kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখায় গোলাগুলি সেনাসহ নিহত অন্তত ৯

ভারত বলেছে, পাকিস্তানের ভেতরে চারটি সন্ত্রাসী শিবির ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে ♦ অন্যদিকে পাকিস্তান বলেছে, তাদের সেনারা ভারতের দুটি বাংকার ধ্বংস করে দিয়েছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখায় গোলাগুলি সেনাসহ নিহত অন্তত ৯

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলার পর উৎসবে মেতে উঠেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ন্যাশনাল সেক্রেটারি তরুণ শাঘ, সঙ্গে ছিলেন দলের অন্য নেতাকর্মীরাও। ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসর থেকে তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) ভারত-পাকিস্তানের গোলাগুলিতে উভয় পক্ষের সেনা সদস্য ও সাধারণ নাগরিক মিলিয়ে কমপক্ষে ৯ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। উভয় দেশের সেনাবাহিনী অবশ্য বিরোধীপক্ষের নিহত হওয়ার সংখ্যা বেশি দাবি করেছে এবং যথারীতি অপর পক্ষ তা অস্বীকার করেছে।

ভারতের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়ার বরাত দিয়ে প্যারিসভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএফপি গতকাল রবিবার জানায়, পাকিস্তানের হামলায় ভারতের দুই সেনা ও একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে। পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ভারতের হামলায় ওই অঞ্চলে ছয়জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে।

এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো গতকাল জানায়, তাদের হামলায় এলওসিসংলগ্ন পাকিস্তান অংশে পাঁচ সেনা ও কমপক্ষে পাঁচ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তারা আরো জানায়, আগের দিন শনিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের হামলায় দুই ভারতীয় সেনা ও একজন সাধারণ ভারতীয় প্রাণ হারায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি, কোনো রকম উসকানি ছাড়াই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। পাকিস্তানের এ হামলার জবাবে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো দেশটির সেনবাহিনীর বিবৃতির সূত্রে জানায়, এলওসিতে উভয় পক্ষের তীব্র গোলাগুলিতে ভারতের কমপক্ষে ৯ সেনা ও বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। পাকিস্তানের এক সেনা ও পাঁচজন সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার তথ্যও জানায় তারা। ভারত অবশ্য তাদের ৯ সেনা নিহতের ব্যাপারে পাকিস্তানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

শুধু প্রাণহানি নয়, উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণও জানিয়েছে পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী। ভারত জানায়, পাকিস্তানে কমপক্ষে চারটি সন্ত্রাসী শিবির ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আর পাকিস্তান জানায়, তাদের সেনাবাহিনী ভারতের দুটি বাংকার ধ্বংস করে দিয়েছে।

এসব হামলা-পাল্টা হামলার পর বরাবরের মতোই উভয় পক্ষ নিজ নিজ হামলার পক্ষে সাফাই গেয়েছে। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে এবং সে কারণেই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনমুক্তির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত ভারত ও পাকিস্তান ওই সময় থেকেই কাশ্মীর ইস্যুতে তীব্র বিবাদে লিপ্ত। এরই মধ্যে দুবার এ দুই প্রতিবেশী ওই ইস্যুতে সামরিকভাবে মুখোমুখি হয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে আলোচিত। পরে ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে এবং এরপর ভারত কাশ্মীর ইস্যুকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ঘোষণা করে। কিন্তু ভারত গত ৫ আগস্ট তাদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে সেখানে কেন্দ্রের শাসন জারি করলে শুধু কাশ্মীর নয়, উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা পাকিস্তান। কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান ও সেই সঙ্গে চীনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনায় বসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, যদিও সংস্থাটি কোনো সমাধান টানা ছাড়াই বৈঠক শেষ করে এবং কাশ্মীরকে ভারত-পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় অ্যাখ্যা দেয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গন দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান টানার কথা বললেও এ ব্যাপারে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বিন্দুমাত্র অগ্রগতি হয়নি। উল্টো এলওসি বরাবর বিভিন্ন সেক্টরে দুই পক্ষে হামলার তীব্রতা বেড়েছে। এর অংশ হিসেবে এ সপ্তাহে আবার পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সূত্র : এএফপি, ডন, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা