kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

শীর্ষস্থানীয় আলেম ও সুধীজনের প্রতিক্রিয়া

   

১৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



মাওলানা মাহমুদুল হাসান

আমির, মজলিসে দাওয়াতুল হক ও প্রিন্সিপাল, যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসা, ঢাকা

হজরত দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। আল্লাহ তাঁকে নিয়ে গেছেন। আল্লাহ যে কাজ করেন, মঙ্গলের জন্য করেন। আমাদের ব্যথা আছে, দুঃখ-বেদনা আছে, এতে আমাদের গুনাহ মাফ করবেন। আমাদের উচিত হজরতের যেসব বৈশিষ্ট্য ছিল তা অনুসরণ করা। তিনি আমারও মুরব্বি ছিলেন। তাঁর ভেতরে যে জিনিসটি লক্ষ করা যায় তা হলো, তিনি সারা জীবন শিক্ষাদীক্ষায় ছিলেন আত্মনিয়োজিত।

তাঁর মধ্যে ফুটে উঠত শায়খুল হাদিস হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)-এর দীপ্ত অবস্থান। অন্যদিকে তিনি হজরত থানভী (রহ.)-এর আজল্লে খলিফা হারদুয়ী হজরত (রহ.)-এর অন্যতম খলিফা। যে কারণে তাঁর ভেতরে হজরত মাদানি ও থানভীর সমন্বয়সাধন হয়েছিল। এ দেশের উলামায়ে কেরাম জানেন যে মাদানি ও থানভীর সমন্বয়ে তিনি সারা দেশে কাজ করেছেন। হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ প্রতিষ্ঠা এবং যেখানে যে কাজ দরকার, তিনি তা করে গেছেন। আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব তাঁকে স্মরণ রাখা। শুধু আজকে নয়, শেষ পর্যন্ত তাঁর কর্মকাণ্ড সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়া। তিনি দাওয়াতুল হকের মুরব্বি ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে আমি অত্যন্ত ব্যথিত। বহুদিন তাঁর সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের আ'লা-মাকাম দান করুন।

 

মুফতি ওয়াক্কাস

নির্বাহী সভাপতি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

হজরত আমাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন। তিনি আজীবন ইলমের খিদমত করে গেছেন। যখন ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু হয়েছে, তার প্রতিবাদে সব জায়গায় আংশগ্রহণ করেছেন। আমি হজরতের রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

 

মাওলানা মোস্তফা আজাদ

মোহতামিম, আরজাবাদ মাদ্রাসা, মিরপুর, ঢাকা

আজ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে ঘোষণা করতে হচ্ছে, আমাদের সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুরব্বি আজ থেকে রহমাতুল্লাহি আলাইহি হয়ে গেলেন। তাঁর নামের শেষে আর দামাত বারাকাতুহুম আর বলতে পারছি না। তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি আমাদের অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীব্যপী তাঁর ইলমি কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত। মসজিদ, মাদ্রাসাসহ ইসলামী সব ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আমরা দেখতে পাই। তিনি বিভিন্ন মাদ্রাসার মজলিশে শুরা, মজলিশে আমেলার উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে কাজ করে গেছেন। শুধু তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা নয়, বাংলাদেশের অগণিত মাদ্রাসায় তালিম-তরবিয়তের পাশাপাশি আর্থিক উন্নয়নের জন্যও মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন। মুফতি সাহেব আমাদের কাছ থেকে চলে যাচ্ছেন। মহান আল্লাহর দরবারে আমরা সকলে আবেদন করব, তাঁকে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন সবাইকে সবরে জামিল ও ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন। তাঁর রেখে যাওয়া নীতি-আদর্শ-পদাঙ্ক আমরা সঠিকভাবে অনুসরণ করব। দেশ-জাতি-জনগণের খিদমতে আমরা নিয়োজিত থাকব, যেমনটি তিনি সারা জীবন কাজ করে গেছেন।

 

মুফতি রুহুল আমিন

প্রিন্সিপাল, গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসা ও আমির, খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশ

মুফতি সাহেবের বিয়োগে যে অভাবের সৃষ্টি হলো, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমরা যারা দীর্ঘদিন একত্রে কাজ করেছি, তারা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারছি। হজরতের যে মাকাম ছিল, তা অদ্বিতীয়। জীবনে তাঁর সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। ওই সব কাজ তিনি বেশ সুন্দরভাবে পরিচালনা করেছেন। তাঁর জীবনযাপনও ছিল খুব মামুলি। আমি তাঁর মতো কর্মোদ্যমী মানুষ এই বয়সে দেখিনি। আল্লাহ তাঁকে প্রভূত যোগ্যতা দিয়েছিলেন। তিনি সুন্নাতের অনুসারী ছিলেন। কোনো সুন্নাতবিরোধী কাজ সহ্য করতেন না। আমাদের উচিত তাঁর পথে চলা। তাঁর মৃত্যুতে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হলো। আল্লাহ তাঁর পরিবারের সবাইকে সবরে জামিল আতা ফরমান।

 

মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী

মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

হজরত এ দেশের আলেম-ওলামার অভিভাবক ছিলেন। হাজার হাজার মাদ্রাসা তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে হজরতের আদর্শ সমুন্নত রাখার তৌফিক দান করুন। সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন।

 

মাওলানা আবুদল লতিফ নেজামী

চেয়ারম্যান, ইসলামি ঐক্যজোট বাংলাদেশ

হজরতের ইন্তেকালে তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁর বিয়োগে ইসলামী জগৎ থেকে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র খসে পড়ল। ইসলামী সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, সেই সেবা, সার্ভিস ও খিদমত থেকে ইসলামী জগৎ আজ বঞ্চিত হলো। তাঁর ইন্তেকালে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আমাদের মাঝে তাঁর অভাব দীর্ঘদিন অনুভূত হবে। কাজেই আমি তাঁর গুণমুগ্ধ সবার কাছে অনুরোধ করছি, তাঁর প্রতি যদি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চাই, তাহলে তাঁর আদর্শ চর্চা করেই তাঁর অনুসরণ করতে হবে।

 

মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ

পরিচালক, মাদ্রাসা শায়েখ জাকারিয়া, ঢাকা

তিনি বাংলার আলেম সম্প্রদায়ের অভিভাবক ছিলেন। আজ আমরা তাঁকে হারিয়ে এতিম হয়ে গেলাম। আমি ২৩ বছর হজরতের সঙ্গে ছিলাম। আচার-আচরণে বহু কষ্ট দিয়েছি, মাফও চেয়েছি। আত্মার মিল ছিল, তাই অন্তরে কোনো সমস্যা হয়নি। আমি জায়গা বদল করেছি। তার পরও আত্মার সঙ্গে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি। আমি হজরতের মাগফিরাত কামনা করছি।

 

মাওলানা সাজিদুর রহমান

প্রিন্সিপাল, দারুল আরকাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

তাঁর চলে যাওয়ায় শুধু বাংলাদেশের ক্ষতি হয়নি, আলমে ইসলামের ক্ষতি হয়েছে। তিনি তো শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবী নিয়ে চিন্তা করতেন। আমরা তাঁর গুণাবলি বলে শেষ করতে পারব না। আমি উপস্থিত জনতার কাছে একটা অনুরোধ রাখতে চাই-এখানে উপস্থিত ছাত্রদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে, আমরা হজরতের মতো বড় আলেম হওয়ার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

 

মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী

শিক্ষক, লালবাগ মাদ্রাসা, ঢাকা

আজকে আমরা জাতির একজন মুরব্বিকে হারালাম। এভাবেই আমাদের মুরব্বিরা চলে যাচ্ছেন। তাঁদের এই চলে যাওয়া খুবই কষ্টকর। তাঁরা আমাদের আদর্শ। সারা জীবন মহানবী (সা.) এর আদর্শে জীবন পার করেছেন। তাই আমাদেরকে তাঁদের থেকে রুহানি দোয়া ও ফায়েজ নিতে হবে। তাঁরা যে রাস্তা রেখে গেছেন, সেই রাস্তার সুফল ভোগ করার জন্য যা যা করা দরকার, আমাদের তা করতে হবে।

 

ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম শামিম

উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, বসুন্ধরা গ্রুপ

আমাকে হুজুর অনেক স্নেহ করতেন। তিনি জীবনে দুনিয়ার কোনো লোভ করেননি। তিনি নসিহতে আমাদের বলতেন, 'আল্লাহ আমাদের চালাবেন। তাঁর ওপর ভরসা রাখুন।' জীবনের অন্তিম মুহূর্তে, যখন তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়েছিলাম, তিনি খুব মুমূর্ষু, নড়তেচড়তে পারেন না। এ বিষয়ে বলা হলে তিনি বললেন, 'আমাকে একটু মক্কা-মদিনা ঘুরিয়ে নিয়ে আসো। তাতে আমার শক্তি হবে।'

 

আনিসুল হক

মেয়র, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

আমি অনেক আগে থেকেই হুজুরকে চিনি। বারবার হুজুরের কাছে এসেছি। আন্তরিকভাবে পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা শেষ হওয়ার নয়। এমন মনের মানুষের বিয়োগব্যথায় আমরা ব্যথিত। আল্লাহ তাঁকে বেহেশেতের উচ্চ মাকাম নসিব করুন।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা ইস্রাফিল হুসাইন

 



সাতদিনের সেরা