দাঁড়াবে ৩৩ শতাংশে।

যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের ৪১টি চার্চের ত্রাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম বিষয়ক সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইড পরিচালিত গবেষণায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে অর্থনৈতিক গতি-প্রকৃতির চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে দিন দিন আরো ভয়ংকর হয়ে উঠতে থাকা দাবদাহ, খরা, বন্যা ও ঝড়ের মুখে টিকে থাকার শক্তি নিশ্চিত করতে হলে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ দেশকে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া দরকার।

জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে গবেষণা প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক মারিনা আন্দ্রিজেভিক বলেন, ‘দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নের সক্ষমতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। সামনে আরো ক্ষতি ঠেকাতে আমাদের এই মুহূর্তের নীতিনির্ধারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের যে তালিকা ক্রিশ্চিয়ান এইড তৈরি করেছে, সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছে আফ্রিকা। তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখা গেলেও এই ১০টি দেশের জিডিপি ২১০০ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ হ্রাস পাবে। কিন্তু জলবায়ুনীতির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ওই ১০ দেশের জিডিপি একই সময়ের মধ্যে ৭০ শতাংশ কমে যাবে।

জিডিপি হ্রাসের বিচারে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বর্তমানে সুদান। গত সেপ্টেম্বরে ভারি বৃষ্টি আর আকস্মিক বন্যায় সুদানের তিন লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির এখনকার পরিস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিশ্চিয়ান এইডের প্রতিবেদনে বলা হয়, যদি কোনো জলবায়ু পরিবর্তন না-ও ঘটে, এর পরও সুদানের জিডিপি ২০৫০ সালের মধ্যে ৩২ শতাংশ এবং ২১০০ সালের মধ্যে ৮৪ শতাংশ কমে যাবে।

নাইরোবিভিত্তিক বিশ্লেষক সংস্থা পাওয়ার শিফট আফ্রিকার পরিচালক মোহামেদ আদাও জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির শিকার অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো সম্পর্কে বলেন, ‘প্রতিবেদন অনুসারে জলবায়ু পরিবর্তনে আফ্রিকার ভূমিকা সবচেয়ে কম, অথচ এখানেই ক্ষতির ভয়াবহতা সবচেয়ে তীব্র। এটা চরম অন্যায়।’ সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা