• ই-পেপার

সংসদ সদস্যপদ হারাতে পারেন লতিফ সিদ্দিকী

বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায় : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায় : রিজভী
ফাইল ছবি

বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদী মানসিকতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বিরোধীদলের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তারা নতুন ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তুলছে, অথচ তাদের নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়।

তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে বর্তমান সরকারের আমলে দেশবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিএনপির এই নেতা।

রিজভী বলেন, এ সফরে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী যুগোপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আর পরনির্ভরশীল অবস্থায় রাখা হবে না। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে আত্মনির্ভর ও সক্ষম রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে গুম নেই, ক্রসফায়ার নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলারও অবসান ঘটেছে। আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান রিজভী।

সাংবাদিক পেটানো স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ : শেখ ফজলুল করীম

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিক পেটানো স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ : শেখ ফজলুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেছেন, সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। জনগণের চোখ হয়ে তারা সমাজের নানা ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরেন। সেই সাংবাদিকদের পেটানো একটি সর্বজন স্বীকৃত স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ। 

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ঢাকা দক্ষিণের কর্মসূচিতে আজ যা ঘটেছে তা জামায়াতের ভেতর বিকশিত হতে থাকা স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাংবাদিকদের পেটানোর এই ঘৃণ্য অপরাধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক বলেন, হামলার শিকার মাহফুজুর রহমান শিশির দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আহত হয়েছেন দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেনও। এ ছাড়া অন্তত ১০ জন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা মাহফুজুর রহমান শিশির, মারুফ হোসেনসহ সব আহত সাংবাদিকদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আপনাদের সঙ্গে আমাদের সংহতি প্রকাশ করছি।

শেখ ফজলুল করীম মারুফ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, যারাই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে; এ ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত মেনে নেওয়া হবে না। হামলায় যাদের সম্পৃক্ততা দেখা গেছে তারা জামায়াতের নেতাকর্মী বলেই অনুমান করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয় তা দেখার অপেক্ষা করছি।

জামায়াতের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলের কর্মীদের মানসিকতা গঠনে আরো মনোযোগী হোন। সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ ভাবার ও প্রতিপক্ষকে দেখে নেওয়ার যে ভয়াবহ মানসিকতা বিস্তার আপনাদের কর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে তা উদ্বেগের বিষয়।

দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে খামারবাড়িতে এ্যাবের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে খামারবাড়িতে এ্যাবের বিক্ষোভ
ছবি : কালের কণ্ঠ

কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা রুখতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও গণজমায়েত করেছে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার ও সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের নেতৃত্বে খামারবাড়ি সড়ক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) চত্বর ও এর চারপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক গণজমায়েতে মিলিত হয়।

গণজমায়েতে বক্তারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সমাবেশে এ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ যখন গণতন্ত্রের পথে হাঁটা শুরু করেছে এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ পুনর্গঠনে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে।’ জাতীয়তাবাদী কৃষিবিদদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থেকেই এসব অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সংগঠনের সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী সব কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করতে দেশের কৃষিবিদ সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ। এ্যাব সব কৃষিবিদকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাবে।

গণজমায়েতে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এ্যাবের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাৎ হোসেন চঞ্চল, সদস্য অধ্যাপক জামশেদ আলম রিপন, কৃষিবিদ নুরুন্নবী শ্যামল ও কৃষিবিদ মাহবুবুর রশিদ প্রমুখ।

বিচার নিশ্চিত না করলে সরকার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না : নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিচার নিশ্চিত না করলে সরকার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না : নাহিদ ইসলাম
ছবি: কালের কণ্ঠ

জুলাই হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর, পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ সব গুম-খুন ও শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার অবিলম্বে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বিচার নিশ্চিত করা না হলে এই সরকার কোনোভাবেই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর গত চার মাসে আইসিটিতে নতুন কোনো রায় আমরা এখন পর্যন্ত দেখিনি। কোনো নতুন তদন্তের রিপোর্ট এখন পর্যন্ত দাখিল হয়নি। এটা স্পষ্ট যে, যেই চিফ প্রসিকিউটরকে বসানো হয়েছে তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।’

তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন ‘যোগ্য ও দায়িত্ববান’ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান, যিনি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবেন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।

সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিদায় নিয়েছে। আর সংস্কার বাস্তবায়ন না করার ফলে বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের এখন সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’

আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্ট ও গণহত্যাকারী’ সংগঠন আখ্যা দিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী সংগঠন, যার আশ্রয় হয়েছে দিল্লিতে। কারণ আওয়ামী লীগের শিকড় রয়েছে দিল্লিতে। আওয়ামী লীগ একটি ভারতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে—প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভারতীয় পার্টিই ছিল।’ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ গত ৫ আগস্ট সমাপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার স্বপ্ন দেখছে, তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতোই হবে।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আইনমন্ত্রী বিচার নিশ্চিত করতে না পারায় ব্যর্থ হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা দিতে এবং তথ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সুশীল সমাজকে মিডিয়ায় জায়গা করে দেওয়ার মাধ্যমে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। জনগণ এসব লক্ষ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

১১ দলীয় ঐক্যের এই সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ অন্য নেতারা।

সংসদ সদস্যপদ হারাতে পারেন লতিফ সিদ্দিকী | কালের কণ্ঠ